Image description

কয়েক দিন পরপরই মেহেরপুরের কোথাও না কোথাও মিলছে বোমাসদৃশ বস্তু। কখনো দোকানের সামনে, কখনো বাড়ির গেটে। সঙ্গে থাকছে হুমকির চিরকুট, কোথাও আবার কাফনের কাপড়। এসব ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে জনমনে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে না পারায় বাড়ছে উৎকণ্ঠা।

সর্বশেষ আজ বুধবার সকালে গাংনী উপজেলার নওদা মটমুড়া গ্রামে একটি দোকানের সামনে মিলেছে বোমাসদৃশ বস্তু ও চিরকুট। তাতে বিএনপির উদ্দেশে লেখা হুমকিবার্তা।

এসব উদ্ধার করা হয় নওদা মটমুড়া গ্রামের শরিফুল ইসলামের দোকানের সামনে থেকে। চিরকুটে লেখা, ‘এই দোকানে বিএনপির কোনো লোক বোসবি না। যারা বোসবি তাদের সমস্যা আছে। এই গ্রামে বিএনপির নামগন্ধ রাখবো না।’

দোকানমালিক শরিফুল জানিয়েছেন, প্রতিদিনের মতো গত মঙ্গলবার রাতে দোকান বন্ধ করে চলে যান বাড়ি। আজ বুধবার সকালে দোকান খুলতে এসে সামনে বোমার মতো বস্তু ও চিরকুট দেখতে পান। আতঙ্কিত হয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় খবর দেন গাংনী থানায়। পুলিশ গিয়ে উদ্ধার করে সেসব।

গাংনী থানার ওসি মুহাদ্দিস মোর্শেদ চৌধুরী আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে ঘটনাটি। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে চেষ্টা চলছে আটকের।

গত কয়েক মাসে মেহেরপুরের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২১টি বোমাসদৃশ বস্তু, হুমকির চিরকুট ও কাফনের কাপড় মিলেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয়রা।

সম্প্রতি চরগোয়াল গ্রামের একটি দোকানের সামনে থেকে উদ্ধার করা হয় হাতবোমা ও রাজনৈতিক হুমকির চিরকুট। গাংনী পৌর এলাকার চৌগাছা গ্রামের এক ব্যবসায়ীর বাড়ি, এলাঙ্গী গ্রামের এক ব্যক্তির বাড়ি এবং গোপালনগরের এক বিএনপি নেতার দোকানের সামনেও পাওয়া যায় বোমাসদৃশ বস্তু, কাফনের কাপড় ও চিরকুট।

গত ১৮ মে সকালে জোড়পুকুরিয়া গ্রামে বাবলু মিয়ার মুদিদোকানের সামনে থেকে উদ্ধার করা হয় দুটি বোমাসদৃশ বস্তু এবং ১৮ জন বিএনপি নেতাকর্মীর নামে হত্যার হুমকির চিরকুট। তার আগের দিন কাজিপুর ইউনিয়নের হাড়াভাঙ্গা হাজিপাড়া এলাকার ইউসুফ আলীর বাড়ির সামনে পাওয়া যায় বোমাসদৃশ বস্তু, কাফনের কাপড় ও চাঁদা দাবির চিরকুট।

৬ মে সকালে সীমান্তবর্তী তেঁতুলবাড়িয়া গ্রামের হাজিপাড়ায় সানোয়ার হোসেন পলাশের বাড়ির গেটের সামনে পাওয়া যায় কালো স্কচটেপে মোড়ানো একটি হাতবোমা। গায়ে লেখা ছিল, ‘হাত দিলেই ব্লাস্ট।’

এর তিন দিন আগে উপজেলার চরগোয়াল গ্রামে মাথাভাঙ্গা নদীর পাড়ে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির পাশ থেকে উদ্ধার করা হয় লাল স্কচটেপে মোড়ানো আরও একটি হাতবোমা। ওই গ্রামে আগেও একাধিকবার হাতবোমা ও হুমকির চিরকুট পাওয়া গেছে।

এসব ঘটনায় পুরনো আতঙ্ক ফিরে এসেছে জেলার মানুষের মধ্যে। একসময় চরমপন্থী সংগঠনগুলোর তৎপরতায় রক্তাক্ত জনপদে পরিণত হওয়া মেহেরপুরে আবারও ঘনীভূত হচ্ছে নানা আশঙ্কা।

গাংনী বাজার কমিটির সাবেক সভাপতি সালাউদ্দিন শাওন বলেছেন, প্রায় প্রতিদিন জেলার কোথাও না কোথাও বোমা, কাফনের কাপড় বা হুমকির চিরকুট উদ্ধার হচ্ছে। এতে মানুষের মধ্যে আবারও সেই পুরনো ভীতি ফিরে আসছে।

গাংনী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান বাবলু জানিয়েছেন, বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রশাসনকে আরও কঠোর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান তার।

জেলা বিএনপির সভাপতি জাভেদ মাসুদ মিল্টন বলেছেন, অপরাধী যেই হোক, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ মেহেরপুর গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।

গাংনী থানার ওসি মুহাদ্দিস আগামীর সময়কে জানালেন, বেশিরভাগ ঘটনাই এই উপজেলার। 'বোমাসদৃশ্য বস্তুগুলো অনেকটা ককটেল ও হাতবোমার মতো। আমরা এগুলো শনাক্ত ও নিষ্ক্রিয় করার জন্য পুলিশ হেডকোয়ার্টারে আবেদন করেছি। সেখান থেকে ডিস্পোজাল টিম আসলে বলা যাবে এগুলো আসলে বোমা, নাকি ককটেল। তবে একের পর এক এসব বস্তু উদ্ধারের ঘটনায় জড়িতদের কাউকে এ পর্যন্ত আটক হয়নি। আমাদের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে'- বললেন তিনি।

মেহেরপুরের পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় জানিয়েছেন, বোমাসদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। শিগগিরই প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করে আইনের আওতায় আনা হবে জড়িত ব্যক্তিদের।