Image description

খাদ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ‘বাংলাদেশ মডার্ন ফুড স্টোরেজ ফ্যাসিলিটিজ প্রজেক্ট (বিএমএফএসপি)’ -এর অধীনে ৫.৩৫ লক্ষ মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার ৮টি আধুনিক স্টিল সাইলো নির্মাণের প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। প্রকল্প এলাকাগুলোর মধ্যে বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা, আশুগঞ্জ, ময়মনসিংহ, মহেশ্বরপাশা, চট্টগ্রাম ও মধুপুর অন্তর্ভুক্ত। শুরুতে যার বরাদ্দ ধরা হয়েছিল ১৯১৯৯৬.৭৫ লক্ষ টাকা। পরবর্তীতে ঢাকার সাইলো বাদ রেখে ৭টির টেন্ডার আহ্বান করা হয়। কিন্তু ব্যয় উল্টো, ১ হাজার ৯শ’ ১৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা থেকে দফায় দফায় বাড়িয়ে ৩ হাজার ৯শ’ ৬০ কোটি ৮৯ লাখ টাকা করা হয়। অর্থাৎ দ্বিগুণেরও বেশি। কিন্তু অস্বাভাবিক পরিমাণে ব্যয় বাড়ানো হলেও প্রকল্পের উদ্দেশ্য অনুযায়ী কাজ হয়নি কিছুই। কাগজপত্রে ইউরোপের যন্ত্রপাতিতে আধুনিক সাইলো নির্মাণ দেখানো হলেও বাস্তবে কেরাণীগঞ্জের জিঞ্জিরা থেকে এনে যন্ত্রপাতি বসানো হয়। যারফলে আধুনিক সাইলো’র পরিবর্তে এগুলো সাধারণ গুদামে পরিণত হয়েছে। যে উদ্দেশ্যে সাইলোগুলো নির্মাণ করা হয়েছিল, উদ্দেশ্য বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এদিকে বিশ^ব্যাংকের ঋণে নেওয়া এই প্রকল্পটির মেয়াদ গত ডিসেম্বরে শেষ হয়েছে, কিন্তু অধিকাংশ কাজ এখন পর্যন্ত বুঝে পাওয়া যায়নি। অপূর্ণতাসহ যেগুলো বুঝে নেওয়া হচ্ছে, তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় বিশ^ব্যাংকের ঋণের এই পুরো চার হাজার কোটি টাকাই জলে গেছে, বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

জানা গেছে, ৭টি সাইলোর মধ্যে ময়মনসিংহ এবং টাঙ্গাইলের সাইলো সীমিত আকারে ব্যবহার করা হচ্ছে। তাও অনেকটা অদ্ভুত নিয়মে। বস্তায় করে সাইলোস্থলে নিয়ে বস্তা কেটে চাল রাখা হচ্ছে সাইলোতে। এতে শ্রম-অর্থ দুটোরই অপচয় হচ্ছে। অথচ পরিকল্পনা অনুযায়ী আধুনিক যন্ত্রপাতিতে সাইলো নির্মাণ করা হলে বস্তায় করেই চাল-গম দীর্ঘকাল সংরক্ষণ করা যেতো। যে পদ্ধতিতে টাঙ্গাইল এবং ময়মনসিংহের সাইলো ব্যবহার করা হচ্ছে তাতে খাদ্য কর্মকর্তারা রাজি ছিলেন না। তারা এসব সাইলোকে ব্যবহার অযোগ্য বলে বিবেচনা করছিলেন। কিন্তু ঠিকাদার, প্রকল্প পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অন্তর্বর্তী সরকারের খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার খাদ্য কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে এই সাইলোগুলো বুঝে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। খাদ্য উপদেষ্টার ছেলে টিপুও এরসঙ্গে জড়িত ছিলেন।

এছাড়া খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমামের হাত দিয়ে সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে ভেরিয়েশনের মাধ্যমে এক দফায় ব্যয় বাড়ানো হয়। অবৈধ প্রক্রিয়ায় দ্বিতীয় দফায় ১১৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা ভেরিয়েশনের প্রস্তাব সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে পাঠানো হলে সংশ্লিষ্ট মহলে এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন্ ওঠে। সাপ্তাহিক শীর্ষ কাগজের এক প্রতিবেদনে এ অনিয়মের সুনির্দিষ্ট তথ্য তুলে ধরা হয়। ফলে উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বাধ্য হন ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি থেকে প্রস্তাব ফিরিয়ে আনতে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি থেকে ভেরিয়েশনের প্রস্তাব ফিরিয়ে আনা হলেও তার আগেই অর্থ পরিশোধ করা হয়ে গেছে। এ নিয়ে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মুখ খুলতে রাজি নন। বর্তমান প্রকল্প পরিচালক, উপসচিব মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলার চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।
খাদ্য কর্মকর্তারা বলছেন, বরিশালের ‘মডার্ন’ সাইলোটি আদৌ কখনো ব্যবহার করা যাবে কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। চট্টগ্রাম এবং বাহ্মণবাড়িয়া আশুগঞ্জের সাইলো দু’টির নির্মাণ কাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি। অথচ গত ডিসেম্বরে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এটির মেয়াদ আর বাড়ানো হবে না বলে বিশ^ব্যাংকের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন না হওয়া এবং ব্যয় ভেরিয়েশন বিষয়ে আলাদা দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তবে কমিটি দুটিরই কার্যপরিধি ছিল অত্যন্ত সীমিত। সুনির্দিষ্ট দু’একটি বিষয়ে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল এসব কমিটিকে। মন্ত্রণালয়ের তখনকার অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীনকে আহ্বায়ক করে গঠিত চার সদস্যের কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ক্রয় কমিটি থেকে ফিরিয়ে আনা ভ্যারিয়েশন প্রস্তাবটি খতিয়ে দেখার। এই ভেরিয়েশন প্রস্তাবটি ছিল খুলনা মহেশ^রপাশায় গমের সাইলো নির্মাণ সংক্রান্ত। গত ২৯ অক্টোবর, ২০২৫ এই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এরপরে সর্বশেষ গত ৩ মার্চ, ২০২৫ গঠন করা হয়েছিল আরেকটি তদন্ত কমিটি। যুগ্মসচিব মো. মনির হোসেনের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের এই কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল চট্টগ্রাম সাইলোর নির্মাণ কাজ শেষ না হওয়ার কারণসমূহ উদঘাটনের।

যুগ্মসচিব মনির হোসেনের নেতৃত্বাধীন কমিটিকে শুধুমাত্র চট্টগ্রামের সাইলো পরিদর্শনের দায়িত্ব দেওয়া হলেও কমিটি একই সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়াস্থ আশুগঞ্জের সাইলোটিও পরিদর্শন করে আসে। কমিটির সদস্যরা আশুগগঞ্জ এবং চট্টগ্রাম উভয় সাইলোতেই ব্যাপক অনিয়ম দেখতে পান। তবে যেহেতু বিলম্বের কারণসমূহ উদঘাটন করতে বলা হয়েছে তাই কমিটির পক্ষে কাজের মান খতিয়ে দেখা সম্ভব হয়নি। গত ৮ এপ্রিল এই তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করেছে। আশুগঞ্জ সাইলোর নির্মাণকাজ অর্ধেকও সম্পন্ন হয়নি। তবে ঠিকাদারকে অর্থ পরিশোধ হয়েছে ৪২০ কোটি টাকা, যা চুক্তিমূল্যের ৭৭.৮১%। সবচেয়ে বড় কথা হলো, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় অসম্পন্ন এই সাইলো নিয়ে বিপাকে পড়েছে সরকার। কোনো কাজে লাগাতে পারছে না। আশুগঞ্জ সাইলোর ঠিকাদার ইতিমধ্যেই কাজে অপারগতা প্রকাশ করেছে।

চট্টগ্রাম সাইলো সম্পর্কে তদন্ত কমিটির সুপারিশে বলা হয়েছে, “চট্টগ্রাম গমের সাইলো’র সম্পাদিত কাজের বিপরীতে এ পর্যন্ত মোট পরিশোধ করা হয়েছে ৩৪,৩৯,৪১,৫৬৬.১৮ টাকা যা চুক্তিমূল্যের (৫৮,৩৩,৪৭,৭০২,০০ টাকা) ৫৮.৯৬% এবং ৬০,৮৬৩,২১৬.০৯ মার্কিন ডলার যা চুক্তিমূল্যের (৫৬,৫১৪,৩৪০.০০ ইউএসডি) ১০৭.৬৯৫%। অর্থাৎ চুক্তিমূল্যের চেয়ে (৬০,৮৬৩,২১৬.০৯- ৫৬,৫১৪,৩৪০.০০)= ৪,৩৪৮,৮৭৬.০৯ মার্কিন ডলার (প্রতি ডলার ১২০.০০ টাকা হিসেবে ৫২,১৮,৬৫,১৩০.৮০ টাকা) অতিরিক্ত পরিশোধ করা হয়েছে যা গুরুতর আর্থিক অনিয়ম।”

“চুক্তি মোতাবেক সকল কাজ সম্পন্ন হওয়ার পূর্বেই চুক্তিমূল্যের চেয়ে ৪,৩৪৮,৮৭৬,০৯ মার্কিন ডলার বা ৫২ কোটি ১৮ লাখ, ৬৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ করা জন্য বর্তমান প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান-এর বিরদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করায় অন্য সুপারিশ করা হলো।”

“কমিটির কর্ম-পরিধি অনুযায়ী আর্থিক বিষয়সমূহ যাচাই করার সুযোগ ছিল না। যেহেতু চট্টগ্রাম স্টীলের সাইলোতে ঠিকাদারকে চুক্তিমূল্যের চেয়ে ৪,৩৪৮,৮৭৬.০৯ মার্কিন ডলার (প্রতি ডলার ১২০.০০ টাকা হিসেবে ৫২,১৮,৬৫,১৩০.৮০ টাকা) অতিরিক্ত পরিশোধ করার বিষয়টি তদন্ত কমিটির নজরে এসেছে, সেহেতু আরও কোন আর্থিক অসঙ্গতি আছে কিনা তা আলাদা একটি কমিটি করে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করার জন্য সুপারিশ করা হলো।”
এর আগে গত অক্টোবরে খুলনাস্থ মহেশ^রপাশা সাইলোর ভেরিয়েশন বিষয়ে যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল, অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াসীনের নেতৃত্বাধীন এই কমিটি প্রতিবেদন দাখিল করে ৯ নভেম্বর, ২০২৫। কমিটির প্রতিবেদনে মতামত কলামে বলা হয়,
১। ঘড়হ ঞবহফবৎ ওঃবস সমূহ উচচ রিভিশনে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ ছিল, তা না করে ভ্যারিয়েশনের মাধ্যমে কাজগুলো করার বিষয়টি যুক্তিযুক্ত নয় মর্মে প্রতীয়মান হয়।

২। পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কর্তৃক যে সকল কাজের ভেরিয়েশন অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল, অনুমোদনের জন্য পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ না করে ঠিকাদার সে সকল কাজ কিভাবে সম্পাদন করেছে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে জানতে চাওয়া যেতে পারে।

৩। ঈঈএচ কর্তৃক ভেরিয়েশন প্রস্তাব অনুমোদন ব্যতিরেকে ঠিকাদার ও প্রকল্প পরিচালক কর্তৃক কার্য-সম্পাদনের উদ্যোগ গ্রহণ করার বিষয়ে ঠিকাদার ও প্রকল্প পরিচালক এর কাছে জানতে চাওয়া যেতে পারে।
৪। জরুরি জনসেবা বিঘ্নিত হবার আশংকায় বা জীবন ও সম্পত্তির ক্ষতি হবার আশংকায় বা সময় সংবেদনশীল পরিস্থিতি বিবেচনায় ক্রয়কারী কার্যালয়ের প্রধান (ঐঙচঊ) এর অনুমোদনের ভিত্তিতে যদি ঠিকাদার কার্য-সম্পাদন উদ্যোগ করে থাকেন, তাহলে পিপিআর ২০০৮ এর ধারা ৮০(৪) অনুযায়ী এ সংক্রান্ত প্রমাণক উপস্থাপনের জন্য ঠিকাদার ও প্রকল্প পরিচালককে নির্দেশনা প্রদান করা যেতে পারে।

৫। ভেরিয়েশন, কাজসমূহ বাস্তবে ফিজিক্যালি সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে কর্তৃপক্ষকে প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে অবহিত না করে, সেই ভেরিয়েশন অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব প্রেরণ করায় প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া যেতে পারে।
৬। ঠিকাদারের সাথে সম্পাদিত চুক্তির মেয়াদ ইতোমধ্যে ৩০ জুন ২০২৫ তারিখে শেষ হওয়ার পর, ঠিকাদার কর্তৃক প্রস্তাবিত ভেরিয়েশনটি প্রকল্প পরিচালক কর্তৃক ২১/৮/২৫ তারিখে অগ্রায়নের ভিত্তিতে ক্রয়কারী কার্যালয় প্রধান (ঐঙচঊ) কর্তৃক ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে ঈঈএচ তে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপনের মাধ্যমে চুক্তিমূল্য সংশোধনের বিধিগত সুযোগ রয়েছে কিনা এ বিষয়ে সুস্পষ্ট মতামত দেয়ার জন্য প্রকল্প পরিচালক, প্রকল্পের পরামর্শক সংস্থা ও ক্রয়কারী কার্যালয়ের প্রধান (ঐঙচঊ) কে নির্দেশনা প্রদান করা যেতে পারে। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও ভেরিয়েশন প্রস্তাব অনুমোদনের মাধ্যমে চুক্তিমূল্য সংশোধন করার বিষয়ে বিশ্ব ব্যাংকের সাথে যদি স্পেশাল এরেঞ্জমেন্ট বা নেগোসিয়েশন হয়ে থাকে, সে সকল ডকুমেন্ট উপস্থাপনের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেয়া যেতে পারে।
সার্বিক বিবেচনায়, ভেরিয়েশন প্রস্তাবে বর্ণিত (টেন্ডারভুক্ত ও টেন্ডারবহির্ভূত নতুন আইটেম) কাজসমূহ ইতোমধ্যে বাস্তবে ফিজিক্যালি ঠিকাদার কর্তৃক সম্পন্ন হওয়ায়; ভেরিয়েশন প্রস্তাবের সাথে প্রাথমিক ডিজাইনের/নকশার তুলনা করা, শিডিউল যাচাই করা, নকশা অনুযায়ী কাজ হয়েছে কিনা, কাজগুলো কত ফুট মাটির নিচে করা হয়েছে, মাটির উপরে বা নীচে কি ধরণের ম্যাটেরিয়ালস ব্যবহার করা হয়েছে তা কমিটি কর্তৃক পরিদর্শনকালে বাস্তবে যাচাই করার সুযোগ না থাকায় এবং ঠিকাদারের সাথে সম্পাদিত চুক্তির সময়সীমা ৩০ জুন ২০২৫ তারিখে শেষ হওয়ার পর, প্রকল্প পরিচালক কর্তৃক ২১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে ও ঐঙচঊ কর্তৃক ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রেরিত এই ভেরিয়েশন প্রস্তাবটির বিষয়ে কমিটির মতামতের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষ পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন।

শীর্ষনিউজ