Image description

দেশের বিমানবন্দরগুলোয় গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবায় একচেটিয়া আধিপত্যের অবসান হতে যাচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবায় বিমানের পাশাপাশি নিয়োগ দেওয়া হবে দ্বিতীয় একটি অপারেটর।

বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদস্য (এটিএম) মো. নূর-ই-আলম আগামীর সময়কে বলেছেন, বিমানের পাশাপাশি দ্বিতীয় একটি অপারেটর নিয়োগ করার বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ের সিদ্ধান্ত।

তিনি জানান, তৃতীয় টার্মিনাল যারা পরিচালনা করবেন, তারাই বিমানের পাশাপাশি নতুন গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার নির্বাচন করবেন। নতুন গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার নির্বাচনের পর তাদের অনুমোদন দেবে বেবিচক। তবে টার্মিনাল পরিচালনাকারীদের সঙ্গে এখনো বেবিচকের কোনো চুক্তি সম্পন্ন হয়নি।

 

 

সূত্র জানায়, আগামী জুলাই মাসের তৃতীয় সপ্তাহে জাপানি একটি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে এ চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে। এরপরই নতুন গ্রাউন্ড হ্যান্ডলার নিয়োগের বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।

এদিকে এখন পর্যন্ত হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে কয়েকটি দেশ ও প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে সুইজারল্যান্ডের কোম্পানি সুইসপোর্ট, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডানাটা, যুক্তরাজ্যের মেনজিস এবং তুরস্কের কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।

তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পাচ্ছে সুমিতোমো করপোরেশনের নেতৃত্বাধীন জাপানি একটি কনসোর্টিয়াম।

‘আগামী ১৯ জুলাইয়ের মধ্যে জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি সই হতে পারে’— সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটি জানিয়েছেন বিমান প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

 

 

২০২৪ সালের অক্টোবরে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সকে প্রাথমিকভাবে দুবছরের জন্য নবনির্মিত এই তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।

তবে এ নিয়ে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর তীব্র আপত্তি ছিল। মূলত রাষ্ট্রায়ত্ত এ সংস্থার সেবার মান নিয়ে উদ্বেগের কারণেই তখন এমন আপত্তি উঠেছিল। সেই সময় থেকেই দ্বিতীয় একটি অপারেটর নিয়োগের বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় ছিল।

যাত্রী ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো প্রায়ই বিমানের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা, বিশেষ করে ব্যাগেজ হ্যান্ডলিংয়ের ধীরগতি ও অদক্ষতা নিয়ে সমালোচনা করে আসছে। যদিও ঢাকা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, গত কয়েক বছরে ব্যাগেজ সরবরাহের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে।