রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত পুরোনো ওয়াক্ফকৃত পাকা মসজিদটি বর্তমানে গুদামঘর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আর এই সুযোগে মসজিদটির চারপাশ রাতের বেলায় নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিদের নিরাপদ আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। বিষয়টি নিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, উপজেলা মডেল মসজিদ নির্মাণের পর পুরোনো মসজিদটিতে নিয়মিত নামাজ আদায় বন্ধ হয়ে যায়। পরবর্তীতে ধীরে ধীরে ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকলেও মসজিদের মূল অবকাঠামো, মিহরাব, কেবলামুখী নকশা এবং অন্যান্য স্থাপনা এখনও অক্ষত রয়েছে। ওয়াক্ফকৃত এই মসজিদ ভবনটি বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি মালামাল সংরক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মিঠাপুকুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের বইপত্র এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক অধিদপ্তরের বিভিন্ন মালামাল মসজিদের ভেতরে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে। ফলে ভবনটি কার্যত একটি গুদামঘরে পরিণত হয়েছে। মসজিদের বাইরে নেশাজাতীয় দ্রব্যের উচ্ছিষ্ট অংশ পড়ে আছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সবুজ আহমেদ এশিয়া পোস্টকে বলেন, মসজিদটি দীর্ঘদিন ধরে অব্যবহৃত থাকায় রাতে এর চারপাশে নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিদের আনাগোনা বেড়েছে। উপজেলা পরিষদ চত্বরে এমন নেশার আড্ডা দুঃখজনক।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, একসময় যে মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ, জুমার নামাজ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালিত হতো, সেই মসজিদকে সাধারণ গুদামঘর হিসেবে ব্যবহার করা কোনোভাবেই এর মর্যাদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তারা ধর্মীয় মর্যাদা রক্ষায় মসজিদটি এভাবে ব্যবহার না করে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয় আলেম মাওলানা বেলাল আহমেদ এশিয়া পোস্টকে বলেন, ওয়াক্ফকৃত কোনো মসজিদের ব্যবহার পরিবর্তনের বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। এ ধরনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের আগে ওয়াক্ফ প্রশাসন, ইসলামিক বিশেষজ্ঞ, স্থানীয় আলেম ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতামত নেওয়া প্রয়োজন।
মিঠাপুকুর প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নিখিল চন্দ্র রায় এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘মসজিদটি ব্যবহার হচ্ছে না বিধায় আমরা সেখানে বই রেখেছি। বিষয়টি ইউএনও মহোদয়ের অনুমতিক্রমই হয়েছে।’
এ বিষয়ে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. পারভেজ এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘যেহেতু পাশেই মডেল মসজিদ নির্মিত হয়েছে তাই এই মসজিদটি আর প্রয়োজন নেই। তাই বই রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আমরা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি, অনুমতি পেলে আমরা মসজিদটি ভেঙে ফেলব। আর এখানে যেন নেশাগ্রস্তরা আসতে না পারে সে বিষয়টি জোরালোভাবে দেখব।’