Image description

পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সদস্য পদে রয়েছেন ১৬ জন। সেই তালিকায় আরও একজনকে যুক্ত করার সুপারিশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ড. ফেরদৌসী বেগমকে পিএসসির সদস্য পদে নিয়োগের সুপারিশ করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন বিএনপির প্রবীণ এই নেতা।

গত ১৪ জুন স্বাক্ষরিত ওই সুপারিশপত্রে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী উল্লেখ করেন, ব্যক্তিগতভাবে ড. ফেরদৌসী বেগমকে দীর্ঘদিন ধরে চেনেন। অবগত তার শিক্ষা, গবেষণা ও কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কেও । ড. ফেরদৌসী ১৯৯৬ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে করেন পিএইচডি। কর্মজীবনে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনেও কর্মরত ছিলেন। এসব প্রতিষ্ঠানে তিনি দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন বলে জানান ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ড. ফেরদৌসীকে পিএসসির সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আরও সমৃদ্ধ হবে এবং এর ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে বলে বিশ্বাস সমবায় মন্ত্রীর।

দেশের উচ্চশিক্ষা ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে ড. ফেরদৌসী বেগমের অবদান এবং পেশাগত দক্ষতা সরকারি কর্ম কমিশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের জন্য মূল্যবান সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে বলে মনে করছেন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এ মন্ত্রী।

এমন প্রেক্ষাপটে ড. ফেরদৌসীকে পিএসসির সদস্য পদে নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। তার মতে, দীর্ঘ শিক্ষাজীবন, গবেষণায় সম্পৃক্ততা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজের অভিজ্ঞতার কারণে ড. ফেরদৌসী বেগম পিএসসির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনে সক্ষম ভূমিকা রাখতে পারেন।

কর্মজীবনের শুরুতে ড. ফেরদৌসী তেজগাঁও কলেজের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক (১৯৮৮–১৯৯১) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ১৯৯৫ সালের জুন থেকে ১৯৯৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের ইনস্টিটিউট অব ফুড অ্যান্ড রেডিয়েশন বায়োলজির জেনেটিক্স বিভাগে সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হিসেবে ছিলেন। পরে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে (১৯৯৬–১৯৯৭) প্রভাষক হিসেবেও যুক্ত হন।

এরপর ড. ফেরদৌসী ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি চিটাগংয়ে অধ্যাপক (২০০২–২০০৬) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৬ সাল থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ লোক-প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ইনস্ট্রাক্টর হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পেশাগত জীবনের ধারাবাহিকতায় তিনি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির অধ্যাপক (২০২২–২০২৪) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে কৃষি বায়োটেকনোলজি ও পরিবেশ সুরক্ষায় কাজ করেন।

এদিকে, পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান জানিয়েছেন, বর্তমান কমিশনে ১৬ জন সদস্য কর্মরত আছেন। সম্প্রতি ৩ জন সদস্য মেয়াদপূর্ণ করে অবসরে গেছেন।

পিএসসির বর্তমান ১৬ সদস্যের মধ্যে ৯ জন অধ্যাপক, প্রশাসন ক্যাডারে কর্মরত ছিলেন ৩ জন, একজন করে কৃষি অর্থনীতিবিদ, অবসরপ্রাপ্ত সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তা এবং পররাষ্ট্র ক্যাডারের সাবেক কর্মকর্তা। এর বাইরে পিএসসির চেয়ারম্যান ড. মোবাশ্বের মোনেমের পেশাও ছিল অধ্যাপনা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় তাকে।

সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পিএসসি। এর কাজ হচ্ছে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে উপযুক্ত প্রার্থী বাছাই করে সুপারিশ করা। এরপর সরকার তথ্য যাচাই বাছাই করে তাদের নিয়োগ দেয়। পিএসসি শুধু বাছাই করে না, এসব প্রর্থীরা যখন চাকরিতে যোগ দিয়ে কোনো জটিলতায় পড়েন তখন বিভিন্ন বিষয়ে সুপারিশও করে।

ক্যাডার কর্মকর্তাদের পাশাপাশি নন-ক্যাডারদেরও নিয়োগ দেয় পিএসসি। প্রার্থী বাছাইয়ে সংস্থাটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ কারণে জুলাই আন্দোলনে ক্ষমতার পালাবদলে প্রতিষ্ঠানটি সংস্কারের জোরালো দাবি ওঠে। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন সেক্টর সংস্কারের যে কমিশন গঠন করে সেখানেও পিএসসি সংস্কারের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রয়েছে।

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ফিরোজ মিয়া বলেছেন, একটি দেশের উন্নয়ন নির্ভর করে আমলারা কতটা দক্ষ ও কার্যকর। পিএসসি সেই আমলাদের নিয়োগ দেয়। আর যারা পিএসসির সদস্যদের নিয়োগ দেন তাদের রাজনৈতিক সদিচ্ছাটা গুরুত্বপূর্ণ।

পিএসসির নিয়োগ রাজনৈতিক দলের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করলে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই— এমন শঙ্কা এই জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞের। বললেন, সংস্থাটির ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল। প্রশ্নফাঁস, মৌখিক পরীক্ষায় দুর্নীতিতে নষ্ট হয়েছিল সুনাম। সেই জায়গায় আবার যাওয়ার আগে ভাবার অবকাশ আছে।