ঢাকার সাভারের পশ্চিম রাজাশন এলাকায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় তিন পুলিশ কর্মকর্তার পর এবার সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলীকেও প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। রবিবার তাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর আগে, শুক্রবার (২২ মে) পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন কয়েকজন সাংবাদিক।
পুলিশ সূত্র বলছে, মূলত দ্রুত সময়ের মধ্যে মূল আসামিকে গ্রেফতার করতে না পারা ও এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ওসি আরমান আলীর ব্যর্থতার কারণে তাকে মৌখিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মঙ্গলবার প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ওসিকে প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম, অপস ও ট্রাফিক) মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমরা এখনও লিখিত আদেশ পাইনি, তবে মৌখিকভাবে প্রশাসনিক কারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মূলত সম্প্রতি পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত এসেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ হয়তো মনে করছে, ওসি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় যে ধরনের ভূমিকা রাখার কথা, সেটি পালনে হয়তো ব্যর্থ হচ্ছেন, যে কারণে কর্তৃপক্ষ এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
এর আগে, সাংবাদিকদের ওপর এই হামলার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মাদক ব্যবসায়ী শামীম রেজার (৩৫) সঙ্গে সখ্যতা ও যোগাযোগ রক্ষার অভিযোগে সাভার মডেল থানা পুলিশের তিন কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইননসে সংযুক্ত করা হয়।
শনিবার বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া অভিযোগ ও পুলিশের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সোমবার সাভার মডেল থানার থানা পরিদর্শনকালে এক প্রশ্নের জবাবে জানান ঢাকা জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন।
এ সময় প্রত্যাহার করা পুলিশ কর্মকর্তাদের বিষয়ে আসা অভিযোগ তদন্ত সাপেক্ষে সত্যতা পাওয়া গেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে, শুক্রবার (২২ মে) সাভারের পশ্চিম রাজাশন এলাকায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে হামলার শিকার হন বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেল এসএ টিভির স্থানীয় প্রতিনিধিসহ দেশ টিভির সিনিয়র রিপোর্টার তাইফুর রহমান তুহিন, ক্যামেরাপারসন মনিরুল কাইয়ুমসহ দেশ টিভির প্রাইভেটকার চালক জয়নাল।
হামলাকারীরা এ সময় তাদের দেশি অস্ত্র, লাঠিসোঁটা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধরের পাশাপাশি এসএ টিভির স্থানীয় প্রতিনিধি সাদ্দাম ও দেশ টিভির সিনিয়র রিপোর্টার তুহিনকে ছুরিকাঘাত করে।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত অবস্থায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে জড়িত সন্দেহে চার জনকে আটক করে।
তবে ঘটনার পর পুলিশের প্রথম টিমের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর সেখানে অভিযুক্ত শামীমের উপস্থিতি, তাৎক্ষণিকভাবে তাকে আটক না করা এবং পরে পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা ও টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই শামীমের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় পুলিশের কিছু কর্মকর্তার সঙ্গে শামীমের সখ্যতা ও যোগাযোগ রক্ষার অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে তার পালিয়ে যেতে সক্ষম হওয়ার পেছনে পুলিশের দায়িত্বে অবহেলার প্রশ্নটিও সামনে আসে।
ঘটনার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত সাংবাদিক তুহিন জানান, মূলত মাদক ব্যবসায়ী শামীমের মাদক ব্যবসা ও মাদকের বিস্তার নিয়ে রিপোর্ট করতেই তথ্য সংগ্রহে সেদিন সকালে ঘটনাস্থলে যান তুহিন ও তার টিমের সদস্যরা। এক পর্যায়ে তাদের সহযোগিতা করতে এস এ টিভির প্রতিনিধি সাদ্দামও তাদের সঙ্গে যোগ দেন। বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কাজ শেষ করে ফিরে আসার পথে তাদের ওপর অতর্কিতভাবে এই হামলা চালানো হয়। এ সময় হামলাকারীরা রিপোর্টার তুহিনের পেটে ও পিঠে একাধিক ছুরিকাঘাত করাসহ সাংবাদিক সাদ্দামকে গুলি করার চেষ্টা এবং চোখ লক্ষ্য করে ছুরিকাঘাত করে বলে জানান তিনি।
পরে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় রাতেই শামীমকে প্রধান আসামি করে মোট ২১ জনের নাম উল্লেখসহ ৪০-৫০ জনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন দেশ টিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক মো. ফখরুল ইসলাম মজুমদার।