Image description

আজ পবিত্র ঈদুল আজহা। কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ ঘিরে দেশের চামড়াশিল্পে আবারও পুরনো আতঙ্ক ফিরে এসেছে। ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, দাম ধস, নগদ টাকার সংকট, সংরক্ষণ সমস্যা ও সীমান্তে পাচার চক্রের তৎপরতার সুযোগে এ বছরও কাঁচা চামড়া প্রতিবেশী দেশে পাচার হতে পারে।

চামড়াশিল্পের উদ্যোক্তারা বলছেন, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পশু কোরবানি বন্ধ থাকায় সেখানকার চামড়াশিল্পে কাঁচা চামড়ার চাহিদা তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন সীমান্তপথ দিয়ে কোরবানির চামড়া পাচারের ঝুঁকি রয়েছে। বিষয়টি সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছেন ট্যানারিশিল্পের নেতারা।

অবশ্য কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণ, কেনাবেচা, পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থা ঠিক রাখতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে তিনটি কমিটি গঠন করেছে। খোলা হয়েছে মনিটরিং সেলও। বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন, বিটিএ, ধারণা করছে, এ বছর দেশে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ লাখ পিস পশুর চামড়া সংগ্রহ হতে পারে।

ঈদের দিন থেকে অন্তত তিন মাস সীমান্ত এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন বিটিএ চেয়ারম্যান শাহিন আহমেদ। তিনি আগামীর সময়কে বললেন, পশ্চিমবঙ্গে এ বছর কোরবানি বন্ধ রাখা হচ্ছে। কিন্তু ওই অঞ্চলের চামড়াশিল্প চালু রাখতে কাঁচা চামড়ার প্রয়োজন হবে। এ কারণে সীমান্ত দিয়ে ভারতে কাঁচা চামড়া পাচারের আশঙ্কা রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ট্যানারিশিল্পের মালিকদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের কাছে নগদ টাকার সরবরাহ নিশ্চিত করা, সীমান্তে কঠোর নজরদারি বাড়ানো এবং চামড়া পরিবহনে নিরাপত্তা সহায়তা চাওয়া হয়। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, ঈদের সময় ব্যাংকিং লেনদেন সীমিত থাকায় অনেক ব্যবসায়ী পর্যাপ্ত নগদ অর্থের অভাবে মাঠপর্যায়ে চামড়া কিনতে পারেন না। এই সুযোগে কম দামে চামড়া কিনে পাচার চক্র সক্রিয় হয়ে ওঠে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। এরই মধ্যে বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সীমান্ত এলাকায় বিশেষ নজরদারি, চেকপোস্ট বাড়ানো এবং চামড়া পরিবহনে তৎপরতা জোরদারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, চামড়া পাচারের সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি রুট চিহ্নিত করা হয়েছে। যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা, পাটকেলঘাটা, কালীগঞ্জ, নড়াইল ও রাজারহাট এলাকার চামড়া বেনাপোল, কলারোয়া ও সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে পাচারের আশঙ্কা রয়েছে।
এ ছাড়া ঝিনাইদহ, মাগুরা, শৈলকুপা, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর অঞ্চলের চামড়া জীবননগর সীমান্ত দিয়ে পাচার হতে পারে। নাটোর হাটের চামড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ ও রাজশাহীর গোদাগাড়ী সীমান্ত দিয়ে পাচারের ঝুঁকি রয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া, আল্লাহর দরগা, দৌলতপুর ও আলমডাঙ্গার চামড়া পাচারের সম্ভাব্য রুট হিসেবে মেহেরপুর ও দর্শনা সীমান্ত পয়েন্টকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সিলেট ও মৌলভীবাজার অঞ্চলে জাফলং, তামাবিল ও করিমগঞ্জ সীমান্ত পথকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন সীমান্ত পথ দিয়েও চামড়া পাচারের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক পশু কোরবানি হয়। এসব এলাকার চামড়া পাচারের ক্ষেত্রে সাভার, গাজীপুর চৌরাস্তা, কাঁচপুর ব্রিজ, আশুলিয়া, বুড়িগঙ্গা ব্রিজ ১ ও ২ এবং সিংগাইর ব্রিজ সম্ভাব্য রুট হিসেবে ব্যবহার হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।