শিক্ষিত তরুণ-তরুণীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রাপ্তির আগ পর্যন্ত ‘বেকার ভাতা’ প্রদানের যে প্রতিশ্রুতি বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপি দিয়ে আসছিল, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা রূপরেখা ও নির্বাচনী ইশতেহারে থাকলেও বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেটে উপেক্ষিতই থাকছে এই ভাতা।
২০২৩ সালের ১৪ জুলাই বিএনপির পক্ষ থেকে রাষ্ট্র মেরামতে ৩১ দফা রূপরেখা ঘোষণা করা হয়। ওই রূপরেখার ২২ দফায় যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে আধুনিক যুব-উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। সেই ধারাবাহিকতায় শিক্ষিত বেকারদের জন্য ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ এক বছর কিংবা কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত বিশেষ আর্থিক ভাতা প্রদানের ঘোষণা দেওয়া হয়, যা পরবর্তীতে নির্বাচনী ইশতেহারেও স্থান পায়।
গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিটিভিতে দেওয়া ভাষণে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও এই প্রতিশ্রুতির পুনরাবৃত্তি করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বিভিন্ন পরিসংখ্যন অনুযায়ী বর্তমানে দেশে বেকারের সংখ্যা ২৭ লাখের বেশি। এর মধ্যে প্রায় ৯ লক্ষ রয়েছেন স্নাতক ডিগ্রিধারী উচ্চ শিক্ষিত বেকার। এদের মধ্যে প্রায় ২২ শতাংশ তরুণ-তরুণী কোন প্রকার শিক্ষা চাকরি ও প্রশিক্ষণে সম্পৃক্ত নয়। এই বিপুল সংখ্যক বেবকারের অধিকাংশই ১৫-২৯ বছর বয়সী।
তিনি আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে জনগণের রায়ে সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে বিএনপি শিক্ষিত তরুণদের জন্য ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ এক বছর কিংবা কর্মসংস্থান না হওয়া পর্যন্ত বিশেষ আর্থিক ভাতা প্রদান করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা মনে করি এই বেকার ভাতা হয়তো একজন শিক্ষিত বেকারকে সে উদ্যোগে কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে সক্ষমতা অর্জনেও সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
তবে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর উত্থাপিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় বেকার ভাতার কোনো উল্লেখ পাওয়া যায়নি। প্রস্তাবিত এ বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট।