Image description

সংসদ নির্বাচনে না পারলেও সামনে স্থানীয় সরকারের ভোটে মাঠে ফিরতে পারে গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ। কারণ, কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলটির নেতাকর্মীর বিষয়ে নির্বাচনী আচরণবিধিতে আলাদা কোনো বিধান রাখা হয়নি।

প্রায় দুই বছর ধরে রাজনীতিতে অপাঙ্‌ক্তেয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সুযোগটি নিতে পারেন বলে জানিয়েছেন নির্বাচন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, যেহেতু নির্দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে এবং বিধিমালায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীর অংশ নেওয়ায় কোনো বিধিনিষেধ দেওয়া হয়নি। সেহেতু দলটির একাংশ প্রার্থী হতে পারেন।

আগস্টে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে চায় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এজন্য বেশ কিছু পরিবর্তন এনে নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা প্রকাশ করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কমিশন সভায় আলোচনা হলেও কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কেউ নির্বাচন করতে পারবেন না– এমন বিধান শেষপর্যন্ত আচরণবিধিতে যুক্ত করেনি ইসি। ফলে শুধু প্রার্থিতার যোগ্যতা থাকলেই নির্বাচন করতে পারবেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।

নির্বাচন বিশ্লেষক আব্দুল আলীম স্ট্রিমকে বলেন, ‘নির্দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হওয়ায় আওয়ামী লীগের একটা অংশ আসতে পারে। তবে নির্বাচনে কতটুকু সফলতা পাবে, সেটা নির্ভর করবে আওয়ামী লীগের কোন শ্রেণির মানুষ নির্বাচন করবেন এবং তাদের গ্রহণযোগ্যতা কেমন।’

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানও একই ধরনের কথা সাংবাদিকদের বলেছেন। সম্প্রতি সচিবালয়ে এক অনুষ্ঠানে সাধারণ শর্ত মানলে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী নির্বাচন করতে পারবেন বলে জানান তিনি।

ডা. জাহেদ বলেছিলেন, ‘একজন যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চান, তিনি যদি আওয়ামী লীগের হয়েও নির্দলীয় থাকেন, তবে পারবেন। কারণ, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়। এখানে কেউই দলের কথা বলবেন না।’

বর্তমানে প্রতিদিনই ঝটিকা মিছিল করছে আওয়ামী লীগ, এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী। পুলিশ আসার আগেই নেতাকর্মীরা সটকে পড়ছেন। পরে ভিডিও দেখে মিছিলকারীদের গ্রেপ্তার করছে পুলিশ। ইসির সিদ্ধান্তের পরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে নেতাকর্মীরা প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সক্রিয় হচ্ছেন বলে জানা গেছে।

দলটির একাধিক নেতা জানিয়েছেন, উপযুক্ত পরিবেশ থাকলে স্থানীয় সরকারের সব পর্যায়ের নির্বাচনই করতে পারেন দলের নেতাকর্মীরা। এমনকি দলের পক্ষ থেকে প্রার্থীও ঘোষণা করা হতে পারে।

ভোটের বাইরে রাখার চিন্তা ছিল শুরুতে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীদের অযোগ্য করে বিধান রাখা হয়েছিল। স্থানীয় সরকারের আচরণবিধিতেও তেমন বিধান যুক্ত করার চিন্তা ছিল ইসির। আলোচনাও হয়। তবে শেষমুহূর্তে তা আর যোগ করা হয়নি।

একজন যদি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চান, তিনি যদি আওয়ামী লীগের হয়েও নির্দলীয় থাকেন, তবে পারবেন। কারণ, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয়। এখানে কেউই দলের কথা বলবেন না।ডা. জাহেদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

ইসির সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, আচরণ বিধিমালা নিয়ে যতগুলো কমিশন সভা হয়েছে, সবগুলোতেই এই বিষয়ে আলোচনা করেছেন কমিশনাররা। শেষ সভার আগপর্যন্ত বিধান যুক্ত করার বিষয়টি প্রায় চূড়ান্তই ছিল। কিন্তু শেষ সভায় এটি আর যুক্ত করা হয়নি।

নাম প্রকাশ না করা শর্তে এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, প্রথম সভার পর যে খসড়া করা হয়, সেখানে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিষিদ্ধ বা নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন কোনো রাজনৈতিক দল বা সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই– এই মর্মে অঙ্গীকারনামায় সই দেওয়ার বিধান যুক্ত করার বিষয় ছিল। পরের কয়েকটি সভায় আলোচনাও হয়। কিন্তু শেষ সভায় বিধানটি খসড়া থেকে বাতিল করা হয়।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ স্ট্রিমকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে বাদ দেওয়ার মতো কোনো বিধান আচরণবিধিতে রাখিনি। কারণ, এটা দলীয় নির্বাচন হবে না। যিনি প্রার্থী হবেন, যোগ্যতা থাকলে অবশ্যই পারবেন। ছেলে না মেয়ে, হিন্দু না মুসলমান– এসবের কোনো বিষয় নেই আমাদের। প্রার্থী বিএনপি না আওয়ামী লীগ করে; জামায়াতে ইসলামী না কমিউনিস্ট পার্টি করে, তা আমরা দেখব না।’

তিনি আরও বলেন, ‘হলফনামায় আমরা কোনো অঙ্গীকারনামা দেব না। কারও জন্যই না। হলফনামা একটা ফরমের সঙ্গে থাকবে। সঙ্গে শুধু ঘোষণাপত্র থাকবে। সেখানে আমরা যোগ করে দেব, যিনি আচরণবিধি মেনে চলতে পারবেন; অর্থাৎ যোগ্যতা থাকলে যে কেউ প্রার্থী হতে পারবেন।’

দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আওতায় পড়ে সিটি করপোরেশন, উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ। ইসির নির্বাচন পরিচালনা শাখার তথ্যমতে, দেশে ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। এ ছাড়া ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৫টি উপজেলা, নবগঠিত বগুড়াসহ ১৩টি সিটি করপোরেশন রয়েছে।

মাঠপর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) দিয়ে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি। এরপর সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং শেষ ধাপে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন হবে।