Image description

পোশাক কেবল শরীরের আবরণ নয়, বরং রাজনীতি ও আত্মপরিচয়ের এক অমোঘ দর্পণ। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোশাক ও সংস্কৃতিকে কেন্দ্র করে এক তীব্র বিতর্কের ঝড় উঠেছে।

 

বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্ত্রী ও কন্যার পোশাক নিয়ে সুশীল বা তথাকথিত ‘পাশ্চাত্যঘেঁষা’ শিক্ষিত সমাজের একাংশের সমালোচনার জবাবে সামাজিক মাধ্যমে রীতিমতো ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কন্যা ড. শামারুহ মির্জা।

সোমবার (২২ জুন) নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে শামারুহ স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন- ‘ওয়েস্টার্নাইজড শিক্ষিত লোকের আইডেন্টিটি ক্রাইসিস খুব আগলি (কুৎসিত)।’

‘পাশ্চাত্য মানসিকতা’ বনাম বাঙালি ঐতিহ্য

রাষ্ট্রের ক্ষমতার পালাবদলের পর প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের নারীদের পোশাক নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানামুখী আলোচনা চলছে। বিশেষ করে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান এবং কন্যা জাইমা রহমানের সালোয়ার-কামিজ পরিধান করা নিয়ে তথাকথিত আধুনিক বা পাশ্চাত্য সংস্কৃতির অনুসারী কিছু মানুষের মন্তব্য ড. শামারুহ মির্জার দৃষ্টিগোচর হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শামারুহ মির্জা তার এই লেখনীর মাধ্যমে দুটি বিষয়কে সামনে এনেছেন। প্রথমত, সালোয়ার-কামিজ বা শাড়ির মতো ঐতিহ্যবাহী পোশাকের বাঙালি সত্তাকে তুলে ধরা। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মার্জিত পোশাক রুচির কথা মনে করিয়ে দিয়ে ক্ষমতার শীর্ষবিন্দুতে থাকা নারীদের দেশীয় সংস্কৃতির ধারক হিসেবে উপস্থাপন করা। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারের দামি পোশাকের মোহে যারা অন্ধ, তাদের প্রতিও এক ধরনের প্রচ্ছন্ন কটাক্ষ রয়েছে তার এই উক্তিতে।

পোস্টের শেষাংশে ড. শামারুহ মির্জা একটি ছবি যুক্ত করে লিখেছেন- ‘নিচের ছবিটাই বাংলাদেশ। আগাগোড়াই বাংলাদেশ।’

রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান এবং একজন উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে শামারুহ মির্জার এই বক্তব্য ঢাকার রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। পোশাকের মতো একটি ব্যক্তিগত অথচ সাংস্কৃতিকভাবে সংবেদনশীল বিষয়কে কেন্দ্র করে যেভাবে তিনি ‘আইডেন্টিটি ক্রাইসিস’ বা আত্মপরিচয়ের সংকটের দিকে আঙুল তুলেছেন, তা বাংলাদেশের মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বকেই যেন নতুন করে সামনে এনে দিল।

এ নিয়ে বিতর্ক ও আলোচনা জারি থাকলেও শামারুহ মির্জার এই পোস্টটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে—রাজনীতি কিংবা সমাজনীতি, বাঙালি সংস্কৃতির শিকড়কে ভুলে পাশ্চাত্যের অন্ধ অনুকরণকে অন্তত ঢাকার সচেতন সমাজ সহজভাবে নিচ্ছে না।