Image description

দ্রুত নগরায়ণের গতি এখন আর শুধু বড় শহরগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। শহরের বাইরের গ্রাম, উপশহর আর শিল্পাঞ্চলগুলোও ধীরে ধীরে শহরের মতো চরিত্র ধারণ করছে। এই পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ‘শহর’ কাকে বলা হবে? সেটা নিয়ে বিস্তর আলোচনার প্রয়োজন আছে।

ভারতের নগর উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সময়ের সঙ্গে মানুষের জীবনযাপন, কাজের ধরন এবং বসতির কাঠামো অনেক বদলে গেছে। আগে যে মানদণ্ডে শহর ও গ্রাম আলাদা করা হতো, এখন সেই সীমারেখা অনেক জায়গায় অস্পষ্ট হয়ে পড়ছে। ফলে পুরোনো সংজ্ঞা দিয়ে বর্তমান বাস্তবতাকে পুরোপুরি বোঝা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

দেশের বহু এলাকায় দেখা যাচ্ছে, মানুষ কৃষির বদলে শিল্প, সেবা বা লজিস্টিক খাতে কাজ করছে। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ চাকরি ও ব্যবসার কারণে গ্রাম থেকে শহরে যাতায়াত করছে। একই সঙ্গে রাস্তা, বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট ও পরিবহন ব্যবস্থার উন্নতির ফলে গ্রামীণ অনেক এলাকা শহরের মতো সুবিধা পাচ্ছে। তবুও প্রশাসনিকভাবে এসব অঞ্চল এখনও ‘গ্রাম’ হিসেবেই রয়ে গেছে।

ভারতে বর্তমানে শহর নির্ধারণ করা হয় দুইভাবে। একটি হলো পৌরসভা বা নগর কর্তৃপক্ষ পরিচালিত ‘স্ট্যাটুটরি টাউন’, আরেকটি হলো জনশুমারির নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণ করা ‘সেন্সাস টাউন’। কিন্তু এই কাঠামো এখন আর অনেক উদীয়মান নগর অঞ্চলের বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে পারছে না।

এই বৈষম্যের কারণে উন্নয়ন পরিকল্পনাতেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে। যেসব এলাকা শহরের মতো জীবনযাপন করছে, তারা অনেক সময় শহরের মতো বাজেট, অবকাঠামো বা প্রশাসনিক সুবিধা পাচ্ছে না। আবার গ্রাম হিসেবে থাকা সত্ত্বেও তাদের ওপর শহুরে চাপ ও চাহিদা বাড়ছে, যা স্থানীয় প্রশাসনের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

বিশ্বজুড়েই এখন নগরায়ণের ধরন বদলাচ্ছে। বড় শহরের কেন্দ্র থেকে বাইরে ছড়িয়ে পড়া বসতি, শিল্প করিডর এবং মেট্রো অঞ্চলের বিস্তার নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে। ভারতও সেই পরিবর্তনের বাইরে নয়। ফলে শুধু শহরের সীমানা নয়, পুরো অঞ্চলকে কীভাবে পরিকল্পনার আওতায় আনা যায় এ প্রশ্ন রয়েছে।

ভারতে জনশুমারি ২০২৭ শুরু হতে যাচ্ছে। এবারের জনশুমারিতে ভারতের নগর ভবিষ্যৎ নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত হতে পারে। ‘শহর’ ও ‘গ্রাম’ এই দুই ধারণার সংজ্ঞা বদলালে উন্নয়ন নীতি, বাজেট বণ্টন ও প্রশাসনিক কাঠামোতেও বড় পরিবর্তন আসতে পারে। তথ্যসূত্র : দ্য ট্রিবিউন