Image description

যাত্রাবাড়ী থানার আরেকটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানিতে আজ শনিবার আদালতে হাজির করা হয় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে। এ সময় তাকে মামলার ফাইল দিয়ে বাতাস করেন আইনজীবীরা। তবে স্ট্যান্ড ফ্যান ব্যবস্থা করার তিন মিনিট পরেই শুনানি ছাড়াই তাকে আদালত থেকে নেওয়া হয় হাজতখানায়।

এদিন সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালতে হাজির করা হয় খায়রুল হককে। পরে বেলা সোয়া ১১টার দিকে মাথায় হেলমেট পরিয়ে পুলিশ প্রহরায় হুইল চেয়ারে করে আদালতের হাজতখানা থেকে বের করা হয়। এসময় তার হাতে একটি পানির বোতল থাকলেও, কোন হাতকড়া ছিল না। ১১টা ১৯ মিনিটে লিফটে আদালতের এজলাসে আনা হয় তাকে৷ পরে মাথার হেলমেট খুলে তাকে কাঠগড়ার পাশে হুইল চেয়ারে বসিয়ে রাখা হয়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মামলার ফাইল দিয়ে তাকে কয়েকজন আইনজীবী বাতাস দিতে থাকেন। ১১টা ৪৭ মিনিট তার জন্য স্ট্যান্ড ফ্যানের ব্যবস্থা করা হয়। তবে শুনানি না করেই পুলিশ প্রহরায় তাকে বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে নেওয়া হয় আদালতের হাজতখানায়।

এর আগে গত বছরের ২৪ জুলাই সকালে ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় ওইদিন রাতে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ২৯ জুলাই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে বেআইনি রায় দেওয়া ও জাল রায় তৈরির অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় করা মামলায় তাকে ভার্চুয়ালি গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

ওই বছরের ৩০ জুলাই বিচারক হিসেবে দুর্নীতি ও বিদ্বেষমূলকভাবে বেআইনি রায় প্রদানসহ জাল রায় তৈরির অভিযোগে শাহবাগ থানার মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়৷ গত ১০ সেপ্টেম্বর দুদকের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরবর্তীতে এই পাঁচ মামলায় গত ২৮ এপ্রিল খায়রুল হকের জামিন বহাল রাখেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ। তবে জামিন পাওয়ার পর গত ৩০ মার্চ যাত্রাবাড়ী থানার শিক্ষার্থী মো. আরিফ হত্যা ও আদাবর থানা এলাকায় গার্মেন্টসকর্মী রুবেল হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এই দুই মামলায় গত ১২ মে হাইকোর্ট রুল দিয়ে খায়রুল হককে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। এই জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক আবেদন করে। পরে গত ২০ মে এই দুই মামলায় তার জামিন বহাল রাখেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। তবে গত ১৬ মে যাত্রাবাড়ী থানার খোবাইব হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক মো. ইব্রাহিম খলিল। ওইদিন তার উপস্থিতিতে গ্রেপ্তার দেখানোর শুনানির জন্য ২৩ মে দিন ধার্য করা হয়।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সকালে যাত্রাবাড়ী ওভারব্রিজের নিচে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন খোবাইব। এরপর সকাল ১১টার দিকে মিছিল নিয়ে যাত্রাবাড়ী মোড়ের দিকে অগ্রসর হয়। শেখ হাসিনাসহ অন্য আসামিদের নির্দেশে ও মদদে পুলিশ, র‍্যাবসহ আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠন যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বোচ্ছাসেবকলীগের অস্ত্রধারীরা একসঙ্গে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার উপর অতর্কিত গুলি চালায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ওই ঘটনায় ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর নিহতের ভাই জোবায়ের আহম্মেদ বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এতে শেখ হাসিনাসহ ৮০ জনকে আসামি করা হয়।