Image description

নাটোরের বড়াইগ্রামে সপ্তম শ্রেণির এক মাদরাসা ছাত্রীকে (১৪) ধর্ষণের অভিযোগে বাবা ও ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (২৫ মে) ভোরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো- উপজেলার বনপাড়া পৌর এলাকার মালিপাড়া পশ্চিমাংশের বাসিন্দা শামসুল হক গাজী (৬০) ও তার ছেলে আরিফুল ইসলাম (৩০)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরীর বাড়ির পাশে অভিযুক্ত শামসুল হকের একটি চা-বিস্কুটের দোকান রয়েছে। দোকানে যাতায়াতের সুবাদে কিশোরীর ওপর নজর পড়ে তার। সুযোগ বুঝে একাধিকবার তাকে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। বিষয়টি প্রকাশ করলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।

এদিকে, বাবার অনুপস্থিতিতে দোকান পরিচালনা করা ছেলে আরিফুল ইসলামও একইভাবে কিশোরীকে নির্যাতন করে। এভাবে দীর্ঘদিন ধরে বাবা ও ছেলে উভয়ের দ্বারা কিশোরীটি নির্যাতনের শিকার হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

একপর্যায়ে শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ্য করলে পরিবারের সদস্যরা তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। সেখানে জানা যায়, কিশোরীটি প্রায় ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। পরে পরিবারের কাছে বিস্তারিত ঘটনা জানালে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পর স্থানীয়ভাবে একটি শালিস বৈঠক বসে। সেখানে ১০ লাখ টাকা কাবিননামা ও ৪ শতাংশ জমি লিখে দেওয়ার শর্তে অভিযুক্ত আরিফুল ইসলামের সঙ্গে কিশোরীর বিয়ে দেওয়া হয়।

তবে এ বিয়ে আইনগতভাবে বৈধ নয় জানতে পেরে ভুক্তভোগীর বড় ভাই বাদী হয়ে বড়াইগ্রাম থানায় মামলা দায়ের করেন।

বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস ছালাম জানান, ধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনায় মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে সোমবার দুপুরে নাটোর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে।

শীর্ষনিউজ