জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পেতে ২২ হাজার প্রবাসীর আবেদন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। যথাযথ না হওয়ায় তাদের আবেদন বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসি। গতকাল এনআইডি শাখার কর্মকর্তারা বিষয়টি জানিয়েছেন।
ইসি সূত্র জানিয়েছে, ২০২৩ সালে শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট নিবন্ধন আবেদন পড়েছে ৮৯ হাজার ৮৯৭টি। বায়োমেট্রিক প্রদান করেছেন ৫৩ হাজার ২২৯ জন। তদন্তের পর অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে এমন আবেদনের সংখ্যা ২ হাজার ৯৭৮টি। তদন্তের পর অনুমোদন হয়েছে ৪৭ হাজার ১৩২টি আবেদন। বাতিল হয়েছে ২২ হাজার ৩৫২টি আবেদন। সার্ভারে তথ্য আপলোডের অপেক্ষায় রয়েছে ১০ হাজার ১৪১ জনের আবেদন। আপলোড করা হয়েছে ৩৭ হাজার ১৬ জনের আবেদন। এ ছাড়া আবেদন অনুমোদনের পর এনআইডি প্রিন্ট করা হয়েছে ২২ হাজার ১৮টি। সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে যা বিতরণ চলছে। ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবি ও দুবাই; সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দা; যুক্তরাজ্যের লন্ডন, ম্যানচেস্টার ও বার্মিংহাম; ইতালির রোম ও মিলান; কুয়েতের কুয়েত সিটি; কাতারের দোহা; মালয়েশিয়ার কুলালামপুর;
অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা ও সিডনি; কানাডার অটোয়া ও টরেন্টো; জাপানের টোকিও; আমেরিকার নিউইয়র্ক, মিয়ামি, ওয়াশিংটন ডিসি ও লস অ্যাঞ্জেলেস; মালদ্বীপের মালে; ওমানের মাসকাট; দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়াসহ মোট ১৪টি দেশের ২৪টি স্টেশনে ভোটার তালিকা ও এনআইডি বিতরণ কার্যক্রম চলছে। কর্মকর্তারা বলছেন, আবেদন বাতিল হলেও অসুবিধা নেই। পুনরায় আবেদন করা যাবে। সবচেয়ে বেশি ভোটার আবেদন এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে, ২৩ হাজার ৯৪০টি। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে সবচেয়ে কম আবেদন এসেছে, ১২৬টি। সৌদি আরবে আবেদন জমা পড়েছে ৬ হাজার ৩৫২টি। যুক্তরাজ্যে ১৭ হাজার ৩০টি। ইতালিতে ৯ হাজার ৩৮টি। কুয়েতে আবেদন জমা পড়েছে ৫ হাজার ৫৭৩টি। কাতারে ৫ হাজার ৪০৬টি। মালয়েশিয়া থেকে ১ হাজার ৮৩৩টি আবেদন এসেছে। অস্ট্রেলিয়াতে আবেদন জমা পড়েছে ১ হাজার ২০৬টি। কানাডায় ৩ হাজার ২৯৮টি। জাপানে আবেদন জমা পড়েছে ৩০৯টি। যুক্তরাষ্ট্রে ১৬ হাজার ৮১২টি। মালদ্বীপে ২৯৮টি ও ওমান থেকে আবেদন এসেছে ২ হাজার ২৪৬টি।
পাঁচ বছরের নিবন্ধন ফরম দ্রুত সার্ভারে আপলোডের নির্দেশ : পাঁচটি পঞ্জিকা বছরের নিবন্ধন ফরম জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সার্ভারে দ্রুত আপলোডের জন্য মাঠ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গতকাল এনআইডি শাখার কর্মকর্তারা বিষয়টি জানিয়েছেন। এরই মধ্যে ইসি সচিব আখতার আহমেদও এনআইডি মহাপরিচালককে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়েছেন। এতে বলা হয়েছে, ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত (পাঁচ বছর) ভোটার তথ্য ফরম (ফরম-২) মাঠ কার্যালয়ে স্ক্যান ও আপলোড কার্যক্রম ৩০ জুন ২০২৬-এর মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
প্রয়োজনে আঞ্চলিক ও জেলা নির্বাচন অফিসাররা স্থানীয় চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে নিজ অধিক্ষেত্রের মধ্যে অপারেটর ও স্ক্যানার মেশিন সমন্বয় করে কার্যক্রম সম্পন্ন করবেন। ইসি কর্মকর্তারা বলছেন, এনআইডি সংশোধনের জন্য দুই নম্বর ফরম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা এ ফরমটিই ভোটার হওয়ার জন্য ব্যক্তি নিজে পূরণ করে থাকেন। তাই পরে সংশোধনের জন্য কেউ এলে সহজেই যাচাই করা যায়। আর ২০১২ সাল বা তার আগের নিবন্ধন ফরমগুলো এখনো নানা কারণে সার্ভারে আপলোড করা হয়নি। তাই মাঝেমধ্যেই কর্মকর্তাদের এই নির্দেশনা দেওয়া হয়, যাতে দ্রুত কাজটি শেষ হয়। এর আগেও বেশ কয়েকবার এমন নির্দেশনা মাঠ কর্মকর্তাদের দেওয়া হয়েছে।