Image description

এসপিএম বা সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং হলো গভীর সমুদ্রে স্থাপিত এমন একটি ব্যবস্থা যার মাধ্যমে বড় ট্যাংকার থেকে অপরিশোধিত তেল বা জ্বালানি সরাসরি পাইপলাইনের মাধ্যমে তীরে বা রিফাইনারিতে স্থানান্তর করা হয়। এটি সরাসরি তীরের জেটির সঙ্গে সংযুক্ত না থেকে সমুদ্রে ভাসমান বয়া হিসেবে কাজ করে। চট্টগ্রামের ইস্টার্ন রিফাইনারিতে জাহাজ থেকে সরাসরি ক্রুড অয়েল স্থানান্তরের জন্য এমনই একটি সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) প্রকল্পের উদ্যোগ নেয় আওয়ামী সরকার। শুরুতে এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪ হাজার ৯শ’ ৩৬ কোটি টাকা। পরবর্তীতে অস্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ৮ হাজার ২শ’ ২২ কোটি টাকা করা হয়। শেখ হাসিনা, নসরুল হামিদ বিপু ছাড়াও অন্য একটি দুর্নীতিবাজচক্র এর সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়ে। ফ্যাসিস্ট হাসিনা-বিপু না থাকলেও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একই দুর্নীতিবাজ চক্র এসপিএম’র অপারেটর নিয়োগকে কেন্দ্র করে এখনো সক্রিয় রয়েছে। এখন এমন এক বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় অপারেটর নিয়োগের পাঁয়তারা চলছে, যার নজির অতীতে নেই।

১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ছিল জাতীয় নির্বাচনের তারিখ। এই তারিখটিকে টার্গেট করেই অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে এসপিএম’র অপারেশন এবং মেনটেইনেন্স কাজের জন্য আন্তর্জাতিক আহ্বান করা হয়। দরপত্র জমা দেওয়ার তারিখ নির্ধারণ করা হয় নির্বাচনের পাঁচ দিন পর ১৭ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের দিন। এটা সবারই জানা কথা, বাংলাদেশে এই নির্বাচনটা ছিল অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ। নির্বাচনী প্রচারণার সময় অন এরাইভাল ভিসা সুবিধা স্থগিত ছিল। অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের বাংলাদেশে চলাচলে ভ্রমণ সতর্কতা জারি করে। নানা অনিশ্চয়তার কারণে বিশ্বের নামকরা কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে তাদের প্রযুক্তি দল পাঠাতে পারেনি। এ কারণে তারা পূর্ণাঙ্গ ও প্রতিযোগতিমূলক প্রস্তাব তৈরি করতে সক্ষম হয়নি। অথচ এই সময়টিকেই বেছে নেয় জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, বিপিসি ও মধ্যস্বত্বভোগী দুর্নীতিবাজচক্রটি। অপারেটর হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে মোট ১১টি আন্তর্জাতিক কোম্পানি দরপত্র কিনেছিল। কিন্তু নির্বাচন পরিস্থিতির কারণে শেষ পর্যন্ত মাত্র তিনটি কোম্পানি দরপত্র জমা দিয়েছে। নির্বাচনকালীন সময়ের কথা বিবেচনা করে কোম্পানিগুলো নতুন সরকার গঠনের পরে কোনো একদিন দরপত্র গ্রহণের তারিখ নির্ধারণ করতে অনুরোধ করে। তাতে কর্ণপাত করেননি জ্বালানি বিভাগ ও বিপিসির শীর্ষ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা। এদিকে বর্তমান বিএনপি সরকারের জ্বালানি মন্ত্রণালয়ও একই পথে হাঁটছে। অপারেটর নিয়োগের বিতর্কিত প্রক্রিয়াটি এগিয়ে নিতে চাইছে। যা দুর্নীতিবিরোধী বিএনপি সরকারের কার্যক্রমকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমান সরকারের আমলে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন যশোর থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে এসপিএম’র অপারেটর নিয়োগের বর্তমান বিতর্কিত প্রক্রিয়াটি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিল সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজ ও শীর্ষনিউজ ডটকম’র পক্ষ থেকে। কিন্তু তিনি এই প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত প্রক্রিয়াটিকেই এগিয়ে নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেন। দরপত্র জমা দেওয়ার সময়টা যে ‘নজিরবিহীন’ ‘অস্বাভাবিক’ ছিল এবং তা নিয়ে যে চরম বিতর্ক রয়েছে সেদিক তিনি বিবেচনায় নিতে রাজি নন।

সূত্রগুলো বলছে, নতুন বিএনপি সরকারের ভাবমূর্তির বিষয়টিও এ মুহূর্তে মন্ত্রণালয় বিবেচনা করছে না। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা-বিপু সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবাজ চক্রটি এ সরকারের ওপরও ভর করেছে সরকার গঠনের আগে থেকেই। দরপত্র জমা দেওয়ার সময় অন্ততঃ কয়েকদিন বাড়ানো যেতো। তাতে আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান প্রতিষ্ঠানগুলো দরপত্রে অংশ নিতে পারতো। দরপত্রের প্রি-বিড মিটিং-এ নেদারল্যান্ডের বিখ্যাত কোম্পানি স্মিত ল্যামনালকো এবং মিশরের ‘মেরিডাইভ’ অংশ নিয়েছিল। কিন্তু তারা চূড়ান্ত দরপত্রে অংশ নিতে পারেনি। স্মিত ল্যামনালকো বিশ্বজুড়ে ২২টিরও বেশি টার্মিনাল পরিচালনা করছে। কোম্পানিটি দরপত্র জমা দেওয়ার সময় বাড়ানোর আবেদন করলেও তা মানা হয়নি। বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে আহবান করা দরপত্রটির নানা দিকে তুলে ধরে সম্প্রতি নেদারল্যান্ডের কোম্পানি স্মিত লামনালকো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছেও একটি চিঠি পাঠিয়েছে। সেখানে কোম্পানিটি দরপত্র গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নানা অসঙ্গতির কথা তুলে ধরেছে। একটি স্বচ্ছ প্রত্রিয়ায় পুনঃদরপত্র আহ্বান করে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন কোম্পানিগুলো যাতে অংশ নিতে পারে তার জন্য উদ্যোগ নিতেও বলা হয়েছে ওই চিঠিতে।

অন্যদিকে দরপত্র জমা দেয়ার সময়সীমা বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে মিশরের কোম্পানি মেরিডাইভের পক্ষ থেকে ঢাকাস্থ মিশরীয় দূতাবাস পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠানিক চিঠি দিলেও তাদের অনুরোধ রাখা হয়নি। মেরিডাইভ কাতার এলএনজি এবং আরামকোর সাথে যৌথভাবে বিভিন্ন প্রকল্পে কাজ করছে।
জানা গেছে, সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিংয়ের জন্য যে তিনটি কোম্পানি দরপত্র জমা দিয়েছে সেগুলো হলো- ইন্দোনেশিয়ার পার্তামিনা, চীনের সিপিপি এবং হিলন। এই তিনটি কোম্পানির বিরুদ্ধে নানান ধরনের অদক্ষতা এবং দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার পার্তামিনা নিজ দেশেই ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের কেলেঙ্কারিতে জড়িত। ২০১৯ সালে মালয়েশিয়া সরকার দুর্নীতির অভিযোগে সিপিপি’র সাথে চুক্তি বাতিল করে ও দেশটিতে প্রতিষ্ঠানটির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হতে ২৪৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার জব্দ করে। দরপত্র কারচুপি ও নিম্নমানের জ্বালানি সরবরাহের কারণে তাদের বেশ কয়েক জন কর্মকর্তাকে কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

সূত্রগুলো বলছে, অপারেটর নিয়োগের এই দরপত্রে অংশ নেওয়া হাসিনা-বিপু ঘনিষ্ঠ চীনা কোম্পানি সিপিপি’র অতীত ইতিহাস ব্যর্থতা, অনিয়ম-অপকর্মে ভরা। বাংলাদেশে এসপিএম বা সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং নির্মাণ কেলেঙ্কারির মূল নায়ক চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই সিপিপি। এর আগে ফ্যাসিস্ট হাসিনার আমলে বিনা টেন্ডারে মূল এসপিএম প্রকল্পের কাজ পেয়েছিল এই কোম্পানিটি। অত্যন্ত নিম্নমানের কাজ হয়েছে। অযৌক্তিকভাবে দফায় দফায় সময় বাড়ানো হয়েছে। নানা অনিয়ম-অপকর্মের মাধ্যমে প্রকল্পের ব্যয় দ্বিগুণ করা হয়েছে। সরকারি অর্থের ভাগ-বাটোয়ারা হয়েছে হাসিনা-বিপু সিন্ডিকেট ও চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিপিসির মধ্যে। এর মাঝে মধ্যস্বত্বভোগী দুর্নীতিবাজচক্রও জড়িত ছিল তখন। হাসিনা-বিপু ঘনিষ্ঠ একই দুর্নীতিবাজচক্র অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর ভর করে এখন এ সরকারের ওপরও এসেছে। এদের সুদূরপ্রসারী কারসাজির অংশ হিসেবেই অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ মুহূর্তে অপারেটর ঠিকাদার নিয়োগের দরপত্র আহ্বান করা হয়। এবং দরপত্র জমা দেওয়ার সময় নির্ধারণ করা হয় জাতীয় নির্বাচনের মাত্র পাঁচ দিন পরে ১৭ ফেব্রুয়ারি, সরকার গঠনের দিন।

আগেই বলা হয়েছে, চীনা এই প্রতিষ্ঠান সিপিপি’র বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে মালয়েশিয়ায় বিলিয়ন ডলারের পাইপলাইন প্রজেক্ট বাতিল হয়েছে। সূত্রগুলো আরো জানায়, সিপিপি কোম্পানিটি ইপিসি সংশ্লিষ্ট কাজে অভিজ্ঞ হলেও এসপিএম অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রমাণিত অভিজ্ঞতা প্রদর্শন করতে পারেনি- যা এ প্রকল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতা। এছাড়া চীনা এই কোম্পানি সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোএসএ- এর সাথে একটি অস্বচ্ছ ও বিতর্কিত ফান্ডিং কেলেঙ্কারিতে যুক্ত থাকার কারণে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছে।

প্রসঙ্গত, এই এসপিএম প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ২০১০ সালে বাংলাদেশের অনুরোধে ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ২৩৭ মিলিয়ন ইউএস ডলার ঋণ দিতে সম্মত হয়। এর ধারাবাহিকতায় জার্মান পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘আইএলএফ’ মতামত প্রদান করে যে, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য এই পরিমাণ অর্থ যথেষ্ট নয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী সরকার আইএলএফ এর পরামর্শে লোনটি ৩০০ মিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার অনুরোধ করে।

এই প্রক্রিয়া চলমান থাকা অবস্থায়ই নসরুল হামিদ বিপু বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বপ্রাপ্ত হন এবং দ্রুতই এই প্রকল্পের অর্থায়নের জন্য চীনকে অনুরোধ করেন। চায়না পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (সিপিপি) এই প্রকল্পে অর্থায়নে রাজি হয়।

প্রকৃত দুর্নীতির সূত্রপাত ঘটে এখান থেকেই, নসরুল হামিদ উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগসাজশে নতুন কিছু আইটেম যোগ করে প্রকল্পের কলেবর অপ্রয়োজনীয়ভাবে কিছুটা বৃদ্ধি করেন। প্রাথমিকভাবে উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক একটি পাইপলাইনের সুপারিশ করা হলেও পরবর্তীতে এখানে আরো একটি পাইপলাইন যোগ করা হয় এবং সেই সাথে অপ্রয়োজনীয়ভাবে একটি সাম্প ট্যাঙ্ক স্থাপন করার প্রস্তাব করা হয়। দূরভিসন্ধিমূলকভাবে অপ্রয়োজনীয় এইসব যন্ত্রপাতি যোগ করার আসল কারণটি দ্রুতই সামনে চলে আসে যখন চাইনিজ প্রতিষ্ঠান, প্রকল্পটির ব্যয় ৯০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করে এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন ছলচাতুরির মাধ্যমে ৩০০ মিলিয়ন ডলারের প্রকল্পটি ৫৮৬ মিলিয়ন ডলারে চূড়ান্ত করা হয়।

চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের আগে মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সিপিপি এর যোগ্যতা যাচাই-বাছাই নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে চাইনিজ কোম্পানিটির কাছে তাদের সাব-সি পাইপলাইন এবং সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং (এসপিএম) স্থাপনের অভিজ্ঞতার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তারা একটি বেশ রিমোট আফ্রিকান কান্ট্রিতে এই ধরনের কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা জানায়।

বিষয়টি সরেজমিনে যাচাই-বাছাই এবং পর্যবেক্ষণের জন্য মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধিদল ওই আফ্রিকান দেশটি সফর করেন এবং সিপিপি এর এই ধরনের কাজের দাবির কোন সত্যতা খুঁজে পাননি। অতঃপর মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দলটি চাইনিজ কোম্পানির অভিজ্ঞতার বিষয়ে একটি নেতিবাচক রিপোর্ট উপস্থাপন করেন। এতে তৎকালীন জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু ক্ষুব্ধ হয়ে ওই রিপোর্টটি বাতিল করে জোরপূর্বক একটি পজিটিভ রিপোর্ট দেওয়ার জন্য প্রতিনিধিদলের সদস্যদের নির্দেশ প্রদান করেন। নিজ চাকরি ও জীবনের নিরাপত্তার স্বার্থে এই প্রতিনিধি দলের সদস্যরা মন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী পজিটিভ রিপোর্ট উপস্থাপনের কোন বিকল্প না থাকায় তারা তাই করেন।

পরবর্তীতে কোন প্রকার প্রতিযোগিতা ছাড়াই কেবল সিপিপি প্রদত্ত দরের উপর নেগোসিয়েশন করে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। ইতোমধ্যে সিপিপি-কে ৪ বার প্রকল্পের প্রাইস এসক্যালেশন অনুমোদন দেওয়া হয়, যার ফলে ৩০০ মিলিয়ন ডলারে প্রাক্কলিত একটি প্রকল্পের মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৭০০ মিলিয়ন ডলার, অথচ এখন পুরো প্রকল্পটিই স্থবির হয়ে গেছে। কেবলমাত্র এই একটি এসপিএম নির্মাণ করতেই রাষ্ট্রের বিপুল বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় করা, লুটপাট ও আত্মসাৎ হয়েছে।

জানা যায়, দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী ২০২৩ সালের অক্টোবরে পাইপলাইনটি একবার পরীক্ষা করে প্রচুর ত্রুটি পাওয়া যায়। ওই সময় পাইপলাইনটি ফেটে যায়। অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রশ্নে ২০২৪ সালে দ্বিতীয়বার পরীক্ষা করা হয়। এরপরও প্রকল্পটির ত্রুটি-বিচ্যুতি নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। বিপিসির পক্ষে পাইপলাইনটির নির্মাণকাজ দেখভালের জন্য নিয়োজিত পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আইএলএফ ইতোমধ্যে বেশকিছু অভিযোগ মীমাংসা করতে বলেছে চীনা কোম্পানি সিপিপিকে। সেগুলোর পুরোপুরি মীমাংসা করা সম্ভব হয়নি। আশংকা করা হচ্ছে, অপারেটর ঠিকাদার নিয়োগের পর যখন এটিতে পূর্ণ সক্ষমতায় কাজ শুরু হবে, আরও ব্যাপক ত্রুটি ধরা পড়বে।

এদিকে ৭ ফেব্রুয়ারি এ প্রকল্পে সিপিপির ত্রুটি সংশোধনের সময় (ডিফেকটিভ লায়াবেলিটি প্রিয়ড) শেষ হয়েছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান থাকলেও বাংলাদেশের পিটিসিএল’র সেই ত্রুটি সংশোধন বা বুঝিয়ে নেওয়ার মতো দক্ষতা নেই। এ কারণে নতুন করে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। কারণ, এরপর কোনো ত্রুটি থাকলেও চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কিছুই করবে না। জানা যায়, তাদের এ ত্রুটি সংশোধনের সময়সীমা ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর জন্য বলা হলে প্রতিষ্ঠানটি মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করে, যা বাংলাদেশের পক্ষে দেওয়া সম্ভব নয়। মূলতঃ অযোগ্য ও দুর্নীতিবাজ কোম্পানি ‘সিপিপি’ বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় অপারেটর ঠিকাদারির কাজ বাগিয়ে নেওয়ার জন্যই এসব কারসাজির আশ্রয় নিচ্ছে। অপারেটর ঠিকাদারির কাজ বাগিয়ে নিতে পারলে তাদের অতীতের অপকর্ম ঢেকে যাবে, অন্যদিকে সরকারকে জিম্মি করে নতুন নতুন অপকর্ম চালিয়ে যেতে পারবে।
শীর্ষনিউজ