বঙ্গোপসাগরে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানসহ বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগে মালয়েশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দুই দেশ এ খাতে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।
সোমবার (২২ জুন) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর উপলক্ষে প্রকাশিত বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার ৩৩ দফা যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে একই দিন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্কের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে জ্বালানি খাতকে চিহ্নিত করেছে এবং এ ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার ওপর একমত হয়েছে।
এতে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ, এলএনজি অবকাঠামো উন্নয়ন, পেট্রোলিয়াম পণ্য এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো খাতে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে এই সমঝোতা পেট্রোনাস ও পেট্রোবাংলার মধ্যে সরাসরি দ্বিপাক্ষিক এলএনজি আলোচনার সুযোগ সৃষ্টি করবে বলেও উল্লেখ করা হয়।
যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার কোম্পানিগুলোকে দেশের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছে। এর মধ্যে বঙ্গোপসাগরে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান, কয়লা ও চুনাপাথরের মতো অনাবিষ্কৃত খনিজ সম্পদ উত্তোলন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
দুই দেশ সংশ্লিষ্ট জাতীয় জ্বালানি কোম্পানি এবং বেসরকারি খাতের অংশীদারদের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রতিও গুরুত্বারোপ করেছে। তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি ও পারস্পরিকভাবে লাভজনক অংশীদারিত্ব উভয় দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, স্থায়িত্ব এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২১ জুন মালয়েশিয়া সফরে যান। সফর শেষে সোমবারই তার চীনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। আগামী ২৬ জুন চীন সফর শেষে দেশে ফিরবেন তিনি।