ফুটপাত ব্যবস্থাপনায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘হকার কার্ড’ বিতরণ করছে রাজধানী ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন। এরই মধ্যে হাজারের অধিক হকার পেয়েছেন এ কার্ড। তবে এই হকার কার্ড এখন নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, কার্ডকে বৈধতার সনদ হিসেবে ব্যবহার করে অনেক হকার ফুটপাতের সীমানা ছাড়িয়ে সড়ক দখল করেছেন। এতে ফুটপাতে বিশৃঙ্খলা ও জনদুর্ভোগ যেমন কমেনি, পাশাপাশি তাদের নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে নগর কর্তৃপক্ষ।
পথচারীদের অভিযোগ, নাগরিক অধিকার ক্ষুণ্ন করে সড়ক ও ফুটপাতে হকারদের ব্যবসা পরিচালনায় অনুমতি দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। অথচ ফুটপাত ও সড়ক নাগরিকদের চলাচলের জন্য। করপোরেশনের উচিত আগে পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করা, পরে হকারদের পুনর্বাসনে বিকল্প উপায় খুঁজে বের করা।
পরিকল্পনাহীন ও অপরিণামদর্শীভাবে ফুটপাত এবং সড়কে হকার বসার সুযোগ করে দিলে নগরজীবনে আরও বড় বিপর্যয় তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন নগর পরিকল্পনাবিদরা। তারা জানান, নগরে হকার পুনর্বাসনে অব্যবস্থাপনা চলছে। যে পদ্ধতিতে হকারদের বৈধতা দেওয়া হচ্ছে, তা পথচারীদের অধিকার ক্ষুণ্ন করছে। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধানে শুধু পুনর্বাসন নয়, ভাবতে হবে দারিদ্র্য বিমোচনের দৃষ্টিকোণ থেকেও। পাশাপাশি কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে হকার সিন্ডিকেট, চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। এজন্য প্রয়োজন সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও দৃঢ় অঙ্গীকার।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠন করে বিএনপি। নির্বাচনের ১০ দিনের মাথায় বিএনপি নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালামকে ডিএসসিসির ও শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনকে ডিএনসিসির প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার। পরে গত ১ থেকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত টানা ১০ দিন ফুটপাত ও সড়কে হকার উচ্ছেদ অভিযান চালায় ডিএসসিসি ও ডিএনসিসি। তখন নগরের ফুটপাত অনেকাংশে দৃশ্যমান হয় এবং সিটি করপোরেশনের হকার উচ্ছেদ কার্যক্রমে স্বস্তি প্রকাশ করেন পথচারীরা।
কিন্তু বেশিদিন স্থায়ী হয়নি এ স্বস্তির পরিবেশ। কয়েকদিন যেতে না যেতেই আবারও হকারদের দখলে চলে যায় ফুটপাত। তখন ফুটপাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং চাঁদাবাজি বন্ধ করতে নিবন্ধিত হকারদের কিউআর কোড সংবলিত ‘স্মার্ট হকার কার্ড’ বা ডিজিটাল পরিচয়পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এ নিয়ে নীতিমালাও তৈরি করে স্থানীয় সরকার বিভাগ। পরে পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সহযোগিতায় প্রকৃত হকারদের তালিকা তৈরি শুরু করে ডিএসসিসি ও ডিএনসিসি। সে অনুযায়ী এরই মধ্যে কার্ড দেওয়া হয়েছে এক হাজার ২৩০ জন হকারকে। তাদের বসার জন্য ফুটপাত ও সড়কের পাশে নির্দিষ্ট জায়গা চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে।
৩০ এপ্রিল থেকে হকার কার্ড বিতরণ শুরু হয়। এরই মধ্যে গুলিস্তান এলাকায় ৮৮৮ জন ও নিউমার্কেট এলাকায় ১৪২ জনকে হকার কার্ড দিয়েছে ডিএসসিসি। মিরপুর-১ ও মিরপুর-১০ এলাকায় ২০০ জনকে হকার কার্ড বিতরণ করেছে ডিএনসিসি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল থেকে হকার কার্ড বিতরণ শুরু করে ডিএসসিসি ও ডিএনসিসি। এর মধ্যে গুলিস্তান এলাকায় (বায়তুল মোকাররম, ফুলবাড়িয়া) ৮৮৮ জন ও নিউমার্কেট এলাকায় ১৪২ জনকে হকার কার্ড দেয় ডিএসসিসি। মিরপুর-১ ও মিরপুর-১০ এলাকায় ২০০ জনকে হকার কার্ড বিতরণ করে ডিএনসিসি।
কার্ড দেওয়ার পর কতটা বদলেছে ঢাকার ফুটপাতের চিত্র
সম্প্রতি গুলিস্তান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ এলাকা, পুরানা পল্টন, মতিঝিল, নিউ মার্কেট এলাকা, মিরপুর-১ ও মিরপুর-১০ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, হকার কার্ড পাওয়ার পর কোনো কিছুর তোয়াক্কা করছেন না হকাররা। ফুটপাত ছেড়ে রাস্তায় বসে পড়েছেন তারা। অনেকে আবার নির্দিষ্ট জায়গায় না বসে বিকল্প স্থানে বসছেন। এতে পথচারীদের চলাচল দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। ফলে হকার পুনর্বাসনের তালিকা ও কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের সুফল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পথচারীরা।
অভিযোগ করে কয়েকজন পথচারী বলেন, সড়ক ও ফুটপাতে রং দিয়ে হকার বসার জন্য স্থান নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেটা অনুসরণ করছেন না হকাররা। আগের মতোই তারা ইচ্ছেমতো ফুটপাত ও রাস্তায় বসে যাচ্ছেন।
গুলিস্তানে দেখা যায়, গুলিস্তান সিনেমা হল থেকে শুরু করে জিপিও পর্যন্ত পুরো ফুটপাতই হকারদের দখলে। পাশাপাশি রাস্তায়ও তারা দোকান বসিয়ে দাপটের সঙ্গে ব্যবসা করছেন। রমনা ভবনের উত্তর পাশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ অফিসের সামনের সড়কটি বসার জন্য নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও সেখানে হকারের সংখ্যা কম। চিহ্নিত করা জায়গা অনেকটা ফাঁকা। অথচ রমনা ভবনের দক্ষিণ পাশের পুরো সড়কই হকারে ঠাসা। সড়কটি দিয়ে চলাচল করায় দায়। জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের দক্ষিণপাশের সড়কটি পুরোপুরি হকারদের দখলে। সেখানে আট সারিতে পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন হকাররা। ফলে এ সড়কে ঠিকমতো রিকশা চলাচলেরও সুযোগ নেই।

সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে গুলিস্তান এলাকায় সড়কে ঘর কেটে হকারদের বসার জায়গা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে/ছবি- জাগো নিউজ
এসব এলাকায় যারা ব্যবসা করছেন, তাদের অধিকাংশের কাছেই হকার কার্ড দেখা যায়নি। আবার কে কার সীমানার ভেতর বসছেন, তা-ও বোঝার উপায় নেই। সড়কে এসব দোকানের কারণে পথচারীরা ঠিকমতো চলাচল করতে পারছেন না। মূল সড়কেও যানবাহনের ধীরগতি দেখা গেছে। এছাড়া মিরপুর-১ ও মিরপুর-১০ এলাকায়ও যত্রতত্র হকার বসতে দেখা গেছে।
গুলিস্তানের ফুটপাতে ৯ বছর ধরে ব্যবসা করেন মামুন ইসলাম। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, হকার ব্যবস্থাপনায় সিটি করপোরেশন যে উদ্যোগ নিয়েছে— তা ভালো। তবে এ ব্যবস্থাপনা করতে গিয়ে হকারদের অনেককে নির্ধারিত জায়গা ছেড়ে অন্যত্র যেতে হচ্ছে। এতে বেচা-বিক্রি কমে যায়। এ কারণে নিবন্ধন হওয়া বা অনিবন্ধিত— সবাই এখনো গুলিস্তানে বসছেন।
হকার ব্যবস্থাপনায় সিটি করপোরেশন যে উদ্যোগ নিয়েছে, তা ভালো। তবে এ ব্যবস্থাপনা করতে গিয়ে হকারদের অনেককে নির্ধারিত জায়গা ছেড়ে অন্যত্র যেতে হচ্ছে। এতে বেচা-বিক্রি কমে যায়। এ কারণে নিবন্ধন হওয়া বা অনিবন্ধিত, সবাই এখনো গুলিস্তানে বসছেন।— গুলিস্তানের ফুটপাতের ব্যবসায়ী মামুন ইসলাম
নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া থেকে পুরানা পল্টনে নিয়মিত অফিস করেন আলমগীর হোসেন। এ জন্য তিনি প্রতিদিন সকালে নারায়ণগঞ্জ থেকে বাসে গুলিস্তান নেমে হেঁটে অফিসে যান। আবার বিকেলে অফিস থেকে হেঁটে গুলিস্তানে গিয়ে বাসে ওঠেন।
জাগো নিউজকে আলমগীর হোসেন বলেন, কেউ যদি গুলিস্তানের জিপিওর সামনে থেকে হেঁটে শহীদ মতিউর পার্কের সামনে যেতে চান, তাহলে অন্তত ২০ মিনিট লাগবে। অথচ ফুটপাতে হকার না থাকলে এ পথ হেঁটে গেলে পাঁচ মিনিট লাগতো।
তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন হকারদের জন্য যে সীমানা নির্ধারণ করে দিয়েছে— তা কেউ মানছেন না। যে যার মতো ফুটপাত-সড়কে টেবিল পেতে পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসছেন। বিশেষ করে গোলাপশাহ মাজার, ঢাকা ট্রেড সেন্টারের সামনে এ সমস্যা সবচেয়ে বেশি। অথচ গোলাপশাহ মাজার থেকে দক্ষিণ সিটির প্রধান কার্যালয় নগর ভবনের দূরত্ব ১০০ মিটারের কম।

হকারদের বসার জন্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া জায়গা/ছবি- জাগো নিউজ
মিরপুর-১৪ থেকে ফার্মগেট-শাহবাগ হয়ে সদরঘাটে যাত্রী পরিবহন করে বিহঙ্গ পরিবহন। এ পরিবহনের বাসচালক সুজন মিয়া জাগো নিউজকে বলেন, মিরপুর-১৪ থেকে জিপিও আসতে এক ঘণ্টার মতো সময় লাগে। কিন্তু জিপিও থেকে গুলিস্তানের গোলাপশাহ মাজার হয়ে ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল পার হতে সময় লাগে অন্তত আধা ঘণ্টা। এর প্রধান কারণ, সড়ক ও ফুটপাত দখল করে হকার বসা। এ পরিস্থিতির কারণে সদরঘাট থেকে গুলিস্তান হয়ে মিরপুর যেতেও ভয়াবহ যানজটে পড়তে হয়। সরকার যদি হকারদের পুনর্বাসন করতে চায়, গুলিস্তান থেকে তাদের আগে তুলে নিক।
এসব বিষয়ে কথা হয় ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিমের সঙ্গে। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, হকার ব্যবস্থাপনায় ডিএসসিসি কাজ করছে। প্রকৃত হকারদের মধ্যে কার্ড বিতরণ অব্যাহত আছে। পাশাপাশি হকাররা যাতে নিয়ম মেনে তাদের ব্যবসা কার্যক্রম পরিচালনা করেন, তা তদারকি করা হবে।
মিরপুর-১ এলাকায় প্রতিদিন লাখো মানুষের যাতায়াত। কিন্তু সেখানে ফুটপাতের বড় অংশজুড়ে পোশাক, জুতা, প্রসাধনী, ফলমূল ও বিভিন্ন পণ্যের দোকান বসতে দেখা যায়। একই চিত্র মিরপুর-১০ এলাকায়ও। শিক্ষার্থী, ক্রেতা ও সাধারণ পথচারীদের চলাচলে প্রতিনিয়ত বিঘ্ন ঘটছে।
মিরপুর-১ এলাকায় বাস করেন ফয়সাল আহমেদ। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, সিটি করপোরেশন হকার কার্ড বিতরণের পরও হকার ব্যবস্থাপনায় কোনো পরিবর্তন হয়নি। যে যার মতো করে সড়ক ও ফুটপাতে পণ্য বিক্রি করছেন। এতে করে ফুটপাত দিয়ে ঠিকমতো হাঁটা যায় না। হাঁটতে গেলে অন্য পথচারীদের গায়ে ধাক্কা লাগে।
দীর্ঘদিন ধরেই নগর এলাকায় হকার নীতিমালার প্রয়োজন ছিল। তবে নীতিমালা প্রণয়নের পর যথাযথ পরিকল্পনাগত বিশ্লেষণ ছাড়াই যেভাবে ফুটপাতের পাশাপাশি সড়কেও দাগ টেনে হকার বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা বিস্ময়কর।— আইপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান
ফয়সাল আহমেদ অভিযোগ করেন, মিরপুর-১ ও মিরপুর-১০ এলাকায় ফুটপাতের পাশাপাশি বাসস্ট্যান্ডের আশপাশের জায়গাও দখল করে ব্যবসা করছেন হকাররা। এতে যাত্রী ওঠানামায় সমস্যা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সড়কের ওপর দোকান বসানোর কারণে যানবাহনের চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে।
ডিএনসিসির জনসংযোগ বিভাগ সূত্র জানায়, মিরপুর অঞ্চলে ৮৫০ জন হকার রয়েছেন। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত মিরপুর-১ নম্বরে ১০০ ও মিরপুর-১০ এ ১০০ জনকে হকার কার্ড দেওয়া হয়েছে। তবে হকাররা নিময় মেনে ব্যবসা পরিচালনা না করায় ওই কার্ড বিতরণ কার্যক্রম স্থগিত আছে।
অপরিকল্পিত হকার পুনর্বাসন বাড়াতে পারে জনদুর্ভোগ
রাজধানীতে হকার ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সাম্প্রতিক নীতিমালাকে স্বাগত জানালেও এর বাস্তবায়ন-পদ্ধতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)। গত ১৫ মে সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলেছে, পরিকল্পনাহীন ও অপরিণামদর্শীভাবে ফুটপাত ও সড়কে হকার বসার সুযোগ করে দিলে নগরজীবনে আরও বড় বিপর্যয় তৈরি হতে পারে। কারণ হকার সমস্যা শুধু ঢাকার নয়; দেশের প্রায় সব নগর এলাকায়ই এটি পথচারীদের চলাচল, নিরাপত্তা ও নগর ব্যবস্থাপনায় বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই শুধু ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে কেন্দ্র করে নয়, সারা দেশের নগর এলাকার জন্য সমন্বিত হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়ন ও কার্যকর বাস্তবায়নের প্রয়োজন রয়েছে।
রাজধানীতে ফুটপাত ও সড়কে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদে অভিযান চালানো হলেও ফের বসছে দোকান/ ছবি- জাগো নিউজ
ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নীতিমালায় পথচারীদের জন্য ন্যূনতম ৫ থেকে ৬ ফুট জায়গা রাখার শর্ত দেওয়া হয়েছে। একে ‘অপ্রতুল’ মনে করছে আইপিডি। সংস্থাটির ভাষ্য, আন্তর্জাতিক ও আধুনিক নগর-পরিকল্পনার মানদণ্ড অনুযায়ী বড় শহরের আবাসিক এলাকায় ৮ থেকে ১০ ফুট এবং বাণিজ্যিক এলাকায় ১০ থেকে ১৬ ফুট প্রশস্ত ফুটপাত থাকা প্রয়োজন। কেন্দ্রীয় বাণিজ্যিক এলাকায় এই প্রশস্ততা হওয়া উচিত ২০ থেকে ৪০ ফুট।
এছাড়া নতুন নীতিমালায় মেট্রোস্টেশন, বাসস্টপ বা গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের মাত্র ৩০ থেকে ৪০ ফুট দূরত্বে হকার বসার সুযোগ রাখা হয়েছে। আইপিডি বলছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সাধারণত এসব স্থানের অন্তত ১৫০ ফুটের মধ্যে হকার বসতে দেওয়া হয় না।
আইপিডির নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান জাগো নিউজকে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই নগর এলাকায় হকার নীতিমালার প্রয়োজন ছিল। তবে নীতিমালা প্রণয়নের পর যথাযথ পরিকল্পনাগত বিশ্লেষণ ছাড়াই যেভাবে ফুটপাতের পাশাপাশি সড়কেও দাগ টেনে হকার বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা বিস্ময়কর। এতে অল্প সময়ের জন্য তৈরি হওয়া পথচারীদের স্বস্তি আবারও হারিয়ে গেছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে যেভাবে ফুটপাত দখল করে হকাররা ব্যবসা করছেন, নতুন নীতিমালার মাধ্যমে সেটিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে। প্রকৃত হতদরিদ্র হকারদের চিহ্নিত করে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আনা প্রয়োজন। তবে অবৈধ দখলকে পুনর্বাসনের নামে বৈধতা দেওয়া ঠিক হবে না।