প্রাপ্ত সব বরাদ্দের হিসাব জনসম্মুখে প্রকাশ করলেন জাতীয় সংসদের হুইপ জিকে গউছ এমপি। তিনি বলেছেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ পরিবর্তন চেয়েছে। অতীতে যারা দুর্নীতি করেছে, স্বজনপ্রীতি করেছে, লুটপাট করেছে, জনগণের টাকা লুটপাট করে বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়েছে তাদের আর দেখতে চায়না। সেজন্যই মানুষ এবার পরিবর্তনে নতুন কিছু দেখতে চায়। আর মানুষের সে স্বপ্ন পূরণ হবে স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে। এ জন্যই আমরা জনগণের টাকা কিভাবে ব্যয় হয় তা জনসম্মুখে প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছি। এ দেশের প্রতিটি নাগরিকের তা জানার অধিকার রয়েছে।
বুধবার রাতে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে হবিগঞ্জ সদর, লাখাই ও শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় বিভিন্ন ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
বরাদ্দ প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে যথাযথ খাতে স্বচ্ছতার সঙ্গে ব্যয় করার নির্দেশ দেন হুইপ।
এছাড়া বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত দুঃস্থ মানুষকে অর্থ ও চাল এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্য প্রযুক্তিসেবা প্রকল্পের আওতায় মৎস্য, ছাগল বিতরণ করেন।
এ সময় ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্য প্রযুক্তিসেবা প্রকল্পের আওতায় ২৫ জন মৎস্য চাষিকে মাছের পোনা বিতরণ করা হয়। এছাড়া ৪ হাজার ৯২৫ জনকে গাছের চারা ও নগদ ১ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। অসহায় পরিবারগুলোর মধ্যে স্বাবলম্বী করার জন্য মাছ, ছাগল ও গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়।
উল্লেখ্য, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েই একের পর এক চমক দেখাতে শুরু করেছেন হবিগঞ্জ-৩ (সদর-লাখাই-শায়েস্তাগঞ্জ) আসনের এমপি জাতীয় সংসদের হুইপ জিকে গউছ। শুরু থেকেই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।
মাত্র ৪ মাস পূর্ণ হয়েছে সরকারের। এ সময় বরাদ্দের সবটুকু জনসম্মুখে প্রকাশ করে হাটে হাঁড়ি ভেঙে দিয়েছেন; যা বরাদ্দ পেয়েছেন তার সব কিছুই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার করে দিয়েছেন; যা অতীতে কখনও দেখা যায়নি। তার এ ব্যতিক্রমী উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে বেশ প্রশংসিত হচ্ছে।
শুধু তাই নয়, এবার তিনি বরাদ্দ প্রাপ্ত ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধিদের ডেকে সাংবাদিকদের সামনে টাকা তাদের হাতে পৌঁছেছে কি-না তা নিশ্চিত হয়েছেন।
এমন দৃশ্যও আগে কখনো দেখেনি হবিগঞ্জবাসী। সংসদ সদস্যরা কখন কত টাকা বরাদ্দ পেতেন, কিভাবে তা ব্যয় করতেন তার কিছুই আগে মানুষের জানার সুযোগ ছিল না।
গত ৪ মাসে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে প্রায় সাড়ে ৬শ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানান হুইপ জিকে গউছ। এর মধ্যে বড় প্রকল্প হিসেবে হবিগঞ্জ-লাখাই সড়ক চারলেনকরণ প্রকল্প। আগামী ২ মাসের মধ্যে এ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।