Image description

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেটের ক্ষেত্রে বিরোধী দলের ছাঁটাই প্রস্তাব পাস হলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের দূতাবাস বন্ধ করে দিতে হবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের প্রতীক লাল-সবুজের পতাকা নামিয়ে ফেলতে হবে বলেও মনে করেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাসের প্রক্রিয়ায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত ১৬ নম্বর মঞ্জুরি দাবির ওপর আনা ছাঁটাই প্রস্তাবের জবাব দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ছাঁটাই প্রস্তাব অনুযায়ী পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত ১৬ নম্বর ‘‘দাবি হ্রাস করে ১ টাকায় নামিয়ে’’ আনা হলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমাদের দূতাবাসগুলো বন্ধ করে দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক লাল-সবুজের পতাকা নামিয়ে ফেলতে হবে।’

 

এতে প্রবাসীদের সেবা বন্ধ হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এছাড়া জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্যপদ স্থগিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। 

 

‘দেশের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে’—উল্লেখ করে তিনি বলেন, পররাষ্ট্র ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত ১ হাজার ৮৪৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকার বাজেট কোনো সাধারণ ব্যয় নয়। এটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে সুদৃঢ় করার কৌশলগত বিনিয়োগ।’

 

বিভিন্ন দেশে পররাষ্ট্র বাজেটের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ভারতের বিদেশ মন্ত্রণালয়ের বাজেট ২৯ হাজার কোটি টাকা ও পাকিস্তানে ৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।’ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত বাজেট দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় কম বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ছাঁটাই প্রস্তাবের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিবর্তনশীল ও জটিল বিশ্ব ব্যবস্থায় একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা অনেকাংশে দূরদর্শী ও সক্রিয় কূটনীতির ওপর নির্ভর করে।

তিনি বলেন, ‘আমাদের কূটনীতির মূল লক্ষ্য হচ্ছে সবার আগে বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ফার্স্ট।’ প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মালয়েশিয়া ও চীন সফরকে এই নীতির উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট প্রাক্কলন করা হয়েছে ১ হাজার ৮৪৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে পরিচালন বাজেট ১ হাজার ৬১০ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন বাজেট ২৩৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।

গত বছরের তুলনায় এ বরাদ্দ ৪ দশমিক ৫৩৬ শতাংশ বেশি বলে জানান তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেটের বড় অংশ বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলোর কার্যক্রম চালাতে ব্যয় হয়। টাকার বিপরীতে বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার ওঠানামার কারণে প্রকৃত ব্যয় বৃদ্ধির হার আরও কম হতে পারে। 

 

 

তিনি জানান, মালয়েশিয়ার জোহর বাহরু, যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান রাজ্যের ডেট্রয়েট, আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেস এবং আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনে নতুন মিশন খোলা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে এই চারটি মিশনের কার্যক্রম শুরু করতে ৩০ কোটি ৩৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

রোহিঙ্গা গণহত্যা সংক্রান্ত মামলায় ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ইসলামিক সম্মেলন সংস্থার পক্ষে গাম্বিয়ার করা মামলা পরিচালনার জন্য ১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।