Image description

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে গ্রেপ্তারের একদিন পর নুরুল আলম (৪৫) নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের সাতকানিয়া উপজেলা শাখার যুগ্ম আহ্বায়কের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) সকালে কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

মঙ্গলবার চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ নুরুল আলমকে আটক করে সাতকানিয়া থানায় হস্তান্তর করে। পরে ২০২৪ সালের বিস্ফোরক আইনের একটি মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে বিকেলে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

পরিবারের দাবি, নুরুল আলমকে সুস্থ অবস্থায় আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। তাঁর মৃত্যু স্বাভাবিক নয় বলে দাবি করে ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিচার বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন স্বজনরা।

নিহতের বোন বকুল আক্তার বলেন, তাঁর ভাই একটি কাজে এসিল্যান্ড অফিসে গেলে ডিবি পুলিশ তাঁকে আটক করে। পরে আদালতে পাঠানো হয়। আদালতে নেওয়ার সময় তিনি সুস্থ ছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। জেলহাজতে কী হয়েছে, তা খতিয়ে দেখার দাবিও জানান।

নিহতের চাচা রবি হোসাইনও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার ইকবাল হোসেন জানান, মঙ্গলবার বিকেলে আদালত থেকে নুরুল আলমকে কারাগারে আনা হয়। রাত পর্যন্ত তাঁর কোনো অসুস্থতার অভিযোগ ছিল না। বুধবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে দ্রুত চমেক হাসপাতালে পাঠানো হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

সাতকানিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, তাকে একটি বিস্ফোরক মামলায় সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছিল। আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই আদালতে সোপর্দ করা হয়।

চমেক হাসপাতালের চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে আনার আগে তিনি একাধিকবার বমি করেছিলেন বলে জানা যায়। পরে সিপিআর দিয়ে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।

পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদঘাটন করা হোক।