Image description

দেশের বেকার, গরিব ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের আর্থিক কষ্ট কমাতে বিএনপি সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নামে একটি সামাজিক সহায়তা কর্মসূচি চালু করে। সরকার গঠনের শততম দিন পর্যন্ত ৫৩ হাজার ৯৬টি পরিবার ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছে। কৃষক কার্ড বণ্টন করা হয়েছে ২০ হাজার ৭৪৮টি পরিবারে। এই সময়ে দুই কোটির বেশি শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে।

 

চলতি বছরের ২৮ মে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কাজের তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

 

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, বিএনপি সরকার গঠনের শততম দিনের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড পেয়েছে ৫৩ হাজার ৯৬টি পরিবার। বাছাই-বাছাই শেষে প্রথম ধাপে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।

 

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত কৃষক কার্ড পেয়েছে ২০ হাজার ৭৪৮টি পরিবার। ১০০ দিনে দুই কোটিরও বেশি শিশুকে, অর্থাৎ শতভাগ শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ৬৬৬টি খালে খনন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

 

এ ছাড়া প্রায় ছয় হাজার ধর্মীয় উপাসনালয়ের প্রধানরা মাসিক ভাতা পাচ্ছেন। ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়েছে।

 

এই সময়ের মধ্যে পদ্মা ব্যারাজের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, সরাসরি উপকৃত হবে দেশের ৩৭ শতাংশ মানুষ। যুদ্ধাবস্থায় ভর্তুকির মাধ্যমে তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। ২০ মে পর্যন্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪.৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৭১ শতাংশে নেমে এসেছে।

গত ২৪ মে পর্যন্ত ১০টি কেবিনেট সভায় ৬০টি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে, যার ৩৭টি ইতোমধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে ও ২৩টি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ১২-১৪ বছর বয়সি ক্রীড়াশিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ চলমান রয়েছে। ৫৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্লাবে ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

 

ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা

 

সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, নির্বাচিত নারীরা মাসে আড়াই হাজার টাকা করে পাবেন। এ সময় তিনি অন্য কোনো ভাতা বা সুবিধা পাবেন না। তবে পরিবারের অন্য কেউ কোনো সুবিধা পেয়ে থাকলে তা বহাল থাকবে।

 

তিনি বলেন, কমিটির সদস্যরা সরেজমিন বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা, সদস্য সংখ্যা, শিক্ষা, বাসস্থান, পরিবারে ব্যবহৃত আসবাব ও গৃহস্থালি সামগ্রী (টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার, মোবাইল ইত্যাদি), রেমিট্যান্স প্রবাহ ইত্যাদি তথ্য যাচাই-বাছাই করে তালিকা চূড়ান্ত করেছে।

 

তিনি আরও বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটি সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়ায় এখানে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি বা ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।

 

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় প্রত্যেক নারীপ্রধান ফ্যামিলি কার্ড পাবেন। চিপ সম্বলিত এ কার্ডে কিউআর কোড (বার কোডের তথ্যসহ) ও এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে কার্ডটি নিরাপদ, দীর্ঘস্থায়ী ও সহজে ব্যবহারযোগ্য হবে।