Image description

জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জালিয়াতি রোধে ‘ফ্যামিলি ট্রি’ বা পারিবারিক তথ্যভিত্তিক নতুন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই ব্যবস্থা চালু হলে নতুন ভোটার হতে আবেদনকারীদের পিতা-মাতার পাশাপাশি ভাই-বোনদের এনআইডি তথ্যও জমা দিতে হবে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে ভোটার নিবন্ধনের সময় আবেদনপত্রে কেবল পিতা ও মাতার এনআইডি তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিবারের অন্যান্য সদস্যের তথ্যও যুক্ত করা হবে, যাতে আবেদনকারীর পরিচয় আরও নির্ভুলভাবে যাচাই করা যায়।

ইসির মতে, এ উদ্যোগের মাধ্যমে রোহিঙ্গাসহ বিদেশি নাগরিকদের ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে এনআইডি সংগ্রহের সুযোগ কমে আসবে। একই সঙ্গে দেশের নাগরিকদের পরিচয় পরিবর্তন বা ভুয়া তথ্য দিয়ে এনআইডি সংশোধনের প্রবণতাও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, ‘ফ্যামিলি ট্রি’ ব্যবস্থায় আবেদনকারীর পিতা-মাতা এবং কতজন ভাই-বোন আছেন, তাদের এনআইডির তথ্যও সংরক্ষণ করা হবে। এতে জালিয়াতি কমবে এবং পরিবারের তথ্য একসঙ্গে যাচাই করা সহজ হবে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে এ ব্যবস্থার মাধ্যমে ওয়ারিশ-সংক্রান্ত তথ্যও সহজে যাচাই করা সম্ভব হবে। এমনকি নির্বাচন কমিশন থেকেই ওয়ারিশ সনদ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

পিতা-মাতার নামের বানানে ভাই-বোনদের এনআইডিতে অমিল থাকলে তা সংশোধনের সুযোগ থাকবে বলেও জানান ইসি সচিব। তিনি বলেন, পরিবারের সদস্যরা আবেদন করলে প্রয়োজনীয় যাচাই শেষে একই বানানে তথ্য সংশোধন করে দেওয়া হবে।

বর্তমানে ইসির সার্ভারে ১২ কোটি ৮৩ লাখের বেশি নাগরিকের তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে। এসব তথ্য ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সরকারি-বেসরকারি প্রায় ২০২টি প্রতিষ্ঠান পরিচয় যাচাইয়ের কাজে ব্যবহার করছে।

ইসি কর্মকর্তাদের আশা, ‘ফ্যামিলি ট্রি’ ব্যবস্থা চালু হলে নাগরিক পরিচয় যাচাই আরও সহজ হবে, এনআইডি সংশোধনের আবেদন কমবে এবং জালিয়াতি প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

শীর্ষনিউজ/