কিরণ শর্মা
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির দক্ষিণাঞ্চলের একটি জরাজীর্ণ বস্তিতে তীব্র গরমের মধ্যে দুই নারী বাড়ি বাড়ি ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করছিলেন। বিকেলের তাপমাত্রা তখন প্রায় ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। খোলা নর্দমার পাশ দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে তারা ঘাম মুছছিলেন এবং রোদ ও দুর্গন্ধ থেকে বাঁচতে পাতলা ওড়না ব্যবহার করছিলেন।
একটি টিন, কাঠ ও কার্ডবোর্ড দিয়ে তৈরি ছোট ঘরের দরজায় বারবার কড়া নাড়ার পর তারা ভেতর থেকে সাড়া পাননি। ভেতর থেকে পুরোনো একটি বলিউড গানের সুর ভেসে আসছিল। কিছুক্ষণ পর ত্রিশোর্ধ্ব এক নারী কোলে একটি শিশুকে নিয়ে দরজা খুলে দেন।
পরে তিনি নিজের পরিবার ও বসবাসের পরিবেশ সম্পর্কে ৩৪টি প্রশ্নের উত্তর দেন। তিনি জানান, স্বামী ও তিন সন্তানকে নিয়ে যে মাটির ঘরে থাকেন, সেখানে কোনো টয়লেট বা গোসলখানা নেই। এটি একটি ভাড়া ঘর। তথ্য সংগ্রহকারী কর্মী তার স্মার্টফোনে ডিজিটাল ফরমে এসব তথ্য লিপিবদ্ধ করেন।
এভাবেই আগামী ছয় মাস ধরে ভারতের প্রায় ৩১ লাখ সরকারি কর্মী দেশজুড়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। এই কর্মীদের বেশিরভাগই পূর্ণকালীন স্কুলশিক্ষক। কাশ্মীরের হিমালয় উপত্যকা থেকে শুরু করে সুমাত্রার কাছাকাছি নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ৩৫ কোটি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করবেন তারা।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় জনশুমারি কার্যক্রম হিসেবে বিবেচিত এই উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতের জনসংখ্যার হালনাগাদ হিসাব করা হবে।
ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, প্রতি ১০ বছর অন্তর জনশুমারি পরিচালনা করার কথা। তবে ২০২০ সালে নতুন জনশুমারি শুরু করার পরিকল্পনা ছিল, যা করোনা মহামারির কারণে বিলম্বিত হয়। এখন দীর্ঘ বিরতির পর দেশটি আবার এই বিশাল প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে।
১৪৫ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ছয় বছর বিলম্বের পর ভারতের জনশুমারি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এবার জনশুমারিতে কাগজবিহীন বা ডিজিটাল পদ্ধতি চালু করা হয়েছে। তথ্য সংগ্রহকারীদের (এনুমারেটর) বিশেষ একটি মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নাগরিকদের জন্য অনলাইনে নিজে তথ্য দেওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে।
এবারের জনশুমারিতে প্রশ্নমালায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। স্মার্টফোনের মালিকানা, ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ এবং পরিবারের প্রধান খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কিত নতুন প্রশ্ন যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া ৯৫ বছর পর প্রথমবারের মতো নাগরিকদের জাতিগত (কাস্ট) পরিচয় সম্পর্কেও তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
এই জনশুমারির ফলাফলের ওপর অনেক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে। এর প্রাথমিক ফলাফল ২০২৭ সালে প্রকাশের কথা রয়েছে।
প্রায় ৫০ বছর ধরে ভারতের সংসদীয় আসনগুলোর সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয়নি। ফলে কিছু রাজ্য আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় তুলনামূলকভাবে বেশি বা কম প্রতিনিধিত্ব পাচ্ছে। নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাবে কিছু গোষ্ঠী মুসলিম জনগোষ্ঠী এবং অবৈধ অভিবাসীদের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে সন্দেহ ও বিতর্কও ছড়িয়েছে। নতুন জনশুমারির তথ্য এসব বিষয়ে স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গত মাসে দুইজন গণনাকারী যে অনানুষ্ঠানিক বসতি পরিদর্শন করেছিলেন, সেই হনুমান ক্যাম্পের অধিকাংশ বাসিন্দা ভারতের উত্তরাঞ্চলের দরিদ্র রাজ্য, বিশেষ করে উত্তর প্রদেশ থেকে কাজের সন্ধানে এখানে এসেছেন। তারা মূলত আবর্জনার স্তূপ থেকে ধাতু ও প্লাস্টিক সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করেন।
একজন গণনাকারী বলেন, ‘জায়গাটি নোংরা। পাশের ড্রেন থেকে আসা দুর্গন্ধ সহ্য করা যায় না। সরকারি অনুমতি না থাকায় তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা নিজেদের নাম প্রকাশ করতে চাননি।
নিজের কুঁড়েঘরের মেঝে পরিষ্কার করতে করতে এক বাসিন্দা বলেন, ‘আশা করি, এই তথ্য সংগ্রহের ফলে আমাদের জীবনযাত্রার অবস্থার উন্নতি হবে। আমাদের খুব বেশি কিছু দরকার নেই, শুধু মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ হলেই চলবে।’
ভারতের ৩৬টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রতিটিতে হনুমান ক্যাম্পের ওই জুটির মতো গণনাকারীরা নির্ধারিত এলাকার সব বাড়িতে এক মাস ধরে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন।
গণনাকারীদের আলাদা কোনো ডিভাইস সরবরাহ না করে সরকার তাদের নিজস্ব স্মার্টফোনে সরকারি আদমশুমারি অ্যাপ ডাউনলোড করার নির্দেশ দিয়েছে। এতে অনেকেই নতুন ফোন কিনতে বাধ্য হয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের কিছু এলাকায় স্মার্টফোন বিক্রি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। প্রথমে গণনাকারীদের (এনুমারেটরদের) অ্যাপ ব্যবহার ও সাক্ষাৎকার নেওয়ার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
তবে অনেক গণনাকারীর কাছেই অ্যাপগুলো ব্যবহার করা এখনো কিছুটা চ্যালেঞ্জের বিষয়, বিশেষ করে সাক্ষাৎকারদাতা কোনো উত্তর পরিবর্তন করলে তা সম্পাদনা করা। এ কারণে কেউ কেউ জরিপের প্রশ্নপত্রের ছাপানো কপিতে উত্তর লিখে রাখেন এবং পরে বাড়িতে ফিরে মোবাইল ফোনে সেই তথ্য সংযুক্ত করেন।
ভারতের অধিকাংশ অঞ্চলে আগামী ফেব্রুয়ারিতে গণনাকারীরা আবারও বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করবেন। তখন পরিবারের সদস্যদের লিঙ্গ, বয়স, সাক্ষরতার হার, জন্মস্থান ও বৈবাহিক অবস্থা সম্পর্কে তথ্য নেওয়া হবে। পাশাপাশি তাদের ধর্ম, জাতপাত, পেশা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রতিবন্ধিতা এবং কথ্য ভাষা সম্পর্কেও প্রশ্ন করা হবে। তবে তুষারাচ্ছন্ন উত্তরাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে এসব সাক্ষাৎকার আগামী সেপ্টেম্বর মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এসব তথ্যের কিছু অংশ সংগ্রহ করা বেশ কঠিন হতে পারে। বাস্তবে, আবাসন ও জীবনযাত্রার মান সম্পর্কিত প্রশ্নও অনেক ভারতীয়ের কাছে স্পর্শকাতর বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়।
হনুমান ক্যাম্প থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে দক্ষিণ দিল্লির একটি অভিজাত এলাকার পাঁচজন গণনাকারীর দলের তত্ত্বাবধায়ক জানান, ওই এলাকার অনেক বাসিন্দাই আদমশুমারির কর্মীদের জন্য দরজা খুলতে রাজি হননি। কেউ কেউ আবার তাদের এক ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করিয়ে রেখেছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং তথ্য সংগ্রহে সহযোগিতা নিশ্চিত করতে তাকে কয়েকটি ক্ষেত্রে পুলিশ সদস্যদের সহায়তা নিতে হয়েছে।
তত্ত্বাবধায়ক বলেন, ‘আমাদের একজন গণনাকারীকে একজন বাসিন্দা খুবই অপমানজনকভাবে বকাঝকা করেছিলেন, কারণ তিনি আদমশুমারির প্রশ্নের উত্তর দিতে চাননি। আমি অবাক হই যে নিজেদের অভিজাত বলে দাবি করা এসব মানুষ জানেন না যে আদমশুমারিতে অংশগ্রহণ করা বাধ্যতামূলক।’
তবে কিছু বাসিন্দা প্রশ্নের উত্তর দিতে রাজি হলেও এমন তথ্য দিয়েছেন, যা গণনাকারীদের কাছে সত্য বলে মনে হয়নি। উদাহরণ হিসেবে, বাড়িতে বেজমেন্টে নামার সিঁড়ি স্পষ্টভাবে দেখা গেলেও কেউ কেউ বেজমেন্ট থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, গণনাকারীদের কাজ ছিল উত্তরদাতারা যা বলেছেন তা-ই হুবহু লিপিবদ্ধ করা, নিজেরা কোনো অনুমান বা ব্যাখ্যা যোগ করার সুযোগ ছিল না। দুই মাসব্যাপী আদমশুমারির দায়িত্ব পালনের জন্য তারা ২৫ হাজার রুপি (প্রায় ২৬১ মার্কিন ডলার) এবং ২০ দিনের ছুটি পাওয়ার কথা রয়েছে।
তত্ত্বাবধায়ক বলেন, ‘তারা অত্যন্ত গোপনীয়তাপ্রবণ মানুষ। নিজেদের সম্পর্কে কোনো তথ্যই প্রকাশ করতে চান না, এমনকি তাদের বাড়ির সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকা বিলাসবহুল গাড়ির সংখ্যাও নয়। হয়তো তারা মনে করেন, এসব তথ্য দিলে কর সংক্রান্ত কোনো ঝামেলায় পড়তে পারেন। অথচ আদমশুমারিতে সংগৃহীত ব্যক্তিগত তথ্য আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করা হয় না।’
তবে নাগরিকদের সতর্ক হওয়ার আরও কিছু কারণ রয়েছে। সম্প্রতি কিছু প্রতারক নিজেদের আদমশুমারির কর্মী পরিচয় দিয়ে ভুয়া ওয়েবসাইটের লিংক পাঠিয়ে বা সরাসরি সাক্ষাৎ করে মানুষের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করেছে।
এ ছাড়া আদমশুমারিতে গণনাকারীদের ব্যক্তিগত মোবাইল ডিভাইস ব্যবহার এবং তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য অনলাইনে পাঠানোর ব্যবস্থাকে ঘিরেও সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উদ্বেগ শুধু তথ্যের গোপনীয়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং পুরো তথ্যব্যবস্থার নিরাপত্তার সঙ্গেও সম্পর্কিত।
নয়াদিল্লিভিত্তিক উন্নয়ন অর্থনীতিবিদ এবং ওমেন, হেলথ অ্যান্ড পাবলিক সার্ভিসেস ইন ইন্ডিয়া: হোয়াই আর স্টেট ডিফরেন্ট বইয়ের লেখক দীপা সিনহা বলেন, ‘এবার আমরা এতটাই বিস্তারিত তথ্য পাব যে এর মাধ্যমে বোঝা যাবে, বর্তমান নীতিগুলো এখন পর্যন্ত কতটা কার্যকর হয়েছে এবং সমাজে এখনো কী ধরনের বৈষম্য বিদ্যমান রয়েছে।’
অন্যদিকে ধর্মীয় পরিচয়, ভাষা ও অভিবাসনসংক্রান্ত তথ্যও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির হিন্দুত্ববাদী মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ থেকে মুসলমানদের ভারতে অভিবাসনের অভিযোগ তুলে আসছেন। আদমশুমারির তথ্য সেই বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এ প্রেক্ষাপটে গত মাসে ভারত সরকার চলমান জনসংখ্যাগত পরিবর্তন পর্যালোচনার জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। নতুন আদমশুমারির তথ্য ওই কমিটির কাজেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, ‘এই কমিটি অবৈধ অভিবাসন ও অন্যান্য অস্বাভাবিক কারণে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘটে চলা জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের একটি বিস্তৃত মূল্যায়ন করবে। পাশাপাশি ধর্মীয় ও সামাজিক সম্প্রদায়ভিত্তিক অস্বাভাবিক জনসংখ্যা পরিবর্তনের ধারা বিশ্লেষণ করে এ বিষয়ে পরিকল্পিত ও নির্দিষ্ট সময়সীমাভিত্তিক সমাধান প্রস্তাব করবে।’
অন্যদিকে আদমশুমারির ফলাফল ভারতের সংসদীয় নির্বাচনের জন্য নির্বাচনী আসনগুলোর সীমানা পুনর্নির্ধারণেও ব্যবহার করা হবে।
এ নিয়ে দক্ষিণ ভারতের কয়েকটি রাজ্যের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পরিবার পরিকল্পনায় তুলনামূলকভাবে ভালো সাফল্য অর্জন করা এসব রাজ্যের আশঙ্কা, দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য উত্তর ভারতের রাজ্যগুলোর দিকে সরে যেতে পারে। কারণ উত্তরাঞ্চলের অনেক রাজ্যে জনসংখ্যা দ্রুত বাড়লেও উন্নয়নের সূচক তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে রয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে কিছু বিশ্লেষক ও নীতিনির্ধারক মনে করছেন, সংসদীয় আসন বণ্টনের ক্ষেত্রে শুধু জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে নয়, বরং অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পরিবার পরিকল্পনায় সাফল্যসহ অন্যান্য বিষয়কেও বিবেচনায় নেওয়া উচিত। তাদের মতে, এ ধরনের একটি সমঝোতামূলক সূত্র রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হতে পারে।
নয়াদিল্লিভিত্তিক সমসাময়িক বিষয়ক সাময়িকী ওপেন -এর নির্বাহী সম্পাদক উল্লেখ এনপি বলেন, ‘জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ছিল একটি জাতীয় কর্মসূচি। কিন্তু যে রাজ্যগুলো এ ক্ষেত্রে ভালো করতে পারেনি তাদের সুবিধা দিয়ে যদি প্রতিনিধিত্ব বা সম্পদ বণ্টন করা হয়, তাহলে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সফল রাজ্যগুলো কার্যত শাস্তির মুখে পড়বে।’
তবে এ বিতর্কের চূড়ান্ত উত্তর পেতে অপেক্ষা করতে হবে আদমশুমারি সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যন্ত। সবার তথ্য সংগ্রহ নিশ্চিত করতে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ নানা প্রযুক্তির সহায়তা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। যেসব বিচ্ছিন্ন দ্বীপে সরাসরি গিয়ে গণনা করা সম্ভব নয় বা অনুমতি নেই, সেসব এলাকার জনসংখ্যা নির্ধারণে ড্রোন ও স্যাটেলাইট চিত্র ব্যবহার করা হবে।
এদিকে রাজধানী দিল্লির রাস্তায় কাজ করা গণনাকারীরা গ্রীষ্মের তীব্র গরমে পানিশূন্যতা এড়ানোর লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের মধ্যেও তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, যা পুরো আদমশুমারি কার্যক্রমকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
একজন গণনাকারী সম্প্রতি তার দায়িত্বে থাকা ১১৮টি বাড়ির মধ্যে ১১৩টির তথ্য সংগ্রহ সম্পন্ন করেছেন। বাকি পাঁচটি বাড়ির বাসিন্দাদের খুঁজে পেতে তিনি আবারও কয়েক দফা সেখানে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন, কারণ তাদের বারবার অনুপস্থিত পাওয়া যাচ্ছে।
তত্ত্বাবধায়ক বলেন, ‘আমরা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দায়িত্ব পালন করছি। তাই সব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও আমাদের কাজ চালিয়ে যেতে হবে।’
- কিরণ শর্মা: ভারতীয় সাংবাদিক ও লেখক
(নিক্কেই এশিয়া থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে সংক্ষেপিত অনুবাদ করেছেন কাজী নিশাত তাবাসসুম)