বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেসে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। একসঙ্গে প্রায় দুই ডজন আলোচিত নেতা ও লোকসভার সংসদ সদস্য (এমপি) দল ত্যাগের পর তৃণমূলের অস্তিত্ব নিয়ে ওঠে প্রশ্ন।
দলছুট নেতাদের অভিযোগ, নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাতিজা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কারণেই দলে ভাঙনের সুর। তৃণমূল কংগ্রেসের ভবিষ্যত সংকটের মুখেই এবার আলোচিত শীর্ষ নেতাদের বহিষ্কার করেছে সভানেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সোমবার (২২ জুন) রাতে কলকাতা পৌরসভার সাবেক মেয়র ফিরহাদ হাকিমসহ সাতজন শীর্ষ নেতাকে শোকজ করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস (কালীঘাট)। কিন্তু নেতা-নেত্রীদের কাছ থেকে শোকজের উত্তর পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করেনি দলটি।
সূত্রের দাবি, তার আগেই মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরের দিকে বহিষ্কার করা হয় তাদের। ফিরহাদ হাকিম ছাড়াও এই তালিকায় রয়েছেন অরূপ বিশ্বাস, অরূপ রায়, জাভেদ খান, রথীন ঘোষ, বিপ্লব মিত্র, সাবিনা ইয়াসমিন ও স্নেহাশিস চক্রবর্তী।
এতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছায়াসঙ্গী ছিলেন ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাসরা। জাভেদ খানও দলের গুরুত্বপূর্ণ মুখ। রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী জানিয়েছিলেন, তিনি রাজনীতি থেকে অবসর নিচ্ছেন। ঘটনাক্রমে তাদের সকলেই এই মুহূর্তে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আসল’ তৃণমূলে।
আগামী দিনে এই তালিকায় আরও নতুন নাম যুক্ত হতে পারে বলে সূত্রের খবর। গতকাল সোমবার নিউটাউনের পাঁচতারা হোটেলে ‘আসল’ তৃণমূলের বিশেষ অধিবেশনে নতুন করে ঘোষণা করা হয়েছে জাতীয় কর্মসমিতি। তাতে মমতা কিংবা অভিষেকের কোনও জায়গাই হয়নি। দলের চেয়ারপারসন হয়েছেন অরূপ রায়। সাধারণ সম্পাদক ঋতব্রত-সহ চারজন।
সংবাদ সম্মেলনে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তাদের সঙ্গে ফিরহাদ হাকিম, অরূপ বিশ্বাসরা রয়েছেন। শুধু তাই নয়, মঞ্চে ঋতব্রতের পাশে বসেছিলেন হাওড়ার বিধায়ক ও মমতার স্নেহধন্য অরূপ রায়। মঞ্চে ছিলেন স্নেহাশিস চক্রবর্তী, সাবিনা ইয়াসমিনরা। এরপর রাতেই কালীঘাট তৃণমূলের পক্ষ ফিরহাদ-অরূপসহ একগুচ্ছ নেতাকে শোকজ করা হয়।