কুমিল্লায় ইসলামী ব্যাংক পিএলসির এক গ্রাহকের হিসাব থেকে ১৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা অন্য ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে স্থানান্তরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ছয়জনকে আসামি করে আদালতে মামলা করা হয়েছে।
রোববার (১৪ জুন) কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-১ আদালতে মামলাটি করেন ভুক্তভোগী গ্রাহক মো. হাসান মজুমদার। আদালতের বিচারক মোমিনুল হক অভিযোগটি আমলে নিয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানাকে এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
মামলার আসামিরা হলেন মো. মোশাররফ হোসেন, মো. শাহাদাত হোসেন, মো. মনির হোসেন, মো. জসিম উদ্দিন, মো. রুবেল ও মো. সোহাগ। তাদের ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরেই এসব টাকা স্থানান্তর হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১ থেকে ৪ জুনের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে মো. হাসান মজুমদারের ইসলামী ব্যাংকের হিসাব থেকে মোট ১৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে স্থানান্তর করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব লেনদেনের বিষয়ে তাকে জানানো হয়নি বা কোনো মেসেজ দেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগীর দাবি, ৭ জুন টাকা উত্তোলনের জন্য ব্যাংকে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, তার হিসাবে ১৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা নেই। পরে অনুসন্ধান করে জানতে পারেন, ওই টাকার একটি অংশ রাজধানীর মিরপুর-১ এলাকার একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিকের ব্যাংক হিসাবে, বরিশালের ধামুড়া বাজার এলাকার এক ব্যক্তির হিসাবে এবং কয়েকটি মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে পাঠানো হয়েছে।
হাসান মজুমদার বলেন, আমার সঞ্চিত অর্থ ফেরত পেতে আমি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করছি।
এ বিষয়ে ইসলামী ব্যাংক কুমিল্লা শাখার ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ হোসাইন আখতার বলেন, কোনো হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন বা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে সাধারণত গ্রাহকের মোবাইল নম্বরে বার্তা বা নোটিফিকেশন যায়। এমন কোনো ঘটনার বিষয়ে আমাদের কাছে এখনও আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই। আদালত বা তদন্ত সংস্থা তথ্য চাইলে আমরা প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করব।
বাদীপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ মনির হোসেন পাটোয়ারী বলেন, গ্রাহকের হিসাব থেকে অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগে আদালতে মামলা করা হয়েছে। আদালত মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণের জন্য কোতোয়ালি মডেল থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, আদালতের নির্দেশনার নথি এখনো আমাদের হাতে পৌঁছায়নি। নথি পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।