Image description

সম্প্রতি ফেসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার করে আওয়ামীলীগ পন্থী একাধিক পেইজ থেকে দাবি করা হয়েছে, “‘বরিশাল থানায় বাবার সামনে ধর্ষণের বর্ণনা দিয়েছেন মেয়ে। উল্লেখ্য যে, বাবার সামনে মেয়েকে ধর্ষণ করে দুর্বৃত্তরা। কোনোভাবে থামছেই না ধর্ষণ!’’

দেখুন এখানেএখানেএখানে ও এখানে

দ্য ডিসেন্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে, ভিডিওটি বরিশালে বাবার সামনে মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনা সম্পর্কিত নয়। প্রকৃতপক্ষে এটি ৩০ এপ্রিল কুমিল্লায় একটি এনজিও’র কর্মীদের বিরুদ্ধে এক হিন্দু দম্পতিকে মারধর ও লাঞ্ছনার অভিযোগসংক্রান্ত ঘটনার ভিডিও।

ভিডিওটির কি-ফ্রেম রিভার্স ইমেজ সার্চ করে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন ও একই ঘটনার ভিডিও পাওয়া যায়। সেসব প্রতিবেদনে ঘটনাটি কুমিল্লার বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে মারধর, পোশাক ছিঁড়ে ফেলা ও হাতের শাখা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ থাকলেও কোথাও ধর্ষণের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়নি।

দেখুন এখানেএখানেএখানে ও এখানে

কুমিল্লা প্রতিদিনে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, কুমিল্লা শহরের সদর গোয়ালপট্টি এলাকায় কিস্তির টাকা পরিশোধে বিলম্ব হওয়াকে কেন্দ্র করে বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) ‘পল্লী মঙ্গল কর্মসূচি’র কয়েকজন মাঠকর্মীর বিরুদ্ধে এক হিন্দু দম্পতিকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জিম্মাদারসহ চারজনের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী শ্যামল চন্দ্র সরকার। তবে সংশ্লিষ্ট এনজিও বিষয়টি অস্বীকার করেন।

অভিযোগের বিষয়ে পল্লী মঙ্গল কর্মসূচির কর্মকর্তা মিরাজ হোসেন গণমাধ্যমকে জানান, “এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমরা কাউকে মারধর করিনি। ঋণের টাকা না দেওয়ার জন্য ওই দম্পতি নাটক সাজিয়েছেন।”

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, রিনা রানী সাহা নামের এক গৃহপরিচালিকা পল্লী মঙ্গল কর্মসূচি থেকে ৮০ হাজার টাকার ঋণ গ্রহণ করেন। তিনি নিয়মিতভাবে মাসিক ৮ হাজার টাকা করে ছয়টি কিস্তি পরিশোধ করলেও পরবর্তী তিনটি কিস্তি সময়মতো দিতে পারেননি। রিনা রানী সাহার স্বামী শ্যামল চন্দ্র সরকার পেশায় একজন রং মিস্ত্রি।

অভিযোগে বলা হয়, গত (৩০ এপ্রিল ২০২৬) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে পল্লী মঙ্গল কর্মসূচির মাঠকর্মী মিরাজ হোসেন, রাহিদ, ইতি দেবনাথ ও রোকসানা আক্তার গোয়ালপট্টি এলাকায় তাদের ভাড়া বাসায় যান। এসময় দম্পতি আগামী মাস থেকে বকেয়া কিস্তি পরিশোধের আশ্বাস দিলেও অভিযুক্তরা তা না মেনে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

একপর্যায়ে ইতি দেবনাথ ও রোকসানা আক্তার রিনা রানী সাহাকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন বলে অভিযোগ ওঠে। স্ত্রীকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে শ্যামল চন্দ্র সরকারকেও মারধর করা হয়। এছাড়া ক্ষুব্ধ হয়ে অভিযুক্তরা দম্পতির পোশাক ছিঁড়ে ফেলেন এবং রিনা রানী সাহার শাখা ভেঙে দেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আশপাশের লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করেন।

অর্থাৎ, কুমিল্লায় বাবার সামনে মেয়েকে ধর্ষণের দাবিটি সত্য নয়। বরং এটি কুমিল্লায় একটি এনজিও’র কর্মীদের বিরুদ্ধে এক হিন্দু দম্পতিকে মারধর ও লাঞ্ছনার অভিযোগসংক্রান্ত ঘটনার ভিডিও।