জুরাইস পৃথিবীতে এসেছে মাত্র চার মাস আগে। এই বয়সেই তার শরীরে হানা দিয়েছে হাম। হাসপাতালের বিছানায় তুলতুলে হাতে ক্যানুলা, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়ায় মুখে অক্সিজেন মাস্ক। ছেলেকে বাঁচাতে গত এক মাস ধরে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটছেন মা-বাবা। কিন্তু চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ইনজেকশন কিনতেও হিমশিম খাচ্ছে পরিবারটি। কারণ, একটি ইনজেকশনের দামই ১২ হাজার টাকা।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের জেনারেল ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে এমনই হৃদয়বিদারক চিত্র। চিকিৎসকরা জুরাইসকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) নেওয়ার পরামর্শ দিলেও অর্থ সংকটে জেনারেল ওয়ার্ডেই চলছে তার চিকিৎসা।
আদরের ছেলের মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন মা লামিয়া। পাশে ছিলেন বাবা সাইফুল, যিনি পেশায় একজন রিকশাচালক। তিনি জানান, গত এক মাস ধরে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছুটছেন তারা। প্রথমে পটুয়াখালী সদর হাসপাতাল, এরপর বরিশাল সদর হাসপাতাল, আর এখন রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চলছে জুরাইসের চিকিৎসা। গত এক মাস ধরেই এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে কাটছে তাদের জীবন।
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েও হাম আক্রান্ত শিশুর পেছনে প্রতিদিন কয়েক হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। রোগের জটিলতা বাড়লে সেই খরচ লাখ টাকাও ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, শিশুখাদ্য, নেবুলাইজার মেশিন ও অক্সিজেন মাস্ক কেনার ব্যয়।
জুরাইসের বাবা সাইফুল আগামীর সময়কে জানান, বরিশাল সদর হাসপাতালে ১২ দিন চিকিৎসা নেওয়ার পর চিকিৎসকরা ছেলেকে সুস্থ ঘোষণা করে ছাড়পত্র দেন। তবে তার শারীরিক অবস্থার তেমন উন্নতি হয়নি। পরে পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসেন তারা।
সাইফুলের ভাষ্য, ‘এখানে আসার পর চিকিৎসকরা তাকে আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কিন্তু অর্থ সংকটে জেনারেল ওয়ার্ডে রেখেই চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছি। ডাক্তার পাঁচটি ইনজেকশন দেওয়ার কথা বলেছেন। একটি ইনজেকশনের দাম ১২ হাজার টাকা। আমার পক্ষে এত টাকা জোগাড় করে ছেলের চিকিৎসা চালানো সম্ভব হচ্ছে না।’
ছেলে জুরাইসের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন অসহায় বাবা সাইফুল।