Image description

জাতীয় সংসদে অর্থ বিলের দফাভিত্তিক সংশোধনী নিষ্পত্তির সময় ভোটাভুটিতে অংশ নিতে গিয়ে স্পিকারের হস্তক্ষেপের মুখে পড়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। নির্বাচিত সংসদ সদস্য না হওয়ায় তাকে ভোটদান থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থ বিল, ২০২৬-এর বিভিন্ন দফা ও সংশোধনী প্রস্তাবের ওপর ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট গ্রহণের সময় এ ঘটনা ঘটে।

ভোটগ্রহণের একপর্যায়ে স্পিকার আমিনুল হককে উদ্দেশ করে বলেন, ‘মাননীয় সদস্য আমিনুল হক, ইউ ক্যান নট ভোট ফর নাইদার ইয়েস নর নো। কারণ আপনি দুঃখজনকভাবে নির্বাচিত নন।’

 

পরে তিনি আরও বলেন, ‘আপনি সংসদে থাকলে আরও খুশি হতাম। তবে এসব ভোটিংয়ে অংশগ্রহণ করবেন না, অনুগ্রহ করে।’

 

জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তবে তিনি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আব্দুল বাতেনের কাছে ৩ হাজার ৩৬১ ভোটে পরাজিত হন। পরে বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে টেকনোক্র্যাট কোটায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেন।

 

সংবিধানের ৭৩ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো মন্ত্রী সংসদ সদস্য না হলেও তিনি জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিতে এবং কার্যক্রমে অংশ নিতে পারেন। তবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য না হলে তিনি কোনো বিল, সংশোধনী বা প্রস্তাবের ভোটাভুটিতে অংশ নিতে পারেন না। সংবিধানের এই বিধান প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য।

জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির সংজ্ঞা অংশেও ‘মন্ত্রী’ বলতে প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে আমিনুল হক সংসদের আলোচনায় অংশগ্রহণের অধিকার রাখলেও ভোট দেওয়ার সাংবিধানিক অধিকার তার নেই।

এদিন অর্থ বিলের দফাভিত্তিক সংশোধনী নিষ্পত্তির সময় কার্যপ্রণালী বিধি অনুসারে স্পিকার প্রতিটি দফা ও সংশোধনী আলাদাভাবে সংসদে উপস্থাপন করেন এবং ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের মাধ্যমে সংসদের মতামত নেন। এই প্রক্রিয়ার মধ্যেই আমিনুল হক ভোটে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করলে বিষয়টি স্পিকারের নজরে আসে এবং তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তাকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেন।

এর আগে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অর্থ বিল, ২০২৬ অবিলম্বে বিবেচনার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব এবং বিলের সাধারণ নীতির ওপর আলোচনা শেষে সংসদে দফাভিত্তিক সংশোধনী নিষ্পত্তি শুরু হয়। পরে প্রতিটি সংশোধনী প্রস্তাবের ওপর কণ্ঠভোটের মাধ্যমে সংসদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।