পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া দুই প্রার্থী।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকালে রাঙামাটি শহরের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তারা এ দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা ও গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী এম এ আবুল বাশার।
এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পহেল চাকমা। তিনি বলেন, পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরের ফলে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সৃষ্টি হয়। চুক্তি অনুযায়ী পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হিসেব দীপেন দেওয়ানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পাহাড়ের মানুষ আনন্দিত হয়েছিল। তবে একইসঙ্গে হতাশও হয়েছিল, পার্বত্য এলাকার বাইরে থেকে একজনকে প্রতিমন্ত্রী দেওয়ার কারণে; এটি পার্বত্য চুক্তি ও আইনের পরিপন্থি।
তিনি আরও বলেন, চুক্তির সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বিধিবহির্ভূতভাবে নিযুক্ত প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব থেকে অবিলম্বে অপসারণের জোর দাবি জানাই।
দীপেন দেওয়ানকে চাপ প্রয়োগ করে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে দাবি করে পহেল চাকমা বলেন, সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানকে পুনরায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি প্রধানমন্ত্রীর কাছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির যথাযথ বাস্তবায়ন, পার্বত্য অঞ্চলের স্থায়ী শাসনব্যবস্থা কার্যকর করা এবং অঞ্চলের সামগ্রিক শান্তি ও শৃঙ্খলার স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এম এ আবুল বাশার বলেন, আমরা নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম পার্বত্য এলাকার উন্নয়নে কাজ করার জন্য। আমারা সুযোগ না পেলেও বিএনপির পার্থী দীপেন পেয়েছিলেন। তাকে নানা চাপের কারণে পদত্যাগ করতে হয়েছে বলে জেনেছি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ–দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করে পুনরায় দায়িত্ব দেওয়া হোক।
গত সোমবার অসুস্থতার কারণ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা দীপেন দেওয়ান। একই দিন তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে জানিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন দীপেন দেওয়ান। ২০০৫ সালে জেলা যুগ্ম জজের চাকরি ছেড়ে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন তিনি।
দীপেন দেওয়ান মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি মেনে নিতে পারেননি তার অনুসারীরা। তারা বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে প্রতিবাদ জানান। নিজের পদত্যাগের বিষয়ে গণমাধ্যমে কোনো বক্তব্য না দিলেও বুধবার তিনি ফেসবুকে নিজের আইডিতে পোস্ট করে পার্বত্যবাসীকে শান্ত থাকতে অনুরোধ জানান। ওই পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন–বিএনপির রাজনীতি করেছেন এবং ভবিষ্যতে করে যাবেন। বিএনপি তার শেষ ঠিকানা।