Image description
আট বছরের ছোট রামিসাকে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যার পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে দুটি বিষয় রয়েছে।
এক. এই ঘটনায় দায়। দুই. বিচার প্রতি অনাস্থা।

১. এই ঘটনায় দায়।

দুনিয়ার সব সমাজেই কিছু বিকৃত মানসিকতার মানুষ পিশাচ বাস করে। সেটা বাংলাদেশ হোক বা দুনিয়ার সবচেয়ে কম অপরাধপ্রবণ দেশ আইসল্যান্ড হোক। রামিসাকে ধর্ষণ ও খুনের দায় স্বীকার করা আসামি সোহেল হাইপ্রোফাইল, ক্ষমতাধর বা ক্ষমতাবান কারো প্রকেটশন প্রাপ্ত কেউ নয়। এখানে তনুর ধর্ষক খুনীদের মত কেউ কাউকে বাঁচাচ্ছে না।  

আজ থেকে বহু বছর আগে আমার সামনেই ময়মনসিংহ রেল স্টেশনে একজন ভিক্ষুককে ধরা হয়েছিল শিশু ধর্ষণের অভিযোগে। দেশের সবচেয়ে ক্ষমতাবান শিল্পপতির কিশোরী  মেয়ে নিজ বাসায় ধর্ষণ ও খুনের শিকার হয়েছিল বাড়ির কাজের ছেলের দ্বারা। ধর্ষণ, ব্যক্তিগত বিরোধে খুনের মত হিনিয়াস ক্রাইম কোনো রাষ্ট্রের পক্ষে ঠেকানো সম্ভব নয়। বাংলাদেশের পক্ষে তো নয়ই। সুতরাং এসব ঘটনায় সরকারকে কাঠগড়ায় তোলার চেয়ে এসব সাইকোকে কীভাবে ডিল করা হবে, তা নিয়ে আলাপ করা জরুরি।

রামিসার মামলায় আসামির যে স্বীকারোক্তি পড়লাম, তা ভয়াবহ। আসামি তাঁর স্ত্রী স্বপ্নার উপস্থিতিতে একজন শিশুকে ধর্ষণ ও খুন করেছে। এর আগে সে ইয়াবা সেবন করেছিল। স্ত্রী তার সহযোগী ছিল। সাধারণত নারীকে ধর্ষণে সহায়তা করতে দেখা যায় না। অন্তত কোনো স্ত্রী তার স্বামী এ কাজে সহায়তা করবে- এটা তো কল্পনাতীত। তাই সাইকোদের কাজকে আইন শৃঙ্খলার অবনতি, সরকার, আদালত দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাবে না। 

২. বিচার প্রতি অনাস্থা।

দ্বিতীয় বিষয়টি বেশি ভয়াবহ। রামিসার বাবা স্পষ্ট ভাষায় বলছেন, তিনি বিচার চান না। কারণ বিচার কেউ করতে পারবে না। তিনি তা স্ট্যাম্পে লিখে দিতে পারেন। এটার জন্য সরকারকে ধরেন। শক্তভাবে ধরেন। কারণ, মানুষ বিশ্বাসই করে না, সরকার বিচার করবে বা বিচার করতে পারবে। কেনো করে না? কারণ সরকার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে না। 

যেমন গত বছর শিশু আছিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার হয়েছে মাত্র ১৪ কার্যদিবসে। আসামির ফাঁসির সাজা হয়েছে। এরপর এক বছর ধরে মামলায় হাইকোর্টে রয়েছে। মানুষের বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে, নিম্ন আদালতে দ্রুত বিচার হওয়াই যথেষ্ট নয়। যেসব ঘটনায় হাতেনাতে প্রমাণ পাওয়া যাবে, তদন্তে পাওয়া সাক্ষীপ্রমাণে কোনো সন্দেহ নেই, সেই সব ঘটনায় বিচারের সব ধাপ দ্রুত শেষ হয়ে, সাজা কার্যকর হলে মানুষ ভরসা পাবে। মানুষ দ্রুত ঘটনা ভুলে যায়। ধরুন, খুব ভয়াবহ নৃশংস কোনো ঘটনায় ১০ বছর পর রায় হলো, ২০ বছর পর সাজা কার্যকর হলো। কে মনে রাখবে এত বছর?

যেইসব ঘটনা ওপেন এন্ড শাট, সেখানে বিচার দ্রুত করে, দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে সরকার ও বিচার বিভাগকে নজির স্থাপন করতে হবে। সাজা এবং সাজা কার্যকরের বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচার করতে হবে সরকারকে। নইলে মানুষের আস্থা ফিরবে না। যা আসল সমস্যা। এই আস্থাহীনতা অপরাধীকে অপরাধ করতে কিছুটা হলেও সাহস দেয়।

-Rajib Ahamod