কুরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় বিক্রি করতে ব্যর্থ হয়ে রাস্তার পাশে ফেলে যাওয়া চামড়া উদ্ধার করে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন।
শনিবার বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ফেলে রাখা চামড়ার খবর পেয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত সেগুলো সংগ্রহ করে সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈদুল আজহা উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানার কর্তৃপক্ষ কুরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন। এসব প্রতিষ্ঠান চামড়া বিক্রির মাধ্যমে শিক্ষা ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কিছু অর্থ পাওয়ার আশা করেছিল। কিন্তু ট্যানারি ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট এবং বাজারে চামড়ার অস্বাভাবিক কম দামের কারণে তারা কাঙ্ক্ষিত মূল্য পাননি। ফলে হতাশ হয়ে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলরা বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের পাশে চামড়া ফেলে রেখে যান বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিষয়টি জানাজানি হলে বাবুগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে লোক পাঠিয়ে চামড়াগুলো উদ্ধার করে। পরে চামড়াগুলো নষ্ট হওয়ার আগেই সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসমা উল হুসনা বলেন, “শিক্ষকরা রাস্তার পাশে চামড়া ফেলে না দিয়ে উপজেলা প্রশাসনকে জানাতে পারতেন। এছাড়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে লবণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। তারা চাইলে আমাদের কাছ থেকে লবণ নিয়ে চামড়া সংরক্ষণ করতে পারতেন।”
তিনি আরো বলেন, কুরবানির চামড়া একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। এটি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা গেলে পরবর্তীতে বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানগুলো আর্থিকভাবে উপকৃত হতে পারে। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতিতে চামড়া নষ্ট না করে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল কুরবানির চামড়ার বাজারে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অস্থিরতা ও মধ্য-স্বত্বভোগীদের প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।