জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে ‘আনুষ্ঠানিক অভিযোগ’ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। এর জন্য আগামী ৬ আগস্ট প্রসিকিউশনের ‘সূচনা বক্তব্য’ উপস্থাপন ও সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ রাখা হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-২ এই আদেশ দেন।
এই মামলায় ২২ আসামির মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীসহ ৫ জন গ্রেপ্তার আছেন। মঙ্গলবার তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পড়ে শোনান ট্রাইব্যুনাল।
গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে ফজলে করিম চৌধুরীকে অ্যাম্বুল্যান্সে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। পরে স্ট্রেচারে তাঁকে ট্রাইব্যুনালের এজলাসে তোলা হয়।
মামলার ২২ আসামির বিরুদ্ধে ৬ জনকে হত্যাসহ মোট তিনটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চট্টগ্রামে মো. ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত ও মো. ফারুককে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগটি ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই তানভীর সিদ্দিকী, মো. সাইমন ও হৃদয় চন্দ্রকে হত্যার। আর তৃতীয় অভিযোগে শতাধিক মানুষকে গুরুতর আহত করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ গঠনের ওপর শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মোহাম্মদ জহিরুল আমিন। আসামিপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী মিজানুর রহমান ও আবদুল কাইয়ুম। আর পলাতক আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন, আবুল হাসান, ইশরাত জাহান ও মোহাম্মদ এনাম।
গত ২ এপ্রিল চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেয় তদন্ত সংস্থা। পরে ৫ এপ্রিল তা আমলে নিয়ে ৭ এপ্রিল পলাতক আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।