সংসদে বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় জামায়াতে ইসলামীর এক সংসদ সদস্যের বক্তব্যের কিছু অংশকে ‘অরুচিকর ও অশ্লীল’ উল্লেখ করে তা কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ (বাতিল) করার নির্দেশ দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। একই সঙ্গে সংসদের রীতি-নীতি মেনে চলার বিষয়ে সংসদ সদস্যদের সতর্ক করেন তিনি।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের অষ্টম দিন সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুস সাত্তার সরকার একটি উপমা ব্যবহার করেন। তিনি একটি গল্প তুলে ধরে বলেন, ‘আমি প্রস্তাবনা পেশ করছি মাননীয় স্পিকার এক একটা গল্প বলতে হয়, চালুনি এবং সুচের কথোপকথন। চালুনি সুচকে বলে যে তোমার পাছায় তো ফোটা, তুমি আবার বড় কথা বল কীভাবে? সুচ বলে, চালুনিরে তুমি শুধু আমার একটা ফোটা দেখো কিন্তু তোমার পাছায় যে হাজারও ফোটা—সেক্ষেত্রে তোমার কোনও নজর নাই।’
এ সময় মাইক বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে আবার মাইক পেয়ে একই উদাহরণ তুলে ধরেন ওই সংসদ সদস্য।
এ সময় ব্যবহৃত কিছু শব্দের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে স্পিকার তাকে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, বক্তব্য রাখার সময় সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। অরুচিকর ও অশ্লীল কোনও কথা সংসদে উচ্চারিত হওয়া কাম্য নয়। বক্তব্যে ব্যবহৃত কিছু শব্দ এক্সপাঞ্জ করা হলো।
প্রসঙ্গত, সংসদীয় কার্যপ্রণালি অনুযায়ী এক্সপাঞ্জ করা বক্তব্য বা শব্দ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়া হয় এবং তা সংসদের আনুষ্ঠানিক নথির অংশ হিসেবে গণ্য হয় না।
এর আগে আলোচনায় অংশ নিয়ে আব্দুস সাত্তার প্রস্তাবিত বাজেটের সমালোচনা করে বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও রাজস্ব আদায়ের উচ্চ লক্ষ্যমাত্রার কারণে সাধারণ মানুষের ওপর পরোক্ষ করের চাপ বাড়তে পারে। নিত্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকলে জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়বে। বড় বাজেট ঘাটতি ব্যাংকঋণ নির্ভরতা বাড়াতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মাদ্রাসা শিক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হলেও মাদ্রাসা সরকারিকরণের বিষয়ে দৃশ্যমান কোনও উদ্যোগ নেই। তিনি প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মাদ্রাসা সরকারি করার প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি নীলফামারীর ডোমার ও ডিমলায় কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য হিমাগার ও সংরক্ষণাগার স্থাপনের দাবি জানান।
একই দিনে সংসদীয় কার্যপ্রণালি ও শৃঙ্খলা মেনে বক্তব্য দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। পয়েন্ট অব অর্ডার নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি বলেন, সংসদ হুটহাট করে কথা বলার জায়গা নয়, নির্ধারিত বিধি ও সংবিধান অনুসরণ করেই বক্তব্য দিতে হবে।
স্পিকার বলেন, সংসদ চলে কার্যপ্রণালি বিধি ও সংবিধানের ভিত্তিতে। এখানে ৩৫০ জন সদস্যের সমান অধিকার রয়েছে, তবে সব কার্যক্রম নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্য দিয়েই পরিচালিত হয়।
তিনি আরও বলেন, প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে পয়েন্ট অব অর্ডার তোলার সুযোগ থাকে। বাজেট অধিবেশনের সময় গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক আলোচনা চলায় এ ধরনের বিষয়ে সীমিত সুযোগ দেওয়া হয়। কোনও বিষয়ে আলোচনা করতে হলে বিধি অনুযায়ী আগে নোটিশ দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। সংসদীয় রীতি বজায় রাখার জন্য তিনি সব সদস্যের প্রতি আহ্বান জানান।
স্পিকার সংসদ সদস্যদের কাগজ দেখে একনাগাড়ে বক্তব্য পাঠ করার প্রবণতার প্রতিও আপত্তি জানান। তিনি বলেন, সংসদীয় রেওয়াজ অনুযায়ী সদস্যদের না দেখে বক্তব্য দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। লিখিত বক্তব্য পাঠ করতে হলে স্পিকারের পূর্বানুমতি নেওয়ার বিধান রয়েছে।
তবে স্পিকারের সতর্কতা সত্ত্বেও কয়েকজন সংসদ সদস্যকে লিখিত বক্তব্য পাঠ করতে দেখা যায়।