আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রত্যাশা ছিল জনগণের। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ছাড়া সরকারের কারও মধ্যে পরিবর্তনের তেমন কোনো ছাপ দেখা যাচ্ছে না।
শনিবার (১৩ জুন) রংপুর জেলা পরিষদ কমিউনিটি সেন্টারে এবি পার্টির রংপুর বিভাগীয় প্রতিনিধি সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিনিধিরা সংসদে রয়েছেন। বর্তমান সরকারি ও বিরোধী দল একই সঙ্গে অতীতে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন করেছে। ফলে সংসদে সংস্কার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিষয় বেশি গুরুত্ব পাওয়ার কথা। তা সত্ত্বেও পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির ধারাবাহিকতাই বেশি। তিনি আরও বলেন, সংসদে একে অপরকে দোষারোপ এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
সীমান্তে পুশইনের বিরুদ্ধে স্থানীয় জনগণ ও বিজিবির প্রতিরোধের প্রশংসা করে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, জনগণ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঐক্যই দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার শক্তি। তিনি এ বিষয়ে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মত নিন্দা প্রস্তাবের আহ্বান জানান।
প্রস্তাবিত বাজেটের সমালোচনা করে মঞ্জু বলেন, প্রায় ১০ শতাংশের কাছাকাছি মূল্যস্ফীতি নিয়ে ঋণনির্ভর ও ঘাটতিপূর্ণ এই বাজেট জনগণের সমস্যা সমাধান করতে পারবে না। তিনি অভিযোগ করেন, সরকার ব্যাংকিং খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পরিবর্তে নতুন ঝুঁকি সৃষ্টি করছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এবি পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ডা. মেজর (অব.) আবদুল ওহাব মিনার বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই ফ্যাসিবাদের বিদায় হয়েছে। তাই জনগণের প্রত্যাশার ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন জরুরি। ভারতের সাম্প্রতিক সীমান্তনীতির সমালোচনা করে এসব ঘটনা বন্ধে সরকারকে কার্যকর কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এবি যুব পার্টির আহ্বায়ক শাহাদাতুল্লাহ টুটুল বলেন, রংপুরের মাটি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শহীদ আবু সাঈদের আত্মত্যাগ দেশের ইতিহাসে স্মরণীয়। তিনি সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি দমনে সরকারের আরও কার্যকর ভূমিকা এবং তরুণদের কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রতিনিধি সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন রংপুর মহানগর কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবদুর রউফ।