Image description

রোগমুক্তির আশায় মানুষ যাকে সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় ভাবেন, সেই চিকিৎসকের হাতেই অপারেশন থিয়েটার হয়ে উঠল সবচেয়ে অনিরাপদ জায়গা। ভারতের উত্তরপ্রদেশের লখনৌতে এক নারী রোগীকে চিকিৎসার নামে অজ্ঞান করার সুযোগে অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) ভেতরে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় হাসপাতালের পরিচালক ও অভিযুক্ত চিকিৎসককে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ।

 

শনিবার (২৩ মে) আনুষ্ঠানিকভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন লখনৌ পুলিশ।

 

গত ২১ মে লখনৌয়ের বকশি কা তালাব থানায় এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, ওই থানার অন্তর্গত ইন্দৌরাবাগ এলাকায় অবস্থিত তেজাস হাসপাতালে ভর্তি এক নারী রোগীর সঙ্গে চিকিৎসা চলাকালীন অত্যন্ত অশালীন ও আপত্তিকর কাজ করেছেন হাসপাতালের পরিচালক ও কর্মরত চিকিৎসক।

 

অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নেয়। সরাসরি হাসপাতালে গিয়ে ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে প্রশাসন।

 

ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। অভিযুক্ত চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস)-এর ধারা ৬৪(২)(ই) এবং এসসি/এসটি আইনের ধারা ৩(২)(৫) এর অধীনে ১৮৯/২০২৬ নম্বর মামলা দায়ের করা হয়েছে।

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত চিকিৎসকের নাম বিজয় কুমার গিরি। তিনি মূলত সিতাপুর জেলার তামবৌর থানার অন্তর্গত রাজনাপুর গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি লখনৌয়ের ইন্দৌরাবাগ এলাকার তেজাস হাসপাতালে কর্মরত। প্রাথমিক তদন্ত ও প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ জোগাড় করার পর পুলিশ প্রথমে তাকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে অভিযুক্ত নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথমতে. গত ১৯ মে ওই নারী চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর ২১ মে ওটির ভেতরে তার চিকিৎসা চলাকালীন এই ঘটনা ঘটে।

 

তদন্তকারীরা নিশ্চিত করেছেন, জেরার মুখে অভিযুক্ত চিকিৎসক অপারেশন থিয়েটারে ওই রোগীকে ধর্ষণ করার কথা স্বীকার করেছেন।

 

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার পর মামলার সঙ্গে জড়িত সব আলামত সংগ্রহ করে আইন অনুযায়ী তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

 

আইনি প্রক্রিয়া শেষে অভিযুক্ত চিকিৎসককে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

পুলিশ কর্মকর্তারা আরও জানান, জেরার সময় ওই চিকিৎসক নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন। এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো বিষয় বা অতীতে তিনি এমন কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না, তা জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ ।