জিয়া পরিবারের সঙ্গে শেখ হাসিনার পরিবারের মধ্যকার একটি অপ্রীতিকর ঘটনা নিয়ে সিনিয়র সাংবাদিক নঈম নিজাম মিথ্যা ও বিকৃত তথ্য দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ঘটনার অন্যতম সাক্ষী এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভাইয়ের ছেলে শামস এসকান্দার।
তিনি বলেছেন, নঈম নিজাম প্রধান বিষয়গুলো বাদ দিয়ে নিজের মতো করে ঘটনাটিকে ‘টুইস্ট’ করেছেন। একই সঙ্গে নিজে একজন সম্পাদক হয়ে অন্য একটি স্বনামধন্য পত্রিকার সম্পাদকের বিরুদ্ধে অপতথ্য ছড়িয়েছেন।
সোমবার (১৮ মে) একটি মামলার তদন্তের প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যান সাঈদ এসকান্দারের ছেলে শামস এসকান্দার। মূলত তাকে কেন্দ্র করেই সেদিনের ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল। সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকেরা প্রকৃত ঘটনা জানতে চাইলে তিনি নঈম নিজামের দাবির তীব্র বিরোধিতা করেন।
এর আগে, গত ১৪ মে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সাবেক সম্পাদক নঈম নিজাম নিজের ফেসবুক আইডিতে ‘মাহফুজ আনামকে নিয়ে সাঈদ এসকান্দারের বাসায় গিয়ে শেখ হাসিনার দুঃখ প্রকাশ’ শিরোনামে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, খালেদা জিয়ার প্রথম সরকারের সময় জিয়া পরিবারের সঙ্গে হাসিনার পরিবারের একটি অপ্রীতিকর ঘটনা মীমাংসার উদ্দেশ্যে হাসিনার গাড়িতে করে সাঈদ এসকান্দারের বাসায় গিয়েছিলেন দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম। নঈম নিজামের দাবি, মাহফুজ আনাম তখন সাঈদ এসকান্দারের স্ত্রীর সঙ্গে হাসিনার মুখোমুখি আলাপ রেকর্ড করতে হাসিনার বিশেষ সহকারী মৃণাল কান্তি দাসকে পরামর্শ দেন।
নঈম নিজামের এই দাবির পর বিষয়টি নিয়ে নানা মহলে আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়। একজন সাংবাদিক হিসেবে মাহফুজ আনাম ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া কথোপকথন রেকর্ড করার পরামর্শ দিতে পারেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। তবে মাহফুজ আনাম ইতিমধ্যে নঈম নিজামের ওই দাবিকে ‘কাল্পনিক’ বলে গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়েছেন।
সেদিনের প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরে শামস এসকান্দার সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১০ বছর। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের সামনে দিয়ে স্কুলে যাওয়ার সময় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গাড়ির চালকসহ তাকে মারধর করে। পরে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকা থেকে তাকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ছয় ঘণ্টার বেশি সময় একটি কক্ষে আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়।
নঈম নিজামের নাম উল্লেখ না করে শামস এসকান্দার বলেন, ‘ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় আমাকে অপহরণের ঘটনাটি একজন সিনিয়র সাংবাদিক বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছেন। আমি যে পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলাম, সেটি ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ। কিন্তু সাম্প্রতিক ফেসবুক পোস্টে ঘটনাটি এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’
একজন সম্পাদকের এমন দায়িত্বহীন লেখায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শামস এসকান্দার বলেন, ‘আমার মনে হয় তিনি প্রধান পয়েন্টগুলা বাদ দিয়ে নিজের বয়ান প্রতিষ্ঠার জন্য ঘটনাটিকে খুব টুইস্ট করে লিখেছেন। নিজে একজন সম্পাদক হয়ে অন্য একজন স্বনামধন্য পত্রিকার সম্পাদককে নিয়েও একটা মিসইনফরমেশন ছড়িয়েছেন। কোনো কিছু লিখলে তার আরও ফ্যাক্ট ভেরিফাই করে লেখা উচিত। তাদের মতো রেসপন্সিবল মানুষের কাছ থেকে যদি এ রকম মিসলিডিং কথা পাওয়া যায়, তাহলে সেটা আমাদের জন্য দুঃখের বিষয়।’
তবে ওই ঘটনার পর শেখ হাসিনা সাঈদ এসকান্দারের বাসায় গিয়েছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন শামস এসকান্দার। তিনি জানান, ঘটনার পর শেখ হাসিনা বাসায় এসে পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং বিষয়টি যেন আর বেশি দূর না গড়ায়, সেই অনুরোধ করেছিলেন।