Image description

আইনগতভাবে বিচ্ছেদের আগেই নতুন করে বিয়ে করার অভিযোগে ক্রিকেটার নাসির হোসন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মির বিরুদ্ধে করা মামলায় রায় আজ বুধবার (১০ জুন) ঘোষণা করবেন আদালত। রায়ে আসামিদের সাত বছরের জেল চান বাদীপক্ষের আইনজীবী ইসরাত হাসান।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে তামিমা ও নাসির হোসেনের বিরুদ্ধে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলা করেন তামিমার সাবেক স্বামী রাকিব হাসান। তার অভিযোগ, তার সঙ্গে বিয়ের সম্পর্ক রেখেই নাসিরকে বিয়ে করেন তামিমা।

বাদীপক্ষের আইনজীবী ইসরাত হাসানের দাবি করেছেন, সমাজে পরকীয়া-ব্যভিচার ক্যান্সারের মত ছড়িয়ে পড়ছে। যখন এটার বিচার হবে তখনই সমাজে একটা মেসেজটা যাবে এবং কেউ এমনটা করতে সাহস পাবে না।

তিনি বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ করতে পেরেছি। তাদের সর্বোচ্চ সাজা প্রত্যাশা করছি। আশা করছি তাদের দুজনের সাত বছর করে সাজা হবে।

ইসরাত হাসান আরও বলেন, সাজা নিশ্চিত হলে সমাজ থেকে ব্যাভিচার দূর হবে। অন্যের বউকে নিয়ে নেওয়ার আগে শাস্তির কথা চিন্তা করবে। আমরা চাই, শাস্তির মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হোক।

মামলার বাদী রাকিব ন্যায় বিচারের আশা করছেন। তিনি বলেন, রায়ের মাধ্যমে একটা বার্তা সমাজে যাক। আমার মতো আর কারও সাথে যেন এমনটা না হয়।

আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু বলেন, নাসির ও তামিমা খালাস পাবেন আশা করছি। তারা কেন খালাস পাবেন যুক্তিতর্কে তুলে ধরেছি।

২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমার সঙ্গে রাকিব হোসেনের বিয়ে হয়। তাদের একটি মেয়ে রয়েছে। কিন্তু রাকিবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক চলমান থাকা অবস্থায় ২০২০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও নাসির বিয়ে করেন। তাদের বিয়ের ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি রাকিবের নজরে আসে। এরপর ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে তিনি মামলা দায়ের করেন।

একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর নাসির, তামিমা ও তার মা সুমি আক্তারকে আসামি করে আদালতে প্রতিবেদন দেন তদন্ত কর্মকর্তা। এরপর ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে নাসির ও তামিমার বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত। তবে নাসিরের শাশুড়ি সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

ওই বছরের ৬ মার্চ মহানগর দায়রা আদালতে নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন করেন তাদের আইনজীবী। অন্যদিকে সুমি আক্তারকে অব্যাহতির আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান। ২০২৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দুটি আবেদনই নাকচ করে দেন আদালত। এরপর বাদী রাকিবের সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার শুরু হয়।

২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়। এরপর গত ১০ মার্চ আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি হয়। শুনানিতে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান।