Image description

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের কার্যক্রম এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বিভিন্ন বাণিজ্য চুক্তির তদন্ত চেয়ে করা রিট আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

গত রোববার সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মহসিন রশীদ রিটটি করেন। আজ আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী এম কে রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল।

পরে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, শুনানিতে তিনি আদালতকে বলছেন, মামলা করার ক্ষেত্রে সংক্ষুব্ধ হওয়ার যে পেরিফেরি আমাদের আইনেই বিধান রয়েছে, তার মধ্যেও উনি (রিটকারী) পড়েন না। উনার উদ্দেশ্য কোনো আইনগত প্রতিকার চাওয়া না। মনে হতে পারে, উনি হয়তো রাজনৈতিক কোনো একটা উদ্দেশ্যে কিংবা কোনো একটা অবলিক পারপাসে রিটটি করেছেন।

১৯৫৬ সালের আইনের অধীনে এই বিষয়ে কমিশন গঠনের এখতিয়ার শুধু সরকারের জানিয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, যখন সরকার সন্তুষ্ট হবে তখন এটি করবেন। কিন্তু সরকারের সন্তুষ্টির বাইরে গিয়ে আদালতের কাছে এ ধরনের প্রতিকার চাওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, মৌলিকভাবে আদালত বলেছেন, যিনি রিট পিটিশন করেছেন, তিনি কোনো আইনি প্রতিকারের নয়, বরং কোনো অবলিক ইনটেন্ট নিয়ে এটা করেছেন। এটি বিবেচনায় নিয়ে বিচারক বলেছেন, এ ধরনের পিটিশন সরকারের মুখোমুখি বিচার বিভাগকে দাঁড় করানোর একটা প্রক্রিয়া হতে পারে।

রিটকারী আইনজীবী মহসিন রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, ভবিষ্যতে কোনো নির্বাচিত সরকারকে যেন কেউ উৎখাত করতে না পারে, সেজন্য যা কিছু ঘটেছে তার তদন্ত চেয়েছি। তদন্ত কীভাবে হবে, সেটা সরকার ঠিক করবে।

২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের ৩ দিন পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেয়। ১৮ মাস পর চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন হয়। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপির সরকার গঠনের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকার বিদায় নেয়।