Image description

যারা জামায়াতকে ক্ষমা চাইতে বলে, তাদের নিজ দলের কৃতকর্মের জন্য অন্তত কয়েকবার ক্ষমা চাইতে হবে। এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর উত্তরের আমীর এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। তিনি বলেন, ভোঁতা অস্ত্র ব্যবহার করে জামায়াতকে ঘায়েল করা যাবে না।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিকেলে রাজধানীর উত্তরার মীর মুগ্ধ মঞ্চে আয়োজিত চার দিনব্যাপী মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইনের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। উত্তরা পশ্চিম অঞ্চলের পরিচালক ও মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমীর ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে ও মহানগরী যুব বিভাগের সেক্রেটারি ড. মোস্তফা ফয়সাল পারভেজের সঞ্চালনায় এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, নাজিম উদ্দিন মোল্লা, ডা. ফখরুদ্দিন মানিক ও যুব বিভাগের সভাপতি ও মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি ইয়াছিন আরাফাত প্রমুখ।

সেলিম উদ্দিন বলেন, সংসদে নতুন কিছু মুফতি আবিষ্কার হচ্ছে, তারা জামায়াতে ইসলামী ইসলাম নয় বলে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছে। এ ধরনের বক্তব্য দিয়ে, জামায়াতকে দুর্বল করা যাবে না। সংসদে অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য দিয়ে জাতির সঙ্গে মশকরা করা হচ্ছে।

সরকারকে উদ্দেশ করে সেলিম উদ্দিন বলেন, পলাতক শেখ হাসিনার সহযোগীদের কথায় চললে পরিণতি ভালো হবে না। হাসিনার পথে গেলে তার পরিণতিও ভালো হবে না।
একইসঙ্গে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তিনি পুরাতন রাজনীতিকে বিদায় দিয়ে সামনের দিকে অগ্রসর হয়ে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চান। যেটা জামায়াত সংসদেও প্রশংসা করেছেন।

মাদক বিরোধী বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের অসাধু রাজনীতিকরা মাদকমুক্ত সমাজ চান না, কারণ মাদকমুক্ত হলে তারা কর্মী খুঁজে পাবেন না। উত্তরার পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মদের বার বন্ধ করতে হবে। তাহলেই উত্তরা নিরাপদ ও মাদকমুক্ত হবে।

তিনি জানান, এক মাসের মধ্যে ২৫টি ডিজিটাল অ্যাপ উদ্বোধন করা হবে, যার মাধ্যমে নগরবাসীর জন্য নিরাপদ খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তরুণদের উদ্দেশে সেলিম উদ্দিন বলেন, সমাজের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা তরুণদের। কিন্তু বেকারত্ব, অপসংস্কৃতি ও বিলাসিতার প্রবণতার কারণে অনেক তরুণ মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, আধুনিকতার নামে অপসংস্কৃতি ছড়িয়ে পড়ছে, যা পরিবার ও সমাজের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এসব সমস্যা মোকাবেলায় কার্যকর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস উপলক্ষে ডিএনসিসির মেয়র প্রার্থী মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনের নেতৃত্বে চার দিনব্যাপী মাদকবিরোধী গণসচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হয়। এ কর্মসূচির আওতায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫৪টি ওয়ার্ডে ধারাবাহিকভাবে মাদকবিরোধী গণসচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালিত হয়।

শীর্ষনিউজ