সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘দুর্নীতি সব জায়গায় হয়, কিন্তু ঘুরে-ফিরে সব দোষ রাজনীতিবিদের হয়। যতগুলো ফাইল স্বাক্ষর হয়— লাস্টে রাজনীতিবিদকে স্বাক্ষর করতে হয়। এ জন্য সব দোষ তার।’
আজ সোমবার জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার এক বক্তব্যের জবাবে এসব কথা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
এর আগে রুমিন ফারহানা বলছিলেন, তিনি গুগলে সার্চ দিয়ে দেখেছেন— দেশে দুর্নীতিতে ‘টপ মোস্ট’ দুটি পেশা কী। এক নম্বরে রাজনীতিবিদদের নাম, দুই নম্বরে আছে আমলাদের নাম। রাজনীতি করলে পয়সা উৎপাদন হয়। এটা সম্ভবত বাংলাদেশের মতো দেশেই সম্ভব। যেই দেশটি অতীতে টানা পাঁচবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
পটুয়াখালী-২ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেছেন, দুদকের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণে আমরা হতাশ। দীর্ঘদিন ধরে আমরা লক্ষ করছি— এখানে স্বাধীনতা বলতে কিছু থাকে না। একটা প্রভাব তাদের ওপরে বিস্তার করে। চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের জন্য স্বচ্ছ সার্চ কমিটি লক্ষ করি না।
সংসদে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেটে দুদকের অতিরিক্ত মঞ্জুরি দাবির ওপর ছাটাই প্রস্তাবের আলোচনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলছেন, একটি শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গঠনের জন্য সার্চ কমিটিতে প্রধান বিচারপতি তার প্রতিনিধির নাম পাঠিয়েছেন গতকাল (রবিবার)। তাই এখন যে কোনো সময় সরকার এই সার্চ কমিটি করবে।
তিনি আরও বলেছেন, ‘হয়তো আপনারা মনে করে নিয়েছেন সরকার আন্তরিক না। সরকার আন্তরিক ছিল। চিঠি দিয়েছে, সার্চ কমিটি গঠন করা হবে। দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করা হবে। দুর্নীতির সমস্ত বিষয় এড্রেস করা হবে। কিন্তু আমরা সহযোগিতা পাইনি। গতকালকে (রবিবার) কেবল সই করে দিয়েছেন, বহু দিন গড়িয়ে গেছে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুদকের জন্য অতিরিক্ত মঞ্জুরি দাবি সংসদে তোলেন।
একটি শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠিত হবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, দুদকের চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের লক্ষ্যে সার্চ কমিটি গঠন করা হচ্ছে। সার্চ কমিটি আগের আইনেও ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের অধ্যাদেশটা গ্রহণ করা না গেলেও আগের আইনটা রিভাইভ হয়েছে। ওখানেও সার্চ কমিটি আছে।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, শক্তিশালী দুদক গঠন করা হবে বলে দুদক অধ্যাদেশ গ্রহণ করা হয়নি। এখন এটা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি দািব করেন, দুর্নীতি দমন কমিশন বিল সংসদে পাস হলে তখন আরো শক্তিশালী দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন হবে।