ভঙ্গুর অর্থনীতি ও বিনিয়োগ-কর্মসংস্থানহীন উচ্চ মূল্যস্ফীতির কঠিন সময় পার করছে দেশের মানুষ। ঠিক এ রকম সংকটকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি জোট সরকারের প্রথম বাজেট ঘোষণা রাত পোহালেই।
প্রস্তাবিত বাজেটের আগাম তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, সরকার প্রতিশ্রুতি পূরণ ও জনতুষ্টিকে প্রাধান্য দিয়ে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই ছাড় দিয়েছে। এবারের বাজেটে গতানুগতিক ধারা ভেঙে দাম কমার তালিকাই দীর্ঘ।
কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমরা যেটা দেখি, বাজেট মানেই আতঙ্ক। দাম বাড়ার একটা হিড়িক পড়ে যাওয়া। দাম না বাড়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে পারলে এটা একটা বড় দিক হবে। তবে সিগারেট, সিকোটিন ও মদের মতো স্বাস্থহানি ঘটায় এমন পণ্যের দাম বাড়া উচিত। নিত্যপণ্যের দাম না বাড়লে মানুষ স্বস্তি পাবে। সরকারেরও নির্বাচনের সময় বাজারে দাম সহনীয় মাত্রায় রাখার অঙ্গীকার ছিল। এটা করতে পারলে সরকার মানুষের কাছে বাহবা পাবে। আর রাজনীতিবিদদের কথার প্রতি মানুষ আশ্বস্ত হবে।’
জানা গেছে, নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের জন্য সংগতি রেখে বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাঁধে তুলে দেওয়া হয়েছে ছয় লাখ চার হাজার কোটি টাকা আদায়ের চাপ। বিগত অর্থবছরের অর্জন ও বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় যা প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ এখন কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি। দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগে খরা থাকায় বেকারত্ব ও দারিদ্র্য বাড়ছে। ফলে বেসরকারি খাতকে উৎসাহিত করার একটা চাহিদা আছে। সেটা মাথায় রেখে সম্ভবত সরকার বিভিন্ন রকমের শুল্ক-কর ছাড়ের ঘোষণা দিচ্ছে; যদিও শুধু শুল্ক-কর ছাড়ই বিনিয়োগ বাড়ানোর একমাত্র নির্ণায়ক নয়। সেই সঙ্গে ব্যাংকের সুদের হার, জ্বালানি সরবরাহ, জ্বালানির মূল্য স্থিতিশীল রাখা, লাইসেন্স ও নিবন্ধন পাওয়ার বিষয়গুলো সহজ করে বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে। এই বিষয়গুলোও একই সঙ্গে জরুরি।’
রাজস্ব আদায়ে প্রভাব পড়বে কিনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যদি সরকার শুল্ক-কর না কমাতো তারপরও বিকল্প উদ্যোগ না থাকলে রাজস্বের লক্ষ্য পূরণ করা কঠিন। তবে দেশের রাজস্ব আদায়ের বড় সম্ভাবনা আছে। কিন্তু সেটা পাওয়া যাচ্ছে না। কারন কর ফাঁকি, কর এড়িয়ে যাওয়া বা বিপুল সংখ্যক মানুষ করজালের বাইরে থাকায়। সরকার সেদিকে নজর দিচ্ছেন কিনা সেটা গুরুত্বপূর্ণ।’
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র বলছে, বাজেটে দেশীয় শিল্প সুরক্ষায় করছাড়ের বড় ধরনের সুবিধা দেয়া হতে পারে। এ ক্ষেত্রে শুধু কর অব্যাহতি, ভ্যাট ও আমদানির শুল্ক-করও ছাড় দেয়ার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এরমধ্যে ইলেকট্রনিক্স খাত, সৌরবিদ্যুৎ খাত ও স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকারের তালিকায় রাখা হয়েছে। এসবক্ষেত্রে ক্ষেত্রবিশেষে ২০৩১ সাল পর্যন্ত শুল্ক-করে ছাড় দেওয়া হয়েছে।
বাজেটে দেশের সাধারণ মানুষ তাকিয়ে থাকেন পণ্যের দাম বাড়া-কমার দিকে। এবারের বাজেটে শিল্পের কাঁচামাল, নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য, ভোজ্যতেল, জ্বালানি তেল, চিকিৎসা সামগ্রী, ওষুধসহ যেসব পণ্যের শুল্ককর কমানোর ফলে দাম কমতে পারে, সেই তালিকা তুলে ধরা হলো।
যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে: শিল্পের কাঁচামাল-শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে উৎস কর পাঁচ শতাংশ থেকে কমিয়ে চার শতাংশ হতে পারে। নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্কের স্তর ৯টি থেকে কমিয়ে ৬টিতে আনা হতে পারে। এতে শিল্পের কাঁচামাল আমদানির খরচ কমবে। আশা করা যায়, এর ফলে উৎপাদিত পণ্যের দাম কমবে।
নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য-মূল্যস্ফীতি কমাতে চাল, ধান, গম, আলু, পেঁয়াজ, ভোজ্যতেলসহ ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় ও কৃষিপণ্যের উৎস করের হার কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ করার প্রস্তাব আসতে পারে। একই সঙ্গে এসব পণ্যে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার হতে পারে। বর্তমানে কৃষি ও ভোগ্যপণ্য আমদানি বা সরবরাহে পাঁচ থেকে এক শতাংশ হারে উৎস কর পরিশোধ করতে হয়।
ভোজ্যতেল-দেশে ভোজ্যতেলের উৎপাদন বাড়ানো ও আমদানি নির্ভরতা কমাতে দেশীয় তৈলবীজ ব্যবহার করে ভোজ্যতেল উৎপাদনকারীর জন্য ১০ বছর কর অব্যাহতির প্রস্তাব করা হতে পারে। ফলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সরিষা বা অন্যান্য তৈলবীজের তেলের দাম আরও কমতে পারে।
জ্বালানি তেল-রিফাইনারি বা শোধনাগারে জ্বালানি তেল সরবরাহে এক দশমিক ৫০ শতাংশ উৎস কর পরিশোধ করতে হয়। এই হার কমিয়ে এক শতাংশ করার প্রস্তাব দেয়া হতে পারে। এতে পরিবহন-উৎপাদন খরচ কমতে পারে।
চিকিৎসাসামগ্রী ও ওষুধ-কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানির ওপর থাকা পাঁচ শতাংশ আগাম কর প্রত্যাহার হতে পারে। এতে কিডনি রোগীদের প্রতিটি ডায়ালাইসিসে খরচ সাশ্রয় হবে প্রায় ৬০০ টাকা। ওষুধ উৎপাদনে ব্যবহৃত ৬৮টি কাঁচামাল আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব আসতে পারে। ক্যান্সারের ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত ৯টি কাঁচামাল আমদানিতে দেয়া হতে পারে কর রেয়াত সুবিধা। এছাড়া হার্টের রিং ও চোখের লেন্সের ওপর থাকা ১০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করা হতে পারে। শারীরিকভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ব্যবহারের জন্য আমদানি করা ১৫টি পণ্যের অগ্রিম আয়করের হার দুই শতাংশ থেকে কমিয়ে এক শতাংশ করা হতে পারে।
মোবাইল ফোন, সিম ও টেলিযোগাযোগ খাত-স্থানীয়ভাবে মোবাইল ফোন উৎপাদনে ব্যবহৃত ২২টি কাঁচামালের ওপর উৎস কর কমিয়ে এক শতাংশ করা হতে পারে। পাশাপাশি এ খাতে ভ্যাট অব্যাহতির মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। মোবাইল সিমের ওপর ৩০০ টাকার সুনির্দিষ্ট ভ্যাট বাতিল করে ১৫ শতাংশ ভ্যাট কার্যকর হতে পারে। এতে সিমের দাম কমবে। এছাড়া বিটিআরসির প্রাপ্ত রেভিনিউ শেয়ার, লাইসেন্স ফি বা চার্জে ২০ শতাংশ উৎস কর প্রত্যাহার করা হতে পারে। মোবাইল নেটওয়ার্ক সেবা খাতে উৎস কর ১২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হতে পারে।
বিদ্যুৎ ও সৌরবিদ্যুৎ-বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে ক্রয়ের ওপর উৎস কর চার শতাংশ থেকে কমিয়ে তিন শতাংশ করা হতে পারে। এছাড়া সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে আসতে পারে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহতি সুবিধা। এছাড়া যন্ত্রপাতি ও উপকরণ আমদানিতেও থাকতে পারে ২০৩১ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহতি। পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে পাঁচ শতাংশ কর রেয়াত সুবিধা বহাল থাকতে পারে।
বৈদ্যুতিক যানবাহন-পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা উৎসাহিত করতে ইলেকট্রিক চার্জিং স্টেশন, ইলেকট্রিক বাস ও ইলেকট্রিক ট্রাক আমদানিতে উৎস কর অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে। গাড়ির নিবন্ধনে অগ্রিম আয়কর দুই লাখ টাকা থেকে কমিয়ে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা নির্ধারণ করা হতে পারে। স্থানীয়ভাবে ইলেকট্রিক গাড়ি ও বাইক উৎপাদন শিল্পকেও কর রেয়াত সুবিধা দেয়া হতে পারে। এছাড়া পরিবেশবান্ধব ব্যাটারি খাতও পেতে পারে ২০৩০ সাল পর্যন্ত করছাড়।
স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকার-স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকার সরবরাহে পাঁচ শতাংশ উৎস কর কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ করা হতে পারে। এছাড়া পাঁচ শতাংশ ভ্যাটের পরিবর্তে প্রতি ভরিতে দুই হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করা হতে পারে। এতে কমতে পারে আকাশছোঁয়া স্বর্ণের দাম।
ইলেকট্রনিকস ও প্রযুক্তিপণ্য-টেলিভিশন, ফ্রিজ ও কম্পিউটার সামগ্রী উৎপাদনে থাকা কর অব্যাহতি সুবিধা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে কম্পিউটার প্রিন্টার, পোর্টেবল অটোমেটিক ডাটা প্রসেসিং মেশিন, ফ্ল্যাশ মেমোরি ও কম্পিউটার মনিটর আমদানিতে বিদ্যমান পাঁচ শতাংশ অগ্রিম কর কমিয়ে দুই শতাংশ করা হতে পারে। এছাড়া এটিএম কার্ডসহ সব ধরনের কার্ড তৈরির কাঁচামাল আমদানির পাঁচ শতাংশ আগাম কর প্রত্যাহার হতে পারে। পাশাপাশি ১১৩টি পণ্যের ওপর থেকে তিন শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার হতে পারে। এছাড়া ২০৩১ সাল পর্যন্ত শুল্ক-কর অব্যাহতি পেতে পারে সেমিকন্ডাক্টর খাত।
অন্যান্য পণ্য ও খাত-এ হাজার ৮০০ সিসি পর্যন্ত হাইব্রিড গাড়ি ও খেজুর আমদানিতে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার, বালাইনাশক উৎপাদনের ৩৬টি কাঁচামালে ভ্যাট প্রত্যাহার, লোশন-ফেস ক্রিম ও ফেসওয়াশে শুল্ক-কর কমানো, পোল্ট্রি-ডেইরি ও মৎস্য খাদ্যের কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা, বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র আমদানিতে পাঁচ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহার, সিনথেটিক ওভেন ফেব্রিক্স আমদানিতে ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার, ফ্লোট গ্লাস উৎপাদনের ৫টি কাঁচামাল আমদানিতে ১০ শতাংশ শুল্ক হ্রাস, সার-কীটনাশকে সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট ও কর প্রত্যাহার, প্যাকেজিং পণ্য সরবরাহের ওপর উৎস করে কমিয়ে তিন শতাংশ, পরিবহন- ক্যারিং-গাড়ি ভাড়া সেবা খাতে উৎস কর কমিয়ে দুই ও রিসাইকেলড পণ্য ও রিসাইক্লিং কাঁচামালের করহার কমে এক শতাংশ হতে পারে।
যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে : সিগারেট-প্রতিবছরই অবধারিতভাবে বাড়ানো হয় সিগারেটের দাম। এবারের বাজেটেও তা ধরে রাখা হয়েছে। আগামী অর্থবছরে সিগারেটের চারটি স্তরেই দাম বাড়নোর প্রস্তাব করা হয়েছে। নিম্নস্তরের দশ শলাকার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬২ টাকা, মধ্যমস্তরের দশ শলাকার দাম ৯২ টাকা, উচ্চস্তরের দশ শলাকার দাম ১৬০ টাকা ও অতি-উচ্চ স্তরের দশ শলাকার দাম ২১০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
নিকোটিন পাউচ-প্রতি দশ গ্রাম নিকোটিন পাউচের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ৫০০ টাকা ও সম্পূরক শুল্ক ৪০ শতাংশ। এছাড়া প্রতি দশ শলাকা হিট টোব্যাকোর সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ২১০ টাকা ও সম্পূরক শুল্ক ৬৭ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকোর ওপর এক শতাংশ স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ রাখা হতে পারে।
কাজু বাদাম-অপ্রক্রিয়াজাত ও প্রক্রিয়াজাত কাজুবাদামের আমদানি শুল্ক এক ও পাঁচ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে আন্ডার-ইনভয়েসিং বন্ধ করতে প্রক্রিয়াজাত কাজুবাদামে ন্যূনতম শুল্কায়ন মূল্য নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
বিলাসবহুল গাড়ি-ডিজেল, অকটেন বা পেট্রোল চালিত গাড়ির করভার বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ সিসি ক্ষমতার গাড়ির ওপর বর্তমান করভার ১৩২ দশমিক ৩৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫৫ দশমিক ৮৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হতে পারে। এছাড়া অগ্রিম আয়করও বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হয়েছে।
দেশি মদ-বাংলাদেশে তৈরি বিলাতি মদের উৎপাদন পর্যায়ে প্রতি লিটার ৫০০ টাকা হারে সম্পূরক শুল্ক নির্ধারণ করা হতে পারে। সরকার বলছে, স্বাস্থ্য ঝুঁকি সম্পন্ন পণ্যের ব্যবহার কমানো ও রাজস্ব আদায় বাড়াতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।
রড-বর্তমানে স্ক্র্যাপ ও শীপ স্ক্র্যাপের বিভিন্ন ধরণের এম এস পণ্যের উৎপাদন পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট হারে ভ্যাট দিতে হয়। এই হার এক হাজার ২০০ টাকা থেকে দুই হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত। তবে আগামী বাজেটে এসব পণ্যে সুনির্দিষ্ট ভ্যাটের পরিমাণ বেড়ে এক হাজার ৫০০ টাকা থেকে তিন হাজার ৪০০ টাকা হতে পারে।
হিমায়িত মাছ-দেশীয় মৎস্য শিল্পের সুরক্ষায় আমদানি করা পাঙ্গাস মাছের ফিলেটের ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। বর্তমানে এই পণ্যটি আমদানিতে কোনো সম্পূরক শুল্ক নেই। সম্ভাবনাময় দেশীয় মৎস্য খাতকে টিকিয়ে রাখতে ও স্থানীয় খামারি ও উদ্যোক্তাদের সুরক্ষা দিতে শিল্প মন্ত্রণালয় এ সুপারিশ করেছিল। হেলিকপ্টার-প্রতিটি হেলিকপ্টারের ক্ষেত্রে প্রতি বছর ১০ লাখ টাকা হারে অগ্রিম আয়কর দেওয়ার বিধান রাখা হতে পারে আগামী বাজেটে।
জুয়ার আয় ও খুচরা ব্যবসা-জুয়া খেলে টাকা আয় করলেও দিতে হবে বাড়তি কর। আগে এই খাতে ২০ শতাংশ উৎস কর আদায়ের নিয়ম থাকলেও এবার তা বেড়ে ২৫ শতাংশ করা হতে পারে। এছাড়া ভ্যাটের জাল বিস্তারের কারণে সারাদেশের অনেক খুচরা ব্যবসায়ীও আসবেন ভ্যাটের জালে। এতে খুচরা ব্যবসায়ীদের খরচ বাড়তে পারে।