Image description

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দীর্ঘ এক স্ট্যাটাসের পর গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে এক সাংবাদিক আত্মহত্যা করেছেন।

 

শনিবার (৩০ মে) সকাল ৬টার দিকে তাকে দ্রুত দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে বরিশালে রেফার্ড করেন। তবে বরিশালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।

 

নিহত মো. রাকিব হোসাইন দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার দশমিনা উপজেলা প্রতিনিধি হিসাবে কর্মরত ছিলেন। জানা গেছে, রাকিব অবিবাহিত ছিলেন।

 

মৃত্যুর আগে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাসে জীবনের সংগ্রাম, পারিবারিক অবহেলা, হতাশা ও মানসিক ক্লান্তির কথা তুলে ধরেন তিনি। সাংবাদিক রাকিব ফেসবুকে লেখেন, ‘একটা মানুষ জীবনে কত যুদ্ধ করতে পারে, যুদ্ধ করতে করতে আজ আমি ক্লান্ত। আপন-আপন বলা মানুষগুলো ভালো থাকুক। আফসোস এটাই যে রক্তের সম্পর্কের মানুষগুলো আমাকে চিনতে পারল না! দুনিয়ার মায়া অল্প কষ্টে কেউ ছাড়ে না। আমার মৃত্যুর পর আমাকে যেন আমার মায়ের পাশে দাফন করা হয়। শাজাহান মেলকারের পরিবারের কোনো লোক যেন আমার মুখ না দেখে। যদি কেউ দেখে বা কেউ দেখায়, তার প্রতি আমার কেয়ামত পর্যন্ত দাবি থাকবে।

 

তিনি আরও লেখেন, ‘দশমিনা ফার্মেসির আমি অংশীদার। দোকানের খাতায় আমি কত টাকা দিয়েছি তার হিসাব লেখা আছে। গৌতমকে যেন কোনোভাবেই হয়রানি করা না হয়। গৌতম খুব ভালো ছেলে, এই যুগে এমন ছেলে হয় না।’

 

সবশেষে রাকিব লেখেন, ‘ছোটোবেলা থেকেই পরিবার ছাড়া বড়ো হয়েছি। রক্তের মানুষগুলোর কাছ থেকে কখনো কিছু পাইনি, শুধু অবহেলা ছাড়া। জীবনে যাদের কাছ থেকে পেয়েছি, তাদের সঙ্গে আমার রক্তের কোনো সম্পর্ক নেই। আমি আজ যাবার সময় তাদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। কারও প্রতি কোনো অভিযোগ নেই আমার। তবে অনেক স্বপ্ন ছিল, বাঁচার ইচ্ছে ছিল, তা আর হলো না। চলার পথে যদি কেউ আমার আচরণে কষ্ট পেয়ে থাকেন, আমাকে মাফ করে দেবেন। পরিশেষে, দুঃখের ঘরে জন্ম নেওয়া, কষ্টের সঙ্গে বেড়ে ওঠা ছেলেটার জীবনের সমাপ্তি ঘটে।’

 

এদিকে পরিবার ও এলাকাবাসীর অনুরোধে ময়নাতদন্ত ছাড়াই তার দাফন সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি।

 

এ বিষয়ে দশমিনা থানার ওসি মো. আতিকুর রহমান জানান, প্রায় ২০ বছর আগে রাকিবের মাও আত্মহত্যা করেছিলেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিনের বিষণ্নতা ও মানসিক চাপে তিনি এ পথ বেছে নিয়েছেন।