Image description

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান মো. খুরশীদ আলমের বিরুদ্ধে ওঠা ঋণখেলাপির অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, খুরশীদ আলম ব্যক্তিগতভাবে ঋণখেলাপি নন; তবে তার স্ত্রীর মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠান ঋণখেলাপি হয়ে পড়েছে। 

 

একই সঙ্গে অতীতে তার বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের শাস্তিকেও ‘ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে দেওয়া’ হয়েছিল বলে দাবি করেছে আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। 

মঙ্গলবার (২ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য জানান। 

সাম্প্রতিক বিতর্ক প্রসঙ্গে মুখপাত্র বলেন, খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে ৩ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া একটি প্রতিষ্ঠানের যৌথ মালিক খুরশীদ আলমের স্ত্রী। ওই ঋণটি পরবর্তী সময়ে খেলাপি হয়েছে। তবে এর জন্য খুরশীদ আলমকে ঋণখেলাপি বলা সঠিক নয়। স্ত্রীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ঋণ খেলাপি হলেও তিনি ব্যক্তিগতভাবে এর দায়ভার বহন করেন না। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের রংপুর অফিসে মহাব্যবস্থাপক থাকাকালীন কৌশলে ৫৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ২০১৮ সালে খুরশীদ আলমের দুটি বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) বন্ধ করা হয়েছিল। 

 

দীর্ঘ আট বছর পর সেই ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে আরিফ হোসেন খান বলেন, সে সময় খুরশীদ আলমের বিরুদ্ধে ভুল তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছিল। ফলে তাকে যে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল, তা যথাযথ ছিল না। এই কারণেই পরবর্তীতে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক এবং ডেপুটি গভর্নর হিসেবে পদোন্নতি পান। 

ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে খুরশীদ আলমের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মুখে কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার অবস্থানে অনড়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান স্পষ্ট জানিয়ে দেন, বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করে তাদের সিদ্ধান্ত সঠিক। কোনো ধরনের আন্দোলন বা চাপের মুখে এই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হবে না। আজ যদি কোনো পক্ষের আন্দোলনের কারণে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়, তবে ভবিষ্যতে অন্য পক্ষ আরও বড় আন্দোলন করবে। এভাবে কোনো প্রতিষ্ঠান চলতে পারে না। 

ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনলাইন সভার অনুমতি প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, উদ্ভূত বিশেষ পরিস্থিতির কারণে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে ভার্চুয়াল সভার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে অনলাইনে পর্ষদ সভা করায় কোনো আইনি বিধিনিষেধ নেই।

উল্লেখ্য, অতীতে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পরও খুরশীদ আলমকে শুধু ইনক্রিমেন্ট বন্ধের মতো লঘু শাস্তি দেওয়া এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে তাকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগ করা নিয়ে আর্থিক খাতে আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দাবি, খুরশীদ আলমের বিরুদ্ধে প্রচারিত ঋণখেলাপির তথ্যটি পুরোপুরি বিভ্রান্তিকর।