Image description

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জনগণের রায়ের বিরুদ্ধে যারা কথা বলেন, তারা বিএনপিকে পাঁচ বছর সময় দিতে চান না। এ ধরনের বক্তব্যের বিরুদ্ধে জনগণকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, জনগণ বিএনপিকে পাঁচ বছর সময় দিয়েছে দেশকে ঠিক করার জন্য। যারা বলে বিএনপিকে পাঁচ বছর সময় দেওয়া যাবে না, তাদের বিরুদ্ধে জনগণকে সজাগ থাকতে হবে।

মনে আছে ১৯৭১ সালে তারা কী করেছিল? ১৯৮৬ সালে কী করেছিল? সেই সময়ের আন্দোলনে তারা কোথাও ছিল না।

তিনি আরও বলেন, আজ যদি আন্দোলনে শহীদদের তালিকা করা হয়, দেখা যাবে যে নিহত ছাত্রটি ছাত্রদলের কর্মী, যুবকটি যুবদলের কর্মী।

যে গুম হয়েছে, সে যুবদলের কর্মী। যারা জেল খেটেছে বা বছরের পর বছর মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছে, তারা শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়ার কর্মী।

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ বিএনপিকে পাঁচ বছর সময় দিয়েছে দেশ পরিচালনার জন্য। স্বৈরাচার দেশকে ফেলে রেখে চলে গেছে। যারা বিএনপিকে সময় দিতে চায় না, তারা আবার প্রশ্ন তোলে-ফ্যামিলি কার্ড কোথা থেকে আসবে, টাকা কোথায় পাওয়া যাবে?

তিনি আরও বলেন, বিগত এক যুগে আমরা দেখেছি কীভাবে দেশের মানুষের অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে, যার সাক্ষ্য সারা বিশ্ব দিয়েছে। এখন থেকে আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সেই অর্থপাচার রোধ করব। বাংলাদেশের মানুষের সম্পদ এই দেশেই থাকবে, বাইরে যেতে পারবে না।

বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আয়োজিত তৃতীয় ধাপের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন, হুইপ জি কে গৌছ, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য শওকতুল ইসলাম শকু, মৌলভীবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য নাসির উদ্দীন আহমেদ মিঠু এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য জহরত আদিব চৌধুরীসহ অনেকে।

বক্তব্যের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে একযোগে দেশের ২০টি জেলায় ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাইলটিং কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধন করেন এবং উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে দেশের ছাত্র-জনতা, নারী-পুরুষ সবাই একসঙ্গে রাজপথে নেমে এসে। এই দেশ স্বাধীন করেছে জনগণ, স্বৈরাচারমুক্তও করেছে জনগণ। এখন দেশ গড়ার দায়িত্বও জনগণের।

তিনি বলেন, দেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত। এই হাত যদি অলস হয়ে থাকে, তাহলে দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। দেশ গড়তে হলে সরকার ও জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সরকারের যেমন দায়িত্ব আছে উন্নয়ন, শিক্ষা, নারীর নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার, তেমনি জনগণেরও নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে।