পরীক্ষা কেন্দ্রে নকল ঠেকাতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ও কেন্দ্রসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা বলেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন।
তিনি বললেন, ‘নকল শব্দটি আমি আর শুনতে চাই না। ২০০৬ সালেই আমরা নকলকে কবর দিয়েছিলাম। এখন শিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে কথা বলতে হবে। তবে নকল যদি নতুন রূপে, ডিজিটাল উপায়ে ফিরে আসে, সেটিও কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।’
আজ মঙ্গলবার চট্টগ্রাম কলেজ অডিটোরিয়ামে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা উপলক্ষে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছিলেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রীর ভাষ্য, বর্তমানে অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লোজড সার্কিট (সিসিটিভি) ক্যামেরা রয়েছে। তাই পরীক্ষার হলে নকল হওয়ার সুযোগ কম। কোনো কেন্দ্রে নকলের অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সংরক্ষিত ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা করা হবে।
‘আমার কাছে যদি অভিযোগ আসে কোনো কেন্দ্রে নকল হয়েছে, তাহলে আমি আর্কাইভ থেকে ভিডিও দেখে যাচাই করব। যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে শুধু শিক্ষার্থী নয়, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনা হবে’, যোগ করেন তিনি।
পরীক্ষা পরিচালনা–সংক্রান্ত আইনে পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলছিলেন, পরীক্ষার কক্ষে নকল সংঘটিত হলে তার দায় শুধু শিক্ষার্থীর ওপর চাপানো হবে না। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার জন্য কেন্দ্রসচিব, কক্ষ পরিদর্শক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও নজরদারি বাড়ানোর ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী। আগে উত্তরপত্র মূল্যায়নের বিষয়ে বোর্ডের পর্যবেক্ষণের সুযোগ সীমিত ছিল। এখন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও বোর্ড থেকে এলোমেলোভাবে উত্তরপত্র নির্বাচন করে পুনরায় মূল্যায়ন পদ্ধতি যাচাই করা হবে।
‘পরীক্ষকরা সঠিকভাবে খাতা মূল্যায়ন করছেন কিনা সেটিও আমরা দেখব। বেশি নম্বর কিংবা কম নম্বর দেওয়া হয়েছে কিনা তা যাচাইয়ের জন্য রেনডম স্যাম্পল নেওয়া হবে।’
সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। করপোরেশনের অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
অপরদিকে বিশেষ অতিথি ভূমি প্রতিমন্ত্রী হেলাল উদ্দিন জানাচ্ছিলেন, ‘প্রাথমিক স্তর থেকেই শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষকরা নিষ্ঠা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।’
চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা কমানোর ওপর জোর দেন। তার ভাষ্য, একটি রুমে ৭০ থেকে ৮০ জনের বেশি শিক্ষার্থী থাকে। এতে মেধার বিকাশ হওয়ার সম্ভাবনা কম।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও চট্টগ্রাম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাহেদুল ইসলাম চৌধুরী।