Image description

নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে— এমন প্রত্যাশা ছিল ব্যবসায়ী, শিল্পোদ্যোক্তা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে। কিন্তু ব্যাংক খাতের দীর্ঘদিনের অনিয়ম, খেলাপি ঋণের চাপ, বিনিয়োগ স্থবিরতা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে সেই প্রত্যাশা এখনও বাস্তবে রূপ পায়নি। বরং অর্থনীতির সংকট এবার সরাসরি প্রভাব ফেলছে কোরবানির বাজারেও।

রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে পর্যাপ্ত পশুর সরবরাহ থাকলেও ক্রেতার উপস্থিতি তুলনামূলক কম। বড় গরুর প্রতি আগ্রহ কমে গেছে। যারা আগে এককভাবে কোরবানি দিতেন, তাদের অনেকে এবার ভাগে কোরবানি দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। আবার সীমিত আয়ের একটি অংশ কোরবানি থেকে পুরোপুরি সরে যাওয়ার কথাও ভাবছে। ফলে বিশাল আকারের কোরবানিকেন্দ্রিক অর্থনীতি এবারও চাপের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর কোরবানির জন্য দেশে ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার পশু প্রস্তুত রয়েছে। বিপরীতে সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে প্রায় ১ কোটি ১ লাখ। অর্থাৎ প্রায় ২২ লাখ পশু উদ্বৃত্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে অনেক অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বাস্তবে চাহিদা সরকারি হিসাবের চেয়ে কম হতে পারে।

গত বছরও একই ধরনের অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে কোরবানি হয়েছিল মাত্র ৯১ লাখ পশু। অথচ ২০২৪ সালে কোরবানির পশু বিক্রি হয়েছিল ১ কোটি ৪ লাখের বেশি, যার বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৬৯ হাজার কোটি টাকা। এক বছরের ব্যবধানে পশু বিক্রি অন্তত ১৩ লাখ কমে যাওয়ায় বাজারের আকারও নেমে আসে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ হাজার কোটি টাকায়।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, মূল্যস্ফীতি ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়াই এর প্রধান কারণ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ এপ্রিলে দেশের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০৪ শতাংশে। নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের পরিবারগুলো এখন অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে দিচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে ঈদকেন্দ্রিক ভোগব্যয়েও।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, “মানুষের আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো না। যারা আগে বড় গরু কোরবানি দিতেন— তারা এখন মাঝারি গরুর দিকে ঝুঁকছেন। যারা ছোট গরু কিনতেন, তাদের কেউ কেউ ভাগে কোরবানি দেবেন। আবার কেউ হয়তো ছাগল বা ভেড়া কিনবেন।”

তিনি বলেন, “খামারিরাও এবার চাপে আছেন। পশুখাদ্য, ওষুধ ও পরিবহন খরচ অনেক বেড়েছে। অথচ বাজারে ক্রেতা কম। ফলে কম লাভে কিংবা লোকসানে পশু বিক্রি করতে হতে পারে।”

বড় গরুর বাজারে ধসের শঙ্কা

রাজধানীর বিভিন্ন হাট ঘুরে দেখা গেছে, ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা তুলনামূলক বেশি হলেও বড় গরুর বাজার অনেকটাই স্থবির। গত বছরের তুলনায় ছোট গরুর দামও বেড়েছে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। যে গরু গত বছর ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে, সেই গরুই এবার ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা চাওয়া হচ্ছে।

জামালপুর থেকে খিলগাঁওয়ের শাহজাহানপুর হাটে সাতটি গরু নিয়ে আসা খামারি জামাল উদ্দিন বলেন, “বড় গরুর দাম মানুষ বলতে চাচ্ছে না। ৬০০ কেজির গরুর দাম ৫ লাখ টাকা চাচ্ছি, কিন্তু ক্রেতারা সাড়ে তিন লাখ পর্যন্ত বলছে। গতবারের তুলনায় ট্রাক ভাড়াও ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা বেশি।”

চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আমুলিয়া হাটে আসা ব্যাপারী  মোবারক আলী জানান, কয়েক দিনে মাত্র ৬টি গরু বিক্রি হয়েছে, তাও ছোট আকারের। বড় ও মাঝারি গরুর ক্রেতা খুব কম।

মেহেরপুরের খামারি রবিউল বলেন, “১৫টি গরু আনতে এবার ট্রাক ভাড়া পড়েছে ৪০ হাজার টাকা। গত বছরের তুলনায় ১০ হাজার টাকা বেশি।”

শুধু পশুর বাজার নয়, চাপ বাড়ছে পুরো ঈদ অর্থনীতিতে

বাংলাদেশে কোরবানিকেন্দ্রিক অর্থনীতির আকার এখন প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার বেশি বলে ধারণা করা হয়। এই অর্থনীতি শুধু পশু কেনাবেচার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে চামড়াশিল্প, মসলা, পরিবহন, রেফ্রিজারেটর, কোমল পানীয়, দই-মিষ্টি, কসাই, মৌসুমি শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসা।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কোরবানির পশুর বাজার দুর্বল হলে এর প্রভাব পড়ে পুরো অর্থনৈতিক চক্রে।

দেশে বছরে প্রায় ৩০ লাখ ইউনিট ফ্রিজ বিক্রি হয়। এর মধ্যে প্রায় ১২ লাখ ইউনিট বিক্রি হয় কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে। মাংস সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তায় এ সময় ফ্রিজ ও ডিপ ফ্রিজের চাহিদা বাড়ে। ইলেকট্রনিক কোম্পানিগুলোও বিশেষ অফার দেয়। তবে এবার বিক্রি প্রত্যাশার তুলনায় কম বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

মসলার বাজারেও কোরবানির সময় বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়। জিরা, এলাচ, দারুচিনি, লবঙ্গ, গোলমরিচ, আদা-রসুনসহ বিভিন্ন মসলার বিক্রি বেড়ে যায় কয়েক গুণ। ব্যবসায়ীরা বলছেন, শুধু মসলা ও পোশাক মিলিয়েই এ সময় প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়।

একইভাবে দই-মিষ্টি ও কোমল পানীয়র বাজারেও বাড়তি গতি আসে। বাংলাদেশ সুইট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে দই-মিষ্টির বাজার এখন ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি। কোরবানির ঈদে এই খাতে বিক্রি কয়েক গুণ বেড়ে যায়। পাশাপাশি কোমল পানীয়র বিক্রিও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে।

শপিংমলে বিক্রি কম

ঈদুল আজহাকে ঘিরে রাজধানীর শপিংমলগুলোতেও এবার তেমন ভিড় নেই। বড় বড় ব্র্যান্ড ৫০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিলেও ক্রেতা তুলনামূলক কম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, মানুষ এখন প্রয়োজন ছাড়া খরচ করতে চাইছে না।

সালেমের নির্বাহী পরিচালক অর্থনীতিবিদ সেলিম রায়হান বলেন, “নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে পরিবারগুলো এখন শৌখিন কেনাকাটা কমিয়ে দিচ্ছে। ঈদের পোশাক বা ব্র্যান্ডেড পণ্যের চেয়ে মানুষ এখন প্রয়োজনীয় ব্যয়কে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মুবিনা খন্দকার বলেন, “এখন শুধু ছাড় দিয়ে বিক্রি বাড়ানো সম্ভব নয়। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে, একইসঙ্গে ভোক্তা আচরণও বদলেছে।”

তবু গ্রামে টাকার প্রবাহ

তবে অর্থনীতির এই চাপের মধ্যেও কোরবানির সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হচ্ছে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নগদ অর্থের প্রবাহ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ এম কে মুজেরি বলেন, “কোরবানির সময় শহর থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রামে যায়। পশুর দাম সরাসরি গ্রামের খামারি ও কৃষকের হাতে পৌঁছে। এটি গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করে।”

তিনি বলেন, “হাজার হাজার ছোট খামারি ও গৃহস্থ সারা বছর একটি বা দুটি গরু লালন করেন শুধু কোরবানির বাজারকে কেন্দ্র করে। এই আয় তাদের পরিবারের বড় অর্থনৈতিক ভরসা।”

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোরবানির সময় গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক ধরনের মৌসুমি প্রণোদনা তৈরি হয়। পশু পরিবহন, হাট ব্যবস্থাপনা, কসাই, চামড়া সংগ্রহ, পরিবহন শ্রমিক, পশুখাদ্য ব্যবসায়ী— সব মিলিয়ে লাখ লাখ মানুষের অস্থায়ী কর্মসংস্থান হয়।

রেমিট্যান্স ও গ্রামীণ ব্যয় বেড়েছে

ব্যাংকার ও অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ঈদকে সামনে রেখে প্রবাসী আয়ও বেড়েছে। প্রবাসীরা পরিবারের জন্য অতিরিক্ত অর্থ পাঠাচ্ছেন। শহরে কর্মরত মানুষজনও ঈদের বোনাস ও সঞ্চয়ের একটি বড় অংশ গ্রামে নিয়ে যাচ্ছেন। ফলে গ্রামের বাজার, পরিবহন, খুচরা ব্যবসা ও স্থানীয় সেবাখাতে বাড়তি গতি তৈরি হচ্ছে।

২৩ দিনে এলো প্রায় ৩ বিলিয়ন ডলার

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। চলতি মে মাসের প্রথম ২৩ দিনে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রায় ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ২৯৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৬ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবাসী আয় বেড়েছে ৪১ দশমিক ৩১ শতাংশ।

গত বছরের মে মাসের প্রথম ২৩ দিনে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২১০ কোটি ৬ লাখ ডলার। সে তুলনায় এবার উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদ সামনে রেখে প্রবাসীদের বাড়তি অর্থ পাঠানোর প্রবণতার কারণেই রেমিট্যান্স প্রবাহে এই ইতিবাচক ধারা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি এখনও চাপের মধ্যে থাকলেও কোরবানিকেন্দ্রিক এই মৌসুমি অর্থনীতি গ্রামীণ বাংলাদেশকে কিছুটা হলেও সচল রাখছে।

সম্ভাবনার বড় জায়গা চামড়াশিল্প

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোরবানির সবচেয়ে বড় অপূর্ণ সম্ভাবনা এখনও চামড়াশিল্পে। কোরবানির সময় দেশের সারা বছরের চামড়ার বড় অংশ সংগ্রহ হয়। কিন্তু সংরক্ষণব্যবস্থা, সরবরাহ চেইন ও আন্তর্জাতিক মানের অভাবে এই খাত কাঙ্ক্ষিত মূল্য সংযোজন করতে পারছে না।

একসময় চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য থেকে বাংলাদেশের রফতানি আয় ১ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল। বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৮০০ থেকে ৯০০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে। বিশ্লেষকদের মতে, সুশাসন ও আধুনিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে কোরবানির চামড়া দেশের রপ্তানি আয়ের বড় ভিত্তি হতে পারে।

নতুন ঋণ পেতে হিমশিম উদ্যোক্তারা

কোরবানির ঈদ সামনে রেখে চামড়া খাতে নতুন ঋণ বিতরণে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। খাতটিতে বিতরণ করা প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার ঋণের মধ্যে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা খেলাপিতে পরিণত হয়েছে, যা মোট ঋণের ১২ দশমিক ৫০ শতাংশ। এছাড়া প্রায় ৮০০ কোটি টাকার ঋণ অবলোপন (রাইট অফ) করেছে ব্যাংকগুলো।

ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খেলাপি ঋণের কারণে অনেক উদ্যোক্তা এবার কাঁচা চামড়া কেনার জন্য নতুন ঋণ পাচ্ছেন না। যদিও কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণ বিতরণ সহজ করতে কিছু শর্ত শিথিল করেছে। নিয়মিত ঋণের কিস্তি পরিশোধে ৩০ জুন পর্যন্ত আংশিক ছাড় দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কারণে খেলাপি হওয়া উদ্যোক্তাদের ২ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ঋণ নবায়নের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে বেশির ভাগ উদ্যোক্তাই সেই অর্থ জমা দিতে পারেননি।

চলতি বছর চামড়া খাতে ২২৮ কোটি ৫০ লাখ টাকার ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও ঈদের আগের শেষ ব্যাংকিং কার্যদিবস পর্যন্ত নামমাত্র ঋণ বিতরণ হয়েছে।

ব্যাংক সূত্র জানায়, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংক এ খাতে বেশি ঋণ দেওয়ার পরিকল্পনা করলেও খেলাপির কারণে অনেক আবেদনই আটকে আছে। গত বছর ৬৪৪ কোটি ৫০ লাখ টাকার ঋণ বিতরণের লক্ষ্য থাকলেও বাস্তবে বিতরণ হয়েছিল মাত্র ৬৫ কোটি টাকা, যার বড় অংশই পরে খেলাপিতে পরিণত হয়।

সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, অর্থসংকটের কারণে এবার কাঁচা চামড়া সংগ্রহ ও সংরক্ষণে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

সামনে কী অপেক্ষা করছে

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, কোরবানির বাজার শেষ পর্যন্ত কতটা প্রাণ ফিরে পাবে, তা নির্ভর করবে শেষ মুহূর্তের ক্রেতা উপস্থিতির ওপর। তবে বর্তমান বাস্তবতায় বড় গরুর বাজারে চাপ, সীমিত ক্রয়ক্ষমতা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে কোরবানির অর্থনীতি আগের মতো গতি পাবে কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

তারপরও এই মৌসুমি অর্থনীতি এখনো বাংলাদেশের অন্যতম বড় অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক ইঞ্জিন। কারণ, কোরবানির ঈদ শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি গ্রামীণ আয়, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, ভোগব্যয়, মৌসুমি কর্মসংস্থান ও নগদ অর্থপ্রবাহের এক বিশাল অর্থনৈতিক চক্র।