Image description
জুলাই যোদ্ধা শাহীনুর হত্যা

উনিশ বছর বয়সি শাহীনুর আলম। গ্রামের বাড়ি লালমনিরহাট সদরের বড় বাসুরিয়ায়। তিনি স্থানীয় একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসায় লেখাপড়া করতেন। ২০২৪ সালের ২৭ জুন গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকার লালবাগে ফুফাতো ভাইয়ের বাসায় বেড়াতে আসেন। এরপর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন শুরু হলে তিনিও আন্দোলনে যোগ দেন। ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হলেও তার অনুসারীরা সংঘবদ্ধ হয়ে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে বিভিন্ন স্থানে হামলা করতে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় ৬ আগস্ট ভোরে লালবাগের শহীদনগর বেড়িবঁাঁধ এলাকায় শাহীনুরকে গুলি করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ২৭ আগস্ট নিহতের বড় ভাই মাজেদুল ইসলাম বাদী হয়ে লালবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় লালমনিরহাট জেলার ৭৩ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২৫০-৩০০ জনকে আসামি করা হয়। ঘটনাস্থল লালবাগ থানা হলেও এ মামলার আসামি করা হয় লালমনিরহাট জেলার বিভিন্ন ব্যক্তিকে। এ নিয়ে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রীতিমতো হতবাক হয়েছেন।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদৗল্প-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, লালবাগ থানা এলাকায় শাহীনুর নিহত হলেও আসামি করা হয়েছে লালমনিরহাটের। মামলার সার্বিক তদন্ত, প্রাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণ, ঘটনার পারিপার্শ্বিকতা, নিহত শাহিনুরের মৃত্যু সনদ পর্যালোচনা, জব্দ তালিকা, জব্দকৃত আলামত তদন্তকালে প্রাপ্ত ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা, সরেজমিন স্থানীয় সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ ও ঘটনার পারিপার্শ্বিকতায় লালমনিরহাটের ৭৩ জনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। ফলে লালমনিরহাটের ওই ৭৩ আসামিকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হবে। পাশাপাশি এ মামলার সার্বিক তদন্তে এ পর্যন্ত লালবাগের স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের ১৪ জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। মামলার সার্বিক বিষয় সামনে রেখে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় সম্পৃক্ত সবাইকে আসামি করা হবে।

লালবাগের ১৪ আসামি হলেন ঢাকা-৭ আসনের সাবেক এমপি সোলাইমান সেলিম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর হাসিবুর রহমান ভূঁইয়া মানিক, কামরাঙ্গীরচর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হোসেন সরকার, লালবাগ থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরজু মিয়া, কামরাঙ্গীরচর থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সায়েদুর রহমান রতন, রাডো সুজের মালিক হাজী সিরাজুল ইসলাম রাডো, আওয়ামী লীগের কর্মী এমদাদুল হক, সাজ্জাদ হোসেন নাসির, ওয়ালী উল্লাহ শিবলু, ওলি উল্লাহ শিপলু, জসিম উদ্দিন মুন্সী, জাহিদুল ইসলাম পাভেল, আহসান উল্লাহ, ছাত্রলীগের কর্মী সিয়াম হোসেন এবং রাতুল।

যাদের অব্যাহতি দেওয়া হবে সেই ৭৩ জন আসামির সিডিআর পর্যালোচনা করে পিবিআই বলছে, ঘটনার দিন, তারিখ ও সময়ে আসামিরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। এ ছাড়া স্থানীয় তদন্তে সাক্ষ্যপ্রমাণে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া মামলায় এজাহার বহির্ভূত ১৪ আসামির সিডিআর পর্যালোচনা করে পিবিআই বলছে, বিশ্বস্ত সোর্সের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য, স্থানীয় সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং নিহতের মেডিকেল সার্টিফিকেট পর্যালোচনায় আসামিদের জড়িত থাকার বিষয়ে সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে, লালমনিরহাট এলাকার রাজনৈতিক বিরোধ ও ব্যক্তিগত শত্রুতাকে কেন্দ্র করে ওই ৭৩ জনকে আসামি করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে পিবিআই ঢাকা মেট্রোর (দক্ষিণ) পুলিশ সুপার এস এম মোস্তাইন হোসেন বলেন, শাহীনুর হত্যা মামলাটির তদন্ত প্রায়ই শেষ। আমরা দ্রুতই আদালতে চার্জশিট দেব।