Image description

দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট নিরসনে নতুন গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সারা দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শূন্যপদের তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

রবিবার (১৪ জুন) রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এ তথ্য জানান।

সংসদ সদস্য আখতার হোসেন তার প্রশ্নে জানতে চান, তার নির্বাচনী এলাকায় সরকারি ও এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে মোট কতটি শিক্ষকের শূন্যপদ রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি জানতে চান, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে চলমান নিয়োগ কার্যক্রমে এসব শূন্যপদ পূরণের জন্য কোনো বিশেষ অগ্রাধিকার বা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে কি না।

জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, বর্তমানে দেশের এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষক নিয়োগের জন্য ই-রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে মোট ৭৭ হাজার ৭৯৯টি শূন্যপদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এসব শূন্যপদে শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে শিগগিরই নতুন গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। নতুন গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তালিকাভুক্ত শূন্যপদগুলো পূরণের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করা হবে।

এর আগে, রবিবার (১৪ জুন) রাজধানীতে ইউনিসেফ আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের প্রাথমিক শিক্ষাখাত অত্যন্ত বড় একটি সেক্টর। বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ১৮ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে এবং মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ। এর মধ্যে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা প্রায় ৬৫ হাজার ৫০০। প্রতিটি বিদ্যালয়ে ওয়াশরুম থাকলেও সেগুলোর মানোন্নয়নে কাজ চলছে।

শিক্ষক নিয়োগ প্রসঙ্গে এহছানুল হক মিলন বলেন, বিচারাধীন মামলার কারণে প্রায় ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষক নিয়োগ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে আটকে আছে। এছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট প্রায় ৮৩ হাজার মামলা বর্তমানে বিচারাধীন থাকায় অনেক বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ১৪ হাজার ৩০০ প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছিল। তবে খুব দ্রুততার সঙ্গে সেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ফলে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দুই বছরের প্রোবেশন রেখে ধাপে ধাপে তাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।