Image description

গাবতলীর গরুর হাটে আসা ট্রাক ফেরত যাচ্ছে খালি। তবে গাবতলী থেকে আমিনবাজার ব্রিজের অর্ধেক গিয়েই থেমে যাচ্ছে ওগুলো। দাঁড়িয়ে আছে সারি সারি। থেমে থাকা সেরকম একটি ট্রাক থেকেই এক কন্ট্রাক্টর বের হয়ে বারবার ডাকছেন ‘রংপুর ছয়শ, রংপুর ছয়শ’।

ডাক শুনে উঠে পড়লেন আসাদুল্লাহ হক। জিজ্ঞেস করতেই বলেন, ‘গাবতলী থেকে রংপুরের বাস ভাড়া ১৫০০ এর নীচে কেউ নিচ্ছে না। কাউন্টারে গিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম। বলছে, টিকিটের দাম ১৮০০ টাকা। তাই অর্ধেকেরও কম টাকায় ট্রাকে করেই যাচ্ছি।’ আরো বলেন, ‘মিরপুরের একটি ছোট গার্মেন্টসে কাজ করি। এত টাকা বাস ভাড়া দিয়ে গেলে, বাড়ির জন্য নিব কী?’

ঝুঁকি নিয়ে পিকআপে চড়েছেন আসাদুল্লাহের মতো অনেকেই। ছবি: আগামীর সময়

পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে দেশের মহাসড়কগুলোতে। তবে অতিরিক্ত বাসভাড়া ও সীমিত পরিবহন সংকটের কারণে এখনও অনেক নিম্ন আয়ের মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ ট্রাক ও পিকআপে করেই বাড়ি ফিরছেন।

ঈদযাত্রার প্রথম দিন সোমবার (২৫ মে) সকালে গাজীপুর থেকে নওগাঁগামী একটি রডবোঝাই ট্রাক টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন ১৫ জন। চলতি ঈদযাত্রায় এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় সড়ক দুর্ঘটনা। তবে এ ঘটনার পরও যাত্রীদের মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফেরার প্রবণতা কমেনি।

স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে একটি ট্রাকে উঠে গেলেন হামিদ শেখ। মালবাহী ট্রাকে চড়েই যাবেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ট্রাকে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গাবতলী বাস টার্মিনালে অপেক্ষা করেছি বাসের জন্য। কিন্তু কোনো বাসেই ৪টি সিট খালি পাচ্ছিলাম না। একটি বাসে ২টি সিট খালি পেয়েছিলাম। কিন্তু টিকিটের দাম চেয়েছে দ্বিগুণেরও বেশি। তাই ট্রাকে করে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। উপরে ত্রিপল দিয়ে মুড়ে দেওয়া। বৃষ্টি এলেও ভিজবো না।’

গত সোমবারের দুর্ঘটনার কথা তুললে তিনি বলেন, ‘আমি সেই ঘটনা শুনেছি। কিন্তু এখন কী করবো? বাড়ি তো যেতেই হবে। কতক্ষণ বাসের জন্য দাঁড়িয়ে থাকবো? আর টিকিটের দামও অনেক বেশি। তাই একটু ঝুঁকি নিয়েই আল্লাহর নাম করে যাচ্ছি।’

খোলা ট্রাকে এভাবেই গাদাগাদি করে তোলা হচ্ছে যাত্রী। ছবি: আগামীর সময়

ট্রাক ড্রাইভারের কাছে যাত্রী তোলার কথা জিজ্ঞেস করলে বলেন, ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে গরু নিয়ে এসেছিলাম গাবতলী গরুর হাটে। গরু হাঁটে নামিয়ে দিয়েছি। এখন আমাকে এত পথ যদি খালি গাড়ি নিয়ে যেতে হয়, তাহলে আমার ডিজেল ভরে লাভই থাকবে না তেমন। তাই ফিরে যাওয়ার পথে যারা যেতে চাচ্ছে তাদের কম টাকায়ই নিয়ে যাচ্ছি। এতে তাদেরও উপকার হচ্ছে। কম টাকায়ই যেতে পারছে।’

তবে বাংলাদেশে পণ্যবাহী যানবাহনে যাত্রী পরিবহন করা সম্পূর্ণ বেআইনি ও দণ্ডনীয় অপরাধ। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ৩৪(২) ধারা অনুযায়ী, কোনো অবস্থাতেই পণ্যবাহী গাড়িতে মানুষ পরিবহন করা যাবে না। যদি কোনো চালক বা মালিক এই আইন অমান্য করেন, তবে আইনের ১০২ ধারা মোতাবেক অনধিক ১ মাসের কারাদণ্ড, ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন তিনি।