গত বছরের ঈদুল আজহার তুলনায় এবার সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলে মৃত্যু ১০ শতাংশ বেড়েছে। আগের বছর মোট মৃত্যুর ৩৪ শতাংশ ছিল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার কারণে। সদ্য বিদায়ী ঈদে সড়ক দুর্ঘটনায় যতজন মারা গেছেন, তাঁদের ৪৪ শতাংশ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার শিকার। আর মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মোট আক্রান্তদের মধ্যে অর্ধেকের বেশির বয়স ১৪ থেকে ২০ বছরের মধ্যে।
দেশে ২৯২টি সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ২৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত আরও ৮৩৭ জন। নিহতদের মধ্যে ৩৪ নারী ও ৪৮ শিশু রয়েছে। এবারের ঈদুল আজহার আগে-পরে ২১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত ১৩ দিনের এই হিসাব আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।
এই সময়ে ১৩টি নৌপথ দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন। ২২টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত এবং ৯ জন আহত হয়েছেন।
ফাউন্ডেশন বলছে, ১৪১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১২৪ জন, যা মোট নিহতের ৪৪.১২ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৪৮.২৮ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ৩৭ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ১৩.১৬ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৩৩ জন, অর্থাৎ ১১.৭৪ শতাংশ।
২০২৫ সালের ঈদুল আজহার আগে-পরে ১২ দিনে দেশে ৩৪৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ৩১২ জন। এর মধ্যে ১২১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় ১০৭ জনের, যা মোট নিহতের ৩৪.২৯ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ছিল ৩৪.৮৭ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ৪৪ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ১৪.১০ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৫১ জন, অর্থাৎ ১৬.৩৪ শতাংশ।
২০২৫ সালের ঈদুল আজহার তুলনায় এবার সড়ক দুর্ঘটনায় কিছুটা প্রাণহানি কমলেও এই হার কোনো উন্নতির সূচক নির্দেশ করছে না বলে সংগঠনটির প্রতিবেদনে স্পষ্ট মন্তব্য করা হয়েছে। বলা হয়েছে, পরিবহন খাতে কোনো ধরনের ব্যবস্থাপনাগত উন্নতি ঘটেনি। কিশোর-যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ১১ জন পথচারী নিহত হয়েছেন। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের মধ্যে ৫৭ শতাংশের বয়স ১৪ থেকে ২০ বছর।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনাগুলোর মধ্যে ৩৩.২১ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৩৮.৩৫ শতাংশ আঞ্চলিক সড়কে এবং ১৪.৩৮ শতাংশ গ্রামীণ সড়কে সংঘটিত হয়েছে। ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ৯৫টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১০১ জন। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ৯টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৭ জন। একক জেলা হিসেবে ফরিদপুর জেলায় সবচেয়ে বেশি ১৯টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৮ জন।
দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকদের অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল, তরুণ-যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা এবং দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।